somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শেরজা তপন
মাঝে মাঝে মনে হয় জীবনটা অন্যরকম হবার কথা ছিল!

শাহরুখ খান আসবে বলে

১৪ ই মে, ২০২১ দুপুর ১২:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সাল:২০০৪, দার্জিলিঙে এক ঈদের সকাল!
ঘুম ভাঙল সাতটায়।আড়মোড় ভেঙে দুকাপ বেড টি খেয়ে আমরা দুই বন্ধু বেরিয়ে পড়লাম। রিসেপসনে যেতেই কাউন্টারে বসা ভদ্রলোক আমাদের ঈদের শুভেচ্ছা দিয়ে অনুরোধ করল নামাজ পড়তে যাবার সময়ে যেন তাদের রেস্টুরেন্টে সেমাই খেয়ে যাই! তার এহেন আন্তরিকতায় বিগলিত হলাম। সম্মতি জানিয়ে আমরা বিদায় নিলাম।
বেরিয়ে হোটেলের উল্টো দিকে উদ্দেশ্য বিহীন ভাবে হাটতে শুরু করলাম। যথেষ্ট খাড়া পথ পা চালাতে কষ্ট হয়। একটু এগুতেইদেখা পেলাম মসজিদের। ঈদের নামাজের জন্য তখনই তোড় জোড় শুরু হয়েছে। ভাবলাম,- যাক নামাজটা এখানেই সারা যাবে। একজনকে জিজ্ঞেস করে সময়টার জেনে নিলাম;শুরু হবে ন’টায়।
আরেকটু হাটতেই পথের মোড়ে বিশাল ছিমছাম গির্জার দেখা মিলল। চারিদিকে পরিচ্ছন্ন- পরিবেশটাওবেশ পবিত্র! সে তুলনায় মসজিদের আশেপাশটা বেশ অপরিচ্ছন্ন - আগাছা ও ভাঙ্গা ইটের স্তুপ।
গির্জার পাশ ঘুরে আরো কিছুটা এগিয়ে গিয়ে রেলিংএ ঘেরা একটা জায়গায় দাড়াতেই নজরে এল বরফে মোড়া ধবল পর্বত শ্রেনী। মাথা উচু করে দাড়িয়ে আছে কাঞ্চন জংঘা তার সঙ্গী সাথী নিয়ে। যদিও আকাশে মেঘের আনাগোনা সূর্যের ঔজ্জল্য নেই তবু আমি মোহিত- কেননা এধরনের দৃশ্য সেই আমার প্রথম দেখা। ওখানে দাড়িয়ে দু-চারটা ছবি তুলে ফের হোটেল অভিমুখে ফিরে চললাম।
মসজিদের সামনে আসতে আসতে সোয়া আটটা বেজে গেল। ততক্ষনে মুসুল্লিদের ভীড় জমে গেছে।
হোটেলে ফিরে আসতেই হোটেল ম্যানেজার ব্যস্তসমেত হয়ে নিজেই দু’বাটি সেমাই নিয়ে আমাদের সামনে হাসি হাসি মুখ নিয়ে দাড়ালেন।
বাটিতে শুধু দেখি ড্যাল ড্যালে দুধ! চামচ দিয়ে নেড়ে নীচে খানিকটা সেমাই আছে দেখে আশ্বস্ত হলাম। এক চামচ মুখে দিতেই ভয়ঙ্কর মিষ্টি স্বাদে মাথা চক্কর দিয়ে উঠল! তবুও কি আর করার; তাদের আতিথিয়েতায় মুগ্ধ হয়ে চরম সুস্বাদু হয়েছে এই মুখভাব করে অতিকষ্টে পুরো সেমাইটা খেয়ে রুমে ছুটলাম!
রুমে ফিরে তাড়াহুড়ো করে গোসল সেরে নামাজ পড়তে গিয়ে দেখি বিশাল মসজিদের চত্বর পুরোটা ভর্তি! এত মুসলিম এখানে!!! অগত্যা কি আর করার মসজিদের মুল ফটক ছাড়িয়ে পিছনের দিকেই বসতে হল।
কিন্তু জুতা রাখতে গিয়ে হল বিপত্তি! শেষ কাতারের পিছনে দেয়ালের পাশেই সবাই সারি বেধে জুতা রাখছে। কিন্তু সেখান দিয়ে নামাজ পড়তে আসা মুসুল্লিরা যেভাবে গোয়াড় ষাড়ের মত ছুটোছুটি করছে,তাতে জুতোর দফা রফা হতে দেরী হয়না।
কোন উপায়ান্তর না দেখে, জুতা জোড়া সেখানে রাখতেই অন্যদেরটার মত মুহুর্তের মধ্যে ধুলো কাদায় মাখামাখি হয়ে গেল। মিনিট দশেকেই তার অন্য চেহারা!
শুনেছিলাম ন’টায় শুরু হবে এখন দেখি সাড়ে নয়টা বাজে তবুও নামাজ শুরু করার নাম নেই! তখনো কাতারে কাতারে লোকজন আসছে বসার জায়গা ফুরিয়ে গেছে অনেক আগে। দু-তিনবার সবাই দাড়িয়ে দাড়িয়ে ফাঁকা জায়গাগুলো পুরন করল।
ঘটনা কি? দার্জিলিং এ এত মুসলুমান আছে বলে শুনিনি কখনো! এর মাঝে দেখি কিছু গোর্খা পুলাপানও টুপি পরে দাঁড়িয়ে আছে। আমার পাশে বসা ভদ্রগোছের এক মুসুল্লিকে আদব ভরে সালাম দিয়ে কারণটা জিজ্ঞেস করলাম? চাচা এখানে কি এত মুসলমান? আবার দেখি গোর্খারা মুসলিম ও আছে!
চাচা হেসে কয়; মুসলমান আছে বাবা কিছু-তা প্রতিবারই মাঠ ভরে যায়। কিন্তু এইবার এসেছে তিনগুন মানুষ। এর মধ্যে কয়জন সত্যিকারে মুসলমান আর কয়জন আজকের জন্য সেইটা বোঝা মুশকিল!
‘কারন কি চাচা -কোন ঝামেলা হবে নাতো?’আমার মনে তখন শংকা!
তিনি হেসে বললেন,‘না বাবা। তুমিতো জানো শাহরুখ খান এসেছে এখানে শ্যূটিং করতে। তার নাকি আজ ঈদের নামাজ পড়তে আসার কথা! তাই এই অবস্থা!’
এইবার বুঝলাম আসল কাহিনী!
ইমাম সাহেব উর্দু ভাষায় এতক্ষনে বার তিনেক নামাজের দোয়া দরুদ আর রুকু সেজদার কায়দা কানুন সবিস্তারে বয়ান করে ফেলেছেন। তিনি আর বলার মত কথা খুজে পাচ্ছন না ( সম্ভবত শাহরুখ খান আসার অপেক্ষা তিনিও করছেন- এত সময় ক্ষেপন করতে করতে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন) ।
বহু মাতব্বর একখানে জড়ো হয়েছে। একজনে নামাজ শুরু করার জন্য হ্যা বললে অন্য দু জনে বাঁধা দেয় - সেই দুজন আবার হ্যা বললে প্রথম দুজন বাগড়া দেয়। কেউ একজন রাগ করে উল্টেদিকে হাটা দেয়,অন্যজন আবার তার পিছে দৌড়ায় মান ভাঙ্গাতে।
ওদের হাবে-ভাবে বদ্ধমুল ধারনা হল দার্জিলিং এ মুসলিম নেতার উৎপত্তি ঈদের জামাত থেকে। তাদের এই ঝুলো-ঝুলিতে প্রথমে মজা পেলেও একসময় মেজাজটাই খিঁচড়ে গেল।
অবশেষে শুরু হল দশটা নাগাদ। শেষ হল সাড়ে দশটায়। নামাজ শেষে দেখি আশে পাশের হাজার হাজার লোক ব্যালকনি ছাদ আর রাস্তায় দাড়িয়ে নামাযীদের দেখছে! আমার দুই বন্ধু হতবাক এত মানুষ দেখে।
তবে এরমধ্যে কতজন নামাজ দেখছে আর কতজন শাহরুখের জন্য ব্যাকুল নয়নে তাকিয়ে আছে সেটা বের করা আমার কর্ম নয়!
সবাইকে ঈদ মোবারক!

সময়কালঃ ২০০৪ সাল / ছবিঃ সেই সময়ে দার্জিলিং এ 'ম্যায় হু না' ফিল্মের স্যুটিং(২০০৪)-এর ক্লিপ।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০২১ দুপুর ১:৩৭
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৬৪ জন ব্লগার চাই

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ১৩ ই জুন, ২০২১ দুপুর ২:৪৪




বাংলা ভাষার সবচেয়ে বড় ব্লগ হচ্ছে আমাদের প্রিয় সামু ব্লগ। কিন্তু জিনিস ইদানিং খুব ফিল করছি। এত বড় প্লাটফর্মে
কি বাংলাদেশের ৬৪ জেলার ৬৪ জন ব্লগার ব্লগিং করেন না... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুপ !! ( একটি রম্য কবিতা)

লিখেছেন নূর মোহাম্মদ নূরু, ১৩ ই জুন, ২০২১ বিকাল ৫:১৬


চুপ !! (একটি রম্য কবিতা)
© নূর মোহাম্মদ নূরু

চুপ! চুপ!! চুপ পেলাপান, এক্কেবারে চুপ !!!
চ্যাচা মেচি করলে রাজা রাগ করিবেন খুব।
কথা বলো চুপি চুপি দাড়ি পাল্লায় মেপে
ওজন বেশী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সহজ ভাষায়ঃ কপি-পেস্ট দোষের কেন [একটি গল্প ফাও]

লিখেছেন আরইউ, ১৩ ই জুন, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:২৯




একটা গল্প বলিঃ ৯০ এর দশকের কোন এক সময় হবে, তখনকার। গ্রামের নাম নীলগন্জ। ঢাকা থেকে অল্প দূরে -- ধরা যাক ২৫ কি ৫০ কিলোমিটার হবে -- ছোট একটা গ্রাম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মহামারী ব্ল্যাক ডেথের গর্ভ হতে জন্ম নেয়া কিছু সাহিত্য ও শিল্প কর্ম নিয়ে একটি পর্যালোচনা।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৩ ই জুন, ২০২১ রাত ৯:৩১


সুত্র : Click This Link
আমরা অনেকেই জানি ব্ল্যাক ডেথ ( Black Death) নামে পরিচিত মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর একটি মহামারী অস্বাভাবিক মারণক্ষমতা নিয়ে প্যানডেমিক হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল সারা বিশ্বে। মধ্য এশিয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভিনদেশী গানের সুরের আদলে রবীন্দ্রসঙ্গীত

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ১৩ ই জুন, ২০২১ রাত ১০:১১


কৈশোর ও তারুণ্যের মাঝামাঝি বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কয়েক দিন আগের পোস্টে কিছু হিন্দি গানের লিংক দিয়েছিলাম যেগুলির সুর রবীন্দ্রসঙ্গীত থেকে ধার করা ছিল। এই পোস্টে কিছু রবীন্দ্রসঙ্গীতের সন্ধান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×