somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বার্মার নতুন করে শুরু হওয়া সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাঃ স্বার্থ উদ্ধারে ধর্মের ঢাল।

০২ রা মে, ২০১৩ রাত ১২:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


দাঙ্গায় বাড়ি ঘর হারানো এক মুসলিম মহিলা।

এবছরের শুরুর দিকে বার্মার রেঙ্গুনের উপকন্ঠে এবং মেইথিলা শহরে বার্মিজ জঙ্গি বৌদ্ধদের তান্ডব লীলা এবং হত্যাযজ্ঞে বহু মুসলমান প্রাণ হারায়। সরকারী সহায়তায় গেরুয়া ধারী শত শত বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সাথে স্থানীয় মুসলিম বিদ্বেষী বৌদ্ধরাও এই মুসলিম গণহত্যা ও মুসলমানদের সম্পদ ধ্বংসের এই মহা তান্ডব লীলায় যোগ দেয়। আরাকানে যখন মুসলিম গণহত্যা চলছিল তখন রাখাইনরা সেটাকে অবৈধ বাঙ্গালী অভিবাসীদের বিরুদ্ধে দাঙ্গা হিসেবে চালিয়ে জায়েজ করতে চেয়েছিল। কিন্তু এবারের দাঙ্গা বার্মা মেইন ল্যান্ডের মূলধারার বার্মিজ মুসলমানদের সাথে হওয়ায় ওরা মুসলমানদের ''অভিবাসী'' হিসেবে ট্যাগ দিতে পারছে না। মূলধারার বার্মিজ মুসলিমরা মেইথিলা শহর এবং রেঙ্গুন সহ বার্মার গুরুত্বপূর্ণ শহর গুলোতে যথেষ্ট ধনী হিসেবে বিবেচিত। কাপড়, টিম্বার , স্বর্ণ এবং অন্যান্য দামী ব্যাবসা গুলো তাদের হাতে। আন্তর্জাতিক চাপে ২০১৫ সালে বার্মার বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের আড়ালে সামরিক সরকার সাধারণ নির্বাচন দিবে। এতে বর্তমান সামরিক সমর্থনপুষ্ট থেইন সেইন সরকারে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা চাকরি হারাবে। বিকল্প হিসেবে ব্যাবসা ছাড়া গতি নেই। লাভ জনক ব্যাবসা গুলোর ক্ষেত্র দখল করতেই তারা মুসলমানদের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের এই ষঢ়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। বার্মার একজন শীর্ষ স্থানীয় বৌদ্ধ ভিক্ষু সম্প্রতি এই খবর ফাঁস করে দেয়। ইতিহাস বলে কোন জাতি তাদের আদর্শে অবিচল থাকলে তাদের পরাজিত করা সহজ নয়। সম্প্রতি এই দাঙ্গার পর বার্মিজ মুসলমানরা আবার ঘর বাঁধছে ধ্বংস স্তূপের উপর। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এসোসিয়েট প্রেস এবং ডেমোক্রেটিক ভয়েস অব বার্মার ক্যামেরায় তোলা ওই দাঙ্গার ভগ্ন স্তূপের কিছু ছবি এখানে শেয়ার করলাম।


জ্বলছে শহর। দূরে পুড়তে থাকা মসজিদ দেখা যাচ্ছে।


পুড়ে যাওয়া মসজিদের টিন সরাচ্ছেন একজন মুসল্লি।


দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত মুসলমানদের একটি স্থাপনা। মাদ্রাসা হতে পারে।


ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদের ভেতরে ফ্লোর পরিষ্কার করছে বার্মিজ পুলিশ।


রেঙ্গুন থেকে ৪০ কিমি উত্তরে ওক্কান নামক মুসলিম অধ্যুসিত এলাকায় দাঙ্গায় ধ্বংস স্তূপের দিকে তাকিয়ে আছেন এক মুসলিম মহিলা।


পুড়ে শেষ হয়ে যাওয়া মুসলিম গ্রাম।


এক শিশু দাঙ্গায় পুড়ে যাওয়া ঘর থেকে খাদ্য শস্যের বস্তার নিভন্ত আগুন দেখছে।


মেইথিলা শহরে জ্বলছে মুসলমানদের দোকান-পাট।


এক মুসলিম মহিলা তার বাড়ির ধ্বংসাবশেষ দেখছেন।


দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদের পাশ দিয়ে হেটে যাচ্ছে ৩ জন গেরুয়া পরিহিত বৌদ্ধ ভিক্ষু।


ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির কাঠ ধরে এক বৃদ্ধ।


বাইকে করে দাঙ্গায় অংশ নিতে যাচ্ছে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা।


দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি মাদ্রাসায় একজন ছাত্র।


দাঙ্গায় মেইথিলা শহরে মুসলমানদের ক্ষতিগ্রস্ত একটি দোকান।


ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসছেন এক বৃদ্ধ মুসলিম দম্পতি।


ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির বারান্দায় একজন বার্মিজ মুসলিম।


বাইরে পুড়ে যাওয়া ঘর দেখছেন একজন মুসলিম।



বাড়ির ধ্বংস স্তূপে দাঁড়িয়ে এক বৃদ্ধ মহিলা।


ত্রাণের জন্য লাইনে ক্ষতিগ্রস্ত মুসলমানরা।


দাঙ্গার পর মুসলমানদের সান্তনা দিতে এসেছে এক বৌদ্ধ ভিক্ষু।


দাঙ্গা চালাকালীন নিরাপদ স্থানের উদ্দেশ্যে বাঁশের ভেলায় একটি মুসলিম পরিবার।


নিরাপদ স্থানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রাস্তার ধারে অপেক্ষা করছে কয়েকজন মুসলিম মহিলা। দূরে তাদের বাড়ি ঘর জ্বলছে।



সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মে, ২০১৩ রাত ১২:৩২
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাংবাদিক নারীরা কি টিপিক্যাল, চিন্তার গভীরতা কি ওদের কম??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০



সাংবাদিক নারী বা সাংবাদিকতার সাথে সম্পর্কিত পেশায় জড়িত মেয়েরা কি একটু টিপিক্যাল টাইপের হয়??
আমার তো তা-ই মনে হয়! এছাড়া, চিন্তার গভীরতা ওদের একটু কমও মনে হয়েছে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

চোখ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১৬

এতদিন উপমা হিসাবে জেনেছি কারোর চোখ থাকে পটল চেরা, কারোর থাকে বাবুই পাখির বাসার মতন।
এই প্রথম দেখলাম গ্রে'স এলিয়ানের চোখ - এত মায়ায় ভরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

লজেঞ্জুষ খাওয়াবে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


বাতাসের নিঃশ্বাস, পিঠ ঠেকে যাচেছ
শহরের ধূলি বালির নর্দমার কাছে;
কখন চিৎকার করে বলে ওঠবে-
দূষিত নিঃশ্বাস তোমরা সরে যাও
তোমরাই স্বার্থপুরের রাক্ষস রাক্ষসী;
সাবধান বাতাসের কোটি নিঃশ্বাসগুলো
লজেঞ্জুষ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে-
খুব আদর করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×