খরায়, দুর্ভিক্ষে ধনভাণ্ডারে টান পড়লে রাজা ঘোষণা দিলো তাঁর সাথে সাক্ষাতের জন্য প্রজাদের সাথে করে উপযুক্ত উপঢৌকন নিয়ে আসতে হবে। একবার এক গরিব প্রজা করিম মিয়ার দরকার পড়লো রাজার সাথে দেখা করার। কিন্তু রাজার জন্য উপঢৌকন কি নিয়ে যাবে তা বুঝে উঠতে পাড়ছিল না। পাড়ার মাস্টারমশাই বলল, মণখানেক চাল নিয়ে যাওনা কেন? এক মণ চাল শুনে করিম মিয়ার বৌ ঝাঁজিয়ে উঠলো, তারপর সারা বছর কী খাবে শুনি? কথা কিন্তু সত্য। মণখানেক চাল দিলে সারা বছর করিম মিয়ার পরিবারের না খেয়ে থাকতে হবে। যতিন মাঝি বলল, রাজা বলে কথা, গরু না দাও তোমার গোয়ালের একটা ছাগল অন্তত না দিলে চলে কী করে? ছাগলের কথা শুনেও করিমের বৌ তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো, ওই একখানা ছাগল ছাড়া তোমার আর আছে কী? তারচেয়ে পুকুরের পাড়ের ডাবগাছে কচি ডাব ধরেছে। একছড়া ডাব দিয়ে দাও, ওতেই হবে।
করিম মিয়া কিন্তু নারাজ। রাজার বাড়ি যাবে ডাব নিয়ে, এ কেমন কথা। নাজিমুদ্দিনের বলল, খাঁটি দুধ নিয়ে যাও। রাজা খুশি হবে। দুধ তো রাজা খায়ই। পরামর্শটা করিম মিয়ার মনে ধরল। বাড়ি বাড়ি ঘুরে থেকে এক কলসি খাঁটি গরুর দুধ জোগাড় করে করিম মিয়া রওনা করলো রাজার বাড়ির দিকে। পথে গাঁয়ের পণ্ডিত মশাইয়ের সাথে দেখা। সব শুনে বলল, সে তো রাজামহাশয়। ওসব ছাইছাতা উপঢৌকনে কী তার চলে? তার চাই সোনাদানা। করিম মিয়া বলল, সে সামর্থ্য কী আমার আছে? আমি গরিব প্রজা। রাজামহাশয় জ্ঞানীগুণী, বুজবেন নিশ্চয়ই।
রাজামশাই যা বুজলেন তা করিম মিয়ার জন্য সুখকর হলো না। তিনি হুংকার দিয়ে উঠলেন, রাজার সাথে বাঁদরামো। দুধ নিয়ে এসেছিস! খাঁটি গরুর দুধ!! ওই খাঁটি গরুর দুধের কলশ ওর মাথায় ভাঙ।
রাজার আদেশ শিরোধার্য। দুধের কলসি করিম মিয়ার মাথায় ভাঙ্গা হল। কলসটা মাটির হাওয়ায় মাথাটা বেঁচে গেলো। করিম মিয়া কোনো মতে পালিয়ে বাঁচল।
দুঃখের কথা করিম মিয়া বউকে খুলে বলতে পারলো না। শুধু বলল, দুধে রাজা বড়ই অসন্তষ্ট। করিম মিয়ার বৌ খেঁকিয়ে উঠলো, সেই তো বলেছিলাম একছড়া ডাব নিয়ে যেতে। আমার কথা শুনলে? এক কলস দুধই নষ্ট। করিম মিয়া লাফিয়ে উঠলো, না না না ...ওই দুধই ভাল। ডাবগুলো যদি একটা একটা করে আমার মাথায় ভাংতো...
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই অক্টোবর, ২০১৪ রাত ১০:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




