রাসুল (সাঃ) শুধু মুসলমানের জন্য নয়, পুরো মানবজাতীর জন্য রহমতস্বরূপ। তিনি মানুষের মডেল। কেয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ পৃথিবীতে এসেছে এবং আসবে, তিনি তাঁদের সবার নেতা। নবী-রাসুলদের সর্দার। তাঁর উপর নাযিল হয়েছে পবিত্র কোরান। আল্লাহতায়ালা কোরানে এই রাসুলের (সাঃ) আনুগত্য করতে বলেছেন। আর রাসুল (সাঃ) বলেছেন- তোমরা ততক্ষন পর্যন্ত পুর্ন মুমিন হতে পারবেনা যতক্ষন না তোমরা নিজেদের চেয়ে আমাকে বেশি ভালবাসবে।
আমরা আল্লাহতায়ালার জন্য যত ইবাদত করি তার সব ইবাদত রাসুলের (সাঃ) শেখানো। তিনি না শেখালে আমরা জানতাম না, কি করে আল্লাহর ইবাদত করতে হয়। তিনি যেইভাবে বলেছেন, আপনি-আমি সেইভাবে করতে বাধ্য। বেশিও করতে পারব না, কমও না।
ধরুন, আপনি আল্লাহতায়ালাকে খুশি করতে ফজরের দুই রাকাতের যায়গায় তিন রাকাত সালাত আদায় করলেন, এবার বলুন আপনার সালাত কি কবুল হবে? ধরুন, আপনি বাথরুমে যাওয়ার দোয়া না পড়ে সুরা বাকারা পড়ে বাথরুমে ঢুকলেন। বলুন, আপনার সওয়াব হবে, না পাপ? আল্লাহ্ কোরান পড়লে অক্ষর প্রতি দশ নেকি দিবেন বলেছেন। তাই বলে কি সবখানে কোরান পড়া জায়েজ? এ থেকে কি বুঝা যায়? আপনি রাসুলের (সাঃ) আনুগত্য করতে বাধ্য। তাঁর আনুগত্য ছাড়া আপনার কোন ইবাদত কবুল হবে না। আপনি এখানে যুক্তি দিতে পারবেন না। ধর্ম যুক্তি দিয়ে চলেনা। ধর্ম চলে আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসুলের (সাঃ) আনুগত্যের উপর। কথা হচ্ছিল রাসুলের (সাঃ) আনুগত্য নিয়ে, এখানে আল্লাহর নাম কেন আসলো? এই কারনে যে, রাসুল (সাঃ) আসলে আল্লাহর নির্দেশই পালন করেছেন এবং আল্লাহপাকের হুকুম ছাড়া তিনি কিছুই করেননি। ইসলাম রাসুলের (সাঃ) বানানো ধর্ম নয়, ইসলাম আল্লাহ্ প্রেরিত ধর্ম।
দুনিয়া মুমিনের জন্য কারাগার। এক গ্লাস পানি খেতে আপনাকে পাঁচটি সুন্নত মানতে হবে। ১। ডান হাতে গ্লাস ধরা ২। বিসমিল্লাহ্ বলা ৩। বসে পানি পান করা ৪। দুই বা ততোধিক শ্বাসে পানি পান করা ৫। পানি পান শেষে আলহামদুলিল্লাহ্ বলা।
হিসাব খুব স্পষ্ট। আপনি দুনিয়াতে বন্দি জীবনযাপন করবেন, আখেরাতে আপনি মুক্ত। অন্যদিকে, আপনি দুনিয়াতে মুক্ত থাকবেন মানে যা খুশি তাই করবেন, আখেরাতে আপনি জাহান্নামে বন্দি।
আমি অনেককেই দেখেছি, রাসুলের (সাঃ) প্রতি অতিরিক্ত ভালবাসা দেখাতে গিয়ে তাঁর নামে অপবাদ দিয়ে বসেন। কেউ বলেন, তিনি গায়েব জানতেন, কেউ বলেন তিনি সব প্রানীর কথা বুঝতে পারতেন, কেউ বলেন তিনি নুরের তৈরি, কেউ বলেন তাঁকে সৃষ্টি না করলে আল্লাহ্ দুনিয়া সৃষ্টি করতেন না। অথচ তারাই রাসুলের (সাঃ) এর সুন্নত পালন করতে অপারগ! রাসুল (সাঃ) বলেছেন, কেউ যদি আমার নামে কোন কথা বলেন যা আমার নয়, তবে তার থাকার জায়গা জাহান্নাম। তাই এইসব আলগা ভালবাসা দেখানোর আগে জাহান্নামে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রাখবেন, নয়তো এইসব অপবাদ দেয়া থেকে বিরত থাকবেন। মনে রাখবেন, তিনি আমাদের মতই মানুষ, তবে তাঁর মর্যাদা ভিন্ন। তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব।
রাসুল (সাঃ) বলেছেন-“ আমার একটি কথা জানা থাকলে তা অন্যকে বলে দাও। বনীঈস্রাইলের কাহিনী বল তাতে দোষ নেই। কেউ যদি আমার নামে কোন কথা বলে, সেই কথা যদি আমার না হয় তবে তার থাকার জায়গা জাহান্নাম।“ এই শেষের লাইনটায় আপনি আটকে গেছেন! জাহান্নামে যাওয়ার জন্য আপনি এত ব্যস্ত কেন? নইলে, নানা জায়গা থেকে শুনা হাদিস যাচাই বাছাই না করে বলে বেড়ান কেন? অমুক হুজুর বলেছে, তমুক হুজুর বলেছে......। এইসব কথা বলে বিচারের মাঠে পার পাবেন না। সুতরাং, সাবধান!
আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করুন, আমীন।
YOU CAN VISIT MY BLOG:
https://www.shishir54.xyz
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই নভেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




