somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি সিগারেটের আত্মকাহিনী

২১ শে জুন, ২০১৭ বিকাল ৫:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লেখাটা পুরোনো। আমার আগের ব্লগের। আগের আইডিটা ডিএক্টিভ করে দিয়েছি।

আমার পরিচয় যে কি তা আমি নিজেই জানি না। তবে এর মাঝেও যে আমার একটা পরিচয় লুকিয়ে আছে।তা হচ্ছে আমি কোন কোম্পানির।আমি ব্ল্যাক সিগারেট। আমার জন্ম কোথায় আমি জানি না। কোথায় এতদিন ছিলাম তাও জানি না। শুধু জানি আমি একটা প্যাকেটের ভিতর ছিলাম। আমার সাথে আরো ১৯ জন ছিল।কেও আমার সাথে কোন কথা বলত না। বড়ই একাকী জীবন আমার।হঠাৎ একদিন আমার প্যাকেটটা খোলা হয়।আমি দেখলাম আমার পাশ থেকে ওদেরকে আস্তে আস্তে নিয়ে যাচ্ছে।ভাবলাম ওরা বোধহয় মুক্তি পেয়ে যাচ্ছে।কিন্তু আমাকে তো কেও নিচ্ছে না।
আমিও যে মুক্তি পেতে চাই। একটা কিম্ভুতকিমাকার দেহি, আমার থেকে অনেক বড় মাঝে মাঝে আমার সাথিদের নিয়ে যায়।আমি কত ডাকি আমাকেও নিয়ে যাবার জন্য কিন্তু আমার কথা মনে হয় ওই ভূতটা শোনে না। ভূত বলছি কেন!! যাই হোক ভূতের মতই, আমার থেকে কত বড়। হঠাৎ একদিন আমাকে তুলল।আমি তো মহাখুশি।না জানি কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। দেখলাম ওই ভুতটা আরেকটার কাছে আমাকে দিল। কি চেহারা রে বাপ।ওমা আমার সামনে পিছনে কি দেখছে। ওকে বললাম তোর থেকে আমি অনেক সুন্দর। তোর চেহারার মাঝে ওইগুলা কি। আমাকে দেখ। সোজা,সুন্দর।কোন দাগ নেই তোর মত।
ওমা শুনেছে নাকি!!! নাহলে আমার শরীরে ওটা কি লাগালো?আমার তো ব্যাথা করছে।আমি দেখলাম আমি আস্তে আস্তে ছোট হয়ে যাচ্ছি। হঠাৎ ওর দিকে তাকিয়ে বুঝলাম ও কি যেন ভাবছে।আর আমাকে কি যেন বলছে।কিন্তু আমি তো কিছুই বুঝতে পারলাম না। আমি প্রায় ছোট হয়ে এসেছি। আমি বললাম আমার এই মুক্তি চাই না। আমি আগেই ভাল ছিলাম।প্যাকেটেই ভাল।যে জিনিসটা আমাকে ছোট করে দিচ্ছিল,তা একসময় বন্ধ করল ওই ভূতের মত না জানি কি বলে ওইটা। আমাকে ওর কাছে নিল। বলা শুরু করল অনেক কিছু। আমি তো এবার সব বুঝতে পারছি।আমাকে বলছে
"তোকে আমি কেন কিনলাম।কেনই বা খেলাম।তুই জানিস আমার মনে কত কষ্ট?তোর মত একটাকে আমি মাঝে মাঝে খাই আর খাওয়া শেষে ভাবি কেন খেলাম"
এবার বুঝলাম ওটা ভূত না রাক্ষস।
আবার বলতে লাগল
"আসলে সে যদি আমার সাথে দেখা করত,আমার সাথে রাগ না করত,আমাকে না গালি দিত,আর আমি যে কিছু করতে পারলাম না জীবনে।বউ,বাচ্চা কেও জানে না আমি সিগারেট খাই।"
এতক্ষনে আমি বুঝলাম আমাকে সিগারেট বলে ডাকা হয়। তবে এর মাঝেও যে আমার একটা পরিচয় লুকিয়ে আছে।তা হচ্ছে আমি কোন কোম্পানির।আমি ব্ল্যাক সিগারেট।ওইটাও আমাকে বলল।
আমি ধন্যবাদ দিলাম আমাকে আমার পরিচয় জানানোর জন্য।কিন্তু আমাকে পাত্তাই দিল না। নিজের মনে বলে যেতে লাগল "এই যে দেখছিস রেললাইন এখানে যে আমি কতগুলো সিগারেট টেনেছি"আমি তাকালাম চারপাশে দেখি রাক্ষসের অভাব নেই।সবাই আমার মত সিগারেটকে খাচ্ছে।
আমাকে বলছে"জানিস,সেদিন যদি সে একবার দেখা করত!আমি সারারাত তার অপেক্ষায় ছিলাম। পরের দিনও ছিলাম।কিন্তু সে আসে নি। এখন আমি নষ্ট হয়ে গেছি, আমি আর আগের আমি নেই। এই দেখনা আমি পাগল হয়ে গেছি।তোর সাথে কথা বলছি।কিন্তু তুই যখন শেষ হয়ে যাবি আমি হয়ত আবার হাহুতাশ করব। বলব,কেন খেলাম?"
অনেক দুঃখী রাক্ষসটা বুঝলাম।আমার খুব মায়া হচ্ছে ওর জন্য।কিন্তু কি করার।
হঠাৎ আমাকে বলল ওই যে ট্রেন আসছে।আমি জিজ্ঞেস করলাম,"কি আসছে?" কিন্তু কোন উত্তর পেলাম না।
আবার বললাম আমার তোর প্রতি খুব মায়া হচ্ছে।
আমাকে চমকে দিয়ে উত্তর দিল
"তোর খুব মায়া হচ্ছে আমার জন্য? কি করব! আমাকে যে মরতে হবে,আমার জীবনে যে কোন শান্তি নেই"
বলে সে আবার আমাকে ছোট করা শুরু,সেই প্রথমভাবে ব্যাথা দিয়ে।
আমি দেখলাম আমি শেষ হয়ে যাচ্ছি।
হঠাৎ....
আর কিছু বলতে পারি না। ওই যে ট্রেন না কি যেন আসছিল ওইটা আমার উপর দিয়ে চলে গেল।
আমি বুঝতে পারছিলাম আমি কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলছি। আমি কোথায় যেন চলে যাচ্ছি।
পরক্ষনেই আমি ওই রাক্ষস লোকটাকে দেখতে পেলাম আমায় ডাকছে, অনেক দূর থেকে।কিন্তু আমি কিভাবে যাব। আমার যে আর কিছুই নেই।

*গল্পটা পুরোই আমার নিজের কল্পনা, কারো সাথে মিললে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখীত।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুন, ২০১৭ বিকাল ৫:১১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×