somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দুইটা ছোট ঘট্না অথবা 'ডেজা ভ্যু'

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা ঘটনা বলি…
২০০৮/৯ এর এক সন্ধ্যা…
বাসার পাশে মাঠে আড্ডা দিতে গিয়েছি বন্ধুদের সাথে…
সবে বসতে যাবো এমন সময় দেখি একটা পেটমোটা চকচকে মানিব্যাগ পড়ে আছে অযতনে…
বুঝতে পারলাম এখানে কেউ আমাদের আগে আড্ডা দিতে এসে অসাবধানতাবশত মানিব্যাগটা ফেলে গেছে…

অন্যের জিনিস খুলে দেখা ঠিক হবে কিনা এটা নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ কনফিউশনে ছিলাম…
পড়ে ভেবে দেখলাম যার জিনিস তাকে নটিফাই করতে হলে খুলে দেখা ছাড়া উপায় নেই…
খুললাম … টাকার পরিমাণ বিস্মিত করার মতো…
অনেক খুঁজে এক সাইডে মলিন একটা Student ID Card পাওয়া গেলো…
সেখানে তার ফোন নাম্বারও পেলাম, কল দিলাম…

আমি যখন ভাইয়াটাকে কল দিয়ে জানালাম তার মানিব্যাগটা আমি পেয়েছি…
ঘটনার আকস্মিকতায় আর অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তির আনন্দে ভাইয়াটা কথাই বলতে পারছিল না…
তারপর তিনি সেই মাঠে আসলেন, আমি যার জিনিস তার হাতে ফিরিয়ে দিলাম…
আলহামদুলিল্লাহ্ :)

কথাবার্তা হলো… জানালেন তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাইনাল ইয়ারে পড়ছেন…
পড়ালেখার পাশাপাশি একটা ছোটখাট জব করেন…
ভাইয়াটা শুধু বারবার একটা কথাই বলছিলেন…
“কত বড় বিপদ থেকে যে বাঁচালেন আমাকে ভাই…
এর মধ্যে এমন কিছু জরুরী কাগজ ছিলো যেগুলো হারিয়ে গেলে আমার চাকরি চলে যেতে পারতো”
মনে খুব শান্তি নিয়ে ঘুমুতে গিয়েছিলাম সে রাতে :)

_ _ _

নভেম্বর, ২০১৪ এর এক গতানুগতিক দিন…
সারাদিন ক্লাস আর স্টাডি শেষে বাসায় ফিরছি…
বাসার কাছে এসে রিকশাভাড়া দিতে গিয়ে টের পেলাম পকেটে মানিব্যাগটা নেই…
পকেটমার হয়নি এটা সিউর কারন আজ ভার্সিটি বাসে এসেছি, লোকাল বাসে আসলে সেটা হতে পারতো …
বুঝলাম রাস্তায় কোথাও মানিব্যাগটা পড়ে গেছে :(

বুকপকেটে রাখা ব্যাক-আপ থেকে রিকশাভাড়া মিটিয়ে বিষণ্ণ মনে বাসায় ঢুকলাম…

বেশ বড় অংকের একটা টাকা সেই সাথে… NID, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের কার্ড…
আর আমার বাচ্চাকালের কিউট ছবিওয়ালা মাইলস্টোন কলেজের আইডি কার্ড… সব গেলো :(

বাসায় এসে বলতেই আব্বা ঝারি দিলেন…
আইডি কার্ড কেন মানিব্যাগে থাকবে…??
এত ক্যাশ টাকা মানিব্যাগে নিয়ে ঘুরিস ক্যান??
আহহ… শান্তি নাই :/ …

গোসল সেরে ফ্রেশ হয়ে মুভি দেখতে বসলাম…
বিরক্ত লাগছিলো আসলে :/ …
আইডি কার্ডগুলো তোলা খুব ঝামেলার ব্যাপার…
থানায় জিডি-ফিডি করা লাগে…
কী এক যন্ত্রণা :/ …

রাত ১০টার দিকে একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে হঠাৎ ফোন পেলাম…
-“আপনি কি শিশির রহমান ভাই বলছেন?”
-“জী, বলছি। বলুন”
-“ভাইয়া আপনি সম্ভবত আপনার মানিব্যাগটা হারিয়েছেন…
আমি এটা পেয়েছি আর আপনার আইডি কার্ডে লেখা নাম্বার দেখে এখন আমি আপনাকে কল দিলাম…
এখন আপনি আপনার জিনিস কখন নিতে পারবেন?”

আমার মনে হচ্ছিলো আমি ২০০৮/৯ এর ঘটনাটা চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি…
অপ্রত্যাশিত আনন্দে আর ঝামেলা থেকে মুক্তির আনন্দে আমার কথা আটকে যাচ্ছিলো…

তখনই রিকশা করে যেয়ে মানিব্যাগ যিনি পেয়েছেন তার সাথে দেখা করলাম তার বলা ঠিকানা অনুযায়ী…
মানিব্যাগ পেলাম… আলহামদুলিল্লাহ্ :)
হারুন নামের সেই ভাইটার সাথে প্রায় মিনিট বিশেক কথা বলার পর বাসায় ফিরে আসলাম…
ভাইয়াটা একটা কথাই বারবার বলছিলেন…
“আজ রাতে আমার খুব শান্তির একটা ঘুম হবে”

এখানে মজা হলো জবির আইডি কার্ডে যেই ফোন নাম্বারটা লেখা ছিলো সেটা প্রায় মাস দেড়েক ধরে কোন একটা কারণে বন্ধ করে রেখেছিলাম…
মানিব্যাগ হারানোর পর বাসায় এসেই আমি ঐ সিমটা অন করেছিলাম…

কারণ আমি জানি প্রতিটা মানুষ তার খারাপ কর্মের ফল যেমন দুনিয়াতেই পেয়ে যায়,
তেমনি ভালো কাজের পুরষ্কারও পায়…
আমি বিশ্বাস করি আমাদের মাথার উপরে সর্বজ্ঞ আল্লাহ্ আছেন…
আমার বিশ্বাস ছিলো কেউ যদি মানিব্যাগটা পায় তাহলে এই নাম্বারে কল করে ফেরত দিবে…
আমি বিশ্বাস করি দুনিয়াতে এখনো খারাপের চাইতে ভালো মানুষের সংখ্যা বেশী…
আসলেই বেশী …
Trust me :)
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৩১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×