সময় করে একদিন হাসপাতাল থেকে একটু ঘুরে আসুন...
‘জীবন’ শব্দটার অর্থ কী সেটা নতুনভাবে বুঝতে পারবেন...
এপোলো/স্কয়ার টাইপ হাসপাতাল না, সরকারি হাসপাতাল...পঙ্গুতে যান...বক্ষব্যাধি ইন্সটিটিউটে যান...
কত রকমের রোগী...
কারো চোখ দুইটা এই দুনিয়ায় নাই...
কারো একটা পা কেটে ফেলা হয়েছে; আরেকটা পা’য়েও ধরেছে পচন, কাটার অপেক্ষা...বাকিটা জীবন অন্য মানুষের উপর নির্ভর করে চলার কষ্ট আর অঙ্গহানির কষ্ট যেখানে মিলেমিশে গেছে ...
বাড়ির প্রধান কর্তাটা দুর্ঘটনায় হারিয়েছে চলার শক্তি, বিছানার চারপাশে পরিবারের মানুষগুলো..চোখেমুখে তাদের হতাশা...হয়তো বিক্রি করে এসেছে গ্রামের চাষের জমিটাও...
কেও দেখবেন ফুসফুসের প্রদাহে বুকভরে শ্বাস নিতেই পারে না, ব্যথায় মুখচোখ ফুলে উঠে... প্রতিটা সেকেন্ডই তার জন্য যন্ত্রণা..
নার্ভ যদি শক্ত হয় বার্ন ইউনিটেও একটু যাবেন, শরীরের চামড়া আগুনে গলে মাংস আর হাড়ের সাথে মিশে যাওয়া কোন রোগীর বেডের পাশে একটু দাঁড়াবেন... দেখবেন তার লাইফস্টাইল...
দেখবেন এক গ্লাস পানি খাওয়াও তার জন্যে কতখানি কষ্টের কাজ...
ঢামেক/পঙ্গুর জরুরী বিভাগে যদি যান কখনো... বুঝতে পারবেন আপনি নিজে কত সৌভাগ্যবান...
...
আপনি ঘুম থেকে উঠেই দু’চোখ দিয়ে জানালা ভরা রোদ দেখতে পান...
বারান্দায় দাঁড়িয়ে বুকভরে নিতে পারেন সকালের তাজা হাওয়া...
আপনি হাঁসতে পারেন, কথা বলতে পারেন, চাইলে পারেন দৌড়াতেও...
...
এত সুন্দর স্বাভাবিক থাকার পরেও “ভাল্লাগেনা” রোগে আক্রান্ত হওয়া ‘অলসের বিলাস’ মাত্র...
সুস্থতা অনেক বড় নেয়ামত... শুকরিয়া আদায় করতে শিখুন...
জীবন খুব ছোট, বিলাসিতা করে সেটাকে নষ্ট করবেন না প্লিজ ...
শিশির রহমান
ডিসেম্বর ২৬, ২০১৮
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১১:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




