
তুবা বুয়ুকুসতুন। একজন প্রখ্যাত তুর্কি মডেল এবং অভিনেত্রী। বিজ্ঞাপনে চাকরির মাধ্যমে তার মিডিয়া জগতে প্রবেশ ঘটে। টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করার পর তিনি কয়েকটি খণ্ড নাটকেও অভিনয় করে খুব অল্প সময়ে দর্শকনন্দিত হয়ে উঠেন।
তুবা বুয়ুকুসতুনের জন্ম ১৯৮২ সালে। ৫ জুলাই। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে। মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে তুবা। তার বাবা একজন ইনজিনিয়ার। মা পেশায় ব্যাংকার। তার দুই বোন ও এক ভাই। তিনি দুয়ুশ হাই স্কুল থেকে থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি ইসতামবুল মিমার সিনান চারুকলা ইউনিভারসিটি থেকে জামাকাপড় নকশা, ফ্যাশন ডিজাইন ও থিয়েটার ডিপার্টমেন্টে পড়াশোনা শেষ করেন। ইউনিভারসিটিতে পড়ার সময়েই একটি বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানে চাকরির মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে অভিনয় জগতে প্রবেশ করেন বিশিষ্ট অভিনেতা তুমরিস গিরিটলি ওগলুর হাত ধরে। সেখানেও তিনি বিপুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।
তুবা স্কুলে শান্ত-সুবোধ লাজুক মেয়ে হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তুবা খুব লাজুক প্রকৃতির ছিলেন। কর্মজীবী বাবা-মায়ের কাছে কোনোদিন স্কুল থেকে মেয়ের নামে নালিশ আসেনি। মডেলিং জগতের বিশ্ববিখ্যাত ২০ তারকার তালিকায় জায়গা করে নিবেন-এমনটি কখনোই ভাবেননি তুবা। মডেল হওয়ার স্বপ্নও কখনো দেখেননি তিনি।
ইউনিভারসিটিতে যাতায়াতের পথে একদিন দেখা হয় বিখ্যাত এক ফটোগ্রাফারের সঙ্গে। ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার আকর্ষণীয় ফিগারের অধিকারিণী কিশোরীটির ছবি তুলে নিতে ভুল করেননি ফটোগ্রাফার। এই ফটোগ্রাফারের চোখে পড়ায় মডেলিং জগতে আসতে বেশি সময় লাগেনি তুবার।
নাটকে তার প্রথম আত্মপ্রকাশ ছিল আইডিন বুলুত পরিচালিত “মাকামুস সুলতান” নামক সিরিজ নাটকের শেষ চার পর্বে অভিনয়ের মাধ্যমে। তুর্কি চ্যানেল কোনাল ডি তা ২০০৩ সালে প্রথম সম্প্রচার করে। এর মধ্য দিয়েই নাটকে নিয়মিত হন তিনি।
২০০৪ সালে তাশায়ান ইরমাক পরিচালিত ‘গোলাপ মুকুট’ নামে একটি সিরিজ নাটকে সুন্দরীর ভূমিকায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। একই চ্যানেল তা সম্প্রচার করে। নাটকটি পরে আরবিতে ডাবিং করা হয়। একই বছরে একই নামের একটি টেলিভিশন সিনেমায় তিনি ‘গোলাপ বিক্রেতা’র চরিত্রে অভিনয় করেন।
আরবিতে ডাবিংকৃত সংস্করণে ‘হলুদ গোলাপ’ সম্প্রচার হয়। ‘হলুদ গোলাপ’ এ গোলাপ বিক্রেতার চরিত্রে অভিনয় করার কারণে সার্বিয়া ও মনটিনিগ্রো প্রজাতন্ত্রের ইন্টারন্যাশনাল টিভি-উৎসবের পক্ষ থেকে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পান তুবা। এর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘প্রথম প্রথম তো দারুণ ভয় পেয়েছিলাম। মাকামুস সুলতান নাটকটি প্রচার হওয়ার পর অনেকে প্রশংসা করেছেন। এটি সত্যিই আমার জন্য অনেক আনন্দের।’
নাটকে তার ভিত শক্ত হয় ২০০৫ সালে আইডিন বুলুত পরিচালিত “হারানো বছর” নামক সিরিজ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। তিনি ছাড়াও এ নাটকে আরো অভিনয় করেছেন বুলেন্ট ইনাল ও সিনান তুজকু। একই বছরে তিনি অভিনয় করেন তাশায়ান ইরমাক পরিচালিত ‘বাবা ও পুত্র’ সিনেমায়। ২০০৬ সালে ‘পরীক্ষা’ সিনেমায় ‘শিক্ষিকা’র চরিত্রে অভিনয় করার মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় বেলজিয়ান অভিনেতা জাঁ ক্লদ ভ্যান ড্যামের সঙ্গে অভিনয় করার সৌভাগ্য অর্জন করেন।
গত ১০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ইসতামবুলের সময় অনুযায়ী সন্ধ্যা ৮টায় তুর্কি চ্যানেল স্টারে শুরু হয়েছে “সাহসী ও সুন্দরী” সিরিজের প্রথম পর্ব। এতে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী তুবা বুয়ুকুসতুন ও অভিনেতা কিভেন্স তাতলিতুগ। প্রথম বারের মতো এই দুই অভিনেতা কোনো নাটকে অভিনয় করলেন। যা লাখ লাখ তুর্কির দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা ছিল।
ধনীর দুলালি সোহানের আকর্ষণীয় প্রেমের গল্প অবলম্বনে নির্মিত নাটকে অভিনেতা কিভেন্স তাতলিতুগকে দেখা গেছে একটি সেতুর ওপর তুবার ঘোড়া আহত হয়ে দুর্ঘটনার মুখে পড়লে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাকে উদ্ধার করতে। এই দুই অভিনেতা সাত বছর আগে একটি বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনে একবার জুটি হয়েছিলেন। সে জন্য তারা মোটা অংকের টাকাও নিয়েছিলেন। অনেকের মতে, তাদের অপ্রতিরোধ্য জনপ্রিয়তার পেছনে মূল কারণ হচ্ছে, দুটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করা। একটি হলো ‘আলো’, অারেকটি ‘হারানো বছর’।
অভিনয় জগতের অনেকের সঙ্গে তুবা ভালবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। তাদের অন্যতম হলেন বুলেন্ট ইলান। তার সঙ্গে ‘হারানো বছর’ নাটকে অভিনয়ও করেছেন। আরেকজন হলেন সাইজান সুইসাল। সাইজান তার সঙ্গে বর্তমানে ‘কালো ভালো’ নাটকে অভিনয় করছেন। সর্বশেষ তার সম্পর্ক হয়, অভিনেতা আনওয়ার সাইলাকের সঙ্গে। ২০১১ সালের ২৮ জুলাই তুর্কি কনস্যুলারে তাদের বাগদানও সম্পন্ন হয়। ২০১২ সালের ১২ জানুয়ারি তাদের যমজ দুই সন্তান হয়। একজনের নাম তুবরাক ও অন্যজন মায়া।
[link||http://www.totalbangla24.com/তà§à¦¬à¦¾-বà§à§à§à¦à§à¦¸à¦¤à§à¦¨à¦à¦-তà§à¦°à§à¦à¦¿-ঠà¦à¦¿à¦¨à§à¦¤à§à¦°à§à¦°-à¦à¦²à§à¦ª/653]
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই নভেম্বর, ২০১৬ ভোর ৬:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




