somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সমাজ গড়তে ইমামরা যা করতে পারেন

২৬ শে মে, ২০১৩ রাত ১:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সমাজ গড়তে ইমামরা যা করতে পারেন



মুহাম্মদ শোয়াইব
ইমামতি একটি মহান দায়িত্ব। এটি সুন্দর ও সম্মানজনক পেশা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও ইমামতি করেছেন। তারপর তার সাহাবিরা ও খোলাফায়ে রাশেদীন ওই একই মহান দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়েছেন। ইমামতির রয়েছে অনেক ফজিলত। রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কেয়ামতের দিন দুই শ্রেণীর মানুষ মেশকের তৈরি টিলার ওপর অবস্থান করবে। (ক) ওই গোলাম যে আল্লাহ ও তার মনিবের হক আদায় করেছে। (খ) এমন ইমাম যে কোনো সম্প্রদায়ের ইমামতি করছে, আর তারা তার প্রতি সন্তুষ্ট। আল হাদিস। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ানোর পর ইমামদের হাতে অফুরন্ত সময় থাকে। শহরের অধিকাংশ ইমাম এ সময় ভিন্ন পেশায় কর্মরত থাকলেও গ্রামের অধিকাংশ ইমাম এই মূল্যবান সময়গুলো চিরায়ত আলস্যের মধ্যে কাটান। অথচ তারা ইচ্ছা করলে এই সময়ে অনেক কিছু করতে পারেন। তাদের জন্য এমন অনেক কাজ করা সহজ, যা অন্যদের জন্য খুব কঠিন। ইমামরা সমাজের সম্মানিত ব্যক্তি। তাদের কথার প্রতি সাধারণ মানুষ খুব শ্রদ্ধাশীল। তাই তাদের যে কোনো সংস্কারমূলক কাজ করা যতটা সহজ, অন্যদের জন্য ততটা সহজ নয়। তারা সাধারণ মানুষের মন-মেজাজে প্রবেশ করতে পারেন। তাদের মনের কথাগুলো সাধারণ মানুষের কাছে সহজেই পৌঁছাতে পারে। ইমামদের জন্য প্রতি জুমাবার জনগণের একেবারেই কাছে চলে যাওয়ার, তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার এক সুবর্ণ সুযোগ। ইসলামের কথা, সমাজের অসঙ্গতির কথা জনগণের কাছে পৌঁছানোর েেত্র জুমাবার একটি মিডিয়ার ভূমিকা পালন করে। ইমামরা এসব সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সমাজ সংস্কারমূলক বিভিন্ন কাজ করতে পারেন। সমাজের অসঙ্গতির কথা, বৈধ-অবৈধের কথা কোরআন-হাদিসের আলোকে জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারেন।
আমাদের দেশের ইমামরা নামাজ, রোজা, হজ, যাকাতসহ পরকালীন মুক্তির ওয়াজ-নসিহতের মাঝে সীমাবব্ধ থাকতে চান। পার্থিব কর্মকাণ্ডের বিধি-বিধান সম্পর্কে সাধারণত তারা মুখ খুলতে চান না। অথচ ইসলামের বিধান শুধু নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাতের মাঝে সীমাবদ্ধ নয়।
ইসলাম মানুষের সর্বেেত্র পরিব্যাপ্ত, ব্যক্তি জীবন থেকে নিয়ে পারিবারিক জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবন- সর্বেেত্র ইসলামের নির্দেশনা রয়েছে। একজন ইমামকে যেমনিভাবে নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাত সম্পর্কে আলোচনা করতে হবে, তেমনিভাবে সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি, চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ইত্যাদি সামাজিক অপরাধ সম্পর্কেও জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে। তবে এ দায়িত্ব আঞ্জাম দিতে গিয়ে ইমামরা বাধাগ্রস্ত হতে পারেন। সেেেত্র সব বাধা উপো করে সৎসাহসিকতার পরিচয় দিতে হবে। বাধা আসার ভয়ে শরিয়তের কিছু অংশ প্রকাশ করা, কিছু অংশ গোপন করার অবকাশ নেই। মনে রাখতে হবে, নবীরাও দ্বীনের বাণী প্রচার করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। তাই বলে তারা রিসালাতের কাজ ছেড়ে দেননি। নবীদের সেই দায়িত্ব এখন ওলামায়ে কেরামের ওপর ন্যস্ত। তাই বাধা-বিপত্তি উপো করে এ দায়িত্ব আঞ্জাম দিতে হবে।
ইমামতির পাশাপাশি ইমামরা সমাজিক উন্নয়ন ও নিররতা দূরকরণেও ভূমিকা রাখতে পারেন। তারা মসজিদভিত্তিক শিাকার্যক্রম চালু করতে পারেন। ইসলামের সোনালী যুগে মসজিদভিত্তিক শিাব্যবস্থা চালু ছিল। সাহাবায়ে কেরাম শিা অর্জনের জন্য মসজিদে নববীতে জড়ো হতেন। সেখানকার শিক ছিলেন স্বয়ং রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং শিা সিলেবাস ছিল আল্লাহ প্রদত্ত ওহী। ওহীর জ্ঞান অর্জন করে তারা সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন।
ইসলামের সোনালী যুগে সমাজ পরিচালিত হতো মসজিদকে কেন্দ্র করে। বিচারকার্য পরিচালনা করা হতো মসজিদে। সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার জ্ঞান বিতরণ করা হতো মসজিদ থেকে। সেই ইতিহাস আমরা ভুলে গেছি। মসজিদকে আমরা ধর্মীয় তীর্থ ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে পারি না। ইসলামকে আমরা শুধু ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছি। এর জন্য মসজিদের ইমামরাই বেশি দায়ী। ইমামরা শুধু ইবাতদের ওয়াজ-নসিহত করেন। মসজিদ থেকে এখন আর লেনদেন, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি, সুদ-ঘুষের আলোচনা খুব একটা শোনা যায় না।
সাধারণ মানুষ এসব বিষয়ের আলোচনা না শুনতে না শুনতে এসব বিষয়কে ইসলাম বহির্ভূত বিষয় মনে করতে শুরু করেছে। তারা নামাজ-রোজা সঠিকভাবে আদায় করলেও লেনদেন, বিবাহ-শাদী ও জীবনযাপনের অন্যান্য বিষয়ে শরয়ী বিধি-বিধান জানারও প্রয়োজন বোধ করে না। বাংলাদেশের প্রায় সব গ্রামে একাধিক মসজিদ আছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে একটি বিদ্যালয় নেই সেখানেও একাধিক মসজিদ আছে। মসজিদের ইমামরা যদি এসব বিষয় মানুষকে জানান তাহলে জনগণের অনেক ভুল ভেঙে যাবে। ইমামরা সাহস ও প্রত্যয় নিয়ে একটু অগ্রসর হলেই কেল্লা ফতেহ। আল্লাহ তায়ালা আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন। আমীন।
লেখক : শিক, প্রাবন্ধিক

০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×