মানুষ থেকে জন্ম নেয় মানুষ। তারপর ধীরে ধীরে সে হতে থাকে একজন পুরুষ কিংবা একজন নারী। হতে থাকে না বরং আমরা গড়ে তুলি। এদের মাঝে বৈষম্য সৃষ্টি করে আমরাই এদেরকে মানুষ থেকে অন্য পরিচয়ে রুপান্তর করি।
ছোটবেলার কথা মনে পড়ে। সবাই একসাথে খেলতাম। কে মেয়ে কে ছেলে তখন এই জিনিসটা জানতামনা। শুধু জানতাম সে আমার খেলার সাথী। সে আমার বন্ধু। মাঝে মাঝে ঝগড়া লেগে যেত। কিন্তু পরক্ষনেই সব ভুলে যেতাম। কিংবা 'তুমার সাথে আড়ি' বলেই বাড়ি ফিরতাম।
কখনো কখনো খামচির দাগ, কামড়ের দাগ, হাটু ছোলা, বুক ছোলা নিয়ে বাড়ি ফিরতাম। বাড়ির বড়রা তখন ভররৎসনা দিত। কিংবা ঠাট্রা মশকরা করত; ছেলে হয়ে মেয়েদের হাতে মার খেয়ে বাড়ি ফিরেছি বলে। আমি তখন জানতে পারি মেয়েদের হাতে মার খেতে নেই, আমি কখন কখন হিংস্র হয়ে উঠতাম। আমি হয়ে উঠতাম শক্তিশালী পুরুষ। পরদিন আমি আক্রমনাত্নক পুরুষ হয়ে উঠি।
আমার খেলার সাথীটি সেদিন খামচির দাগ, কামরের দাগ, হাটু ছোলা, বুক ছোলা নিয়ে বাড়ি ফিরলে তার বড়রা তাকে দোষী করতে থাকে। ছেলেরা খুব খারাপ ওদের সাথে মিশতে নাই। ছেলেরা মেয়েদেরকে মারে। সেদিন থেকে সে জানতে পারে সে একটি মেয়ে, আর আমি ছেলে। আমাকে এড়িয়ে চলে। আমি আঁকুতি জানাই 'আমার সাথে মিশবানা?' সে বলে 'তুমি ছেলে, তুমি খুব খারাপ'. আমি আক্রমনাত্নক হয়ে উঠি। সে দৌড়ে পালায়। সে হয়ে উঠে রক্ষনাত্নক নারী।
আমরা খেলি হাডুডু, তারা ব্যাস্ত থাকে পুতুলের বিয়ে নিয়ে।
আমরা যখন ফুটবল খেলি তারা খেলে কুতকুত। আমরা পড়ি 'থাকব নাকো বদ্ধ ঘরে' তারা পড়ে ফাতেমা, মরিয়ম কিংবা রাবেয়া বসরীর গল্প।
আমরা হয়ে উঠি শক্তিমান পুরুষ তারা হয়ে উঠে দুর্বল নারী। কেউ আর মানুষ থাকিনা!
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




