somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তুবা বুয়ুকুসতুন : এক তুর্কি অভিনেত্রীর গল্প

১৬ ই নভেম্বর, ২০১৬ ভোর ৬:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



তুবা বুয়ুকুসতুন। একজন প্রখ্যাত তুর্কি মডেল এবং অভিনেত্রী। বিজ্ঞাপনে চাকরির মাধ্যমে তার মিডিয়া জগতে প্রবেশ ঘটে। টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করার পর তিনি কয়েকটি খণ্ড নাটকেও অভিনয় করে খুব অল্প সময়ে দর্শকনন্দিত হয়ে উঠেন।




তুবা বুয়ুকুসতুনের জন্ম ১৯৮২ সালে। ৫ জুলাই। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে। মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে তুবা। তার বাবা একজন ইনজিনিয়ার। মা পেশায় ব্যাংকার। তার দুই বোন ও এক ভাই। তিনি দুয়ুশ হাই স্কুল থেকে থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি ইসতামবুল মিমার সিনান চারুকলা ইউনিভারসিটি থেকে জামাকাপড় নকশা, ফ্যাশন ডিজাইন ও থিয়েটার ডিপার্টমেন্টে পড়াশোনা শেষ করেন। ইউনিভারসিটিতে পড়ার সময়েই একটি বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানে চাকরির মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে অভিনয় জগতে প্রবেশ করেন বিশিষ্ট অভিনেতা তুমরিস গিরিটলি ওগলুর হাত ধরে। সেখানেও তিনি বিপুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

তুবা স্কুলে শান্ত-সুবোধ লাজুক মেয়ে হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তুবা খুব লাজুক প্রকৃতির ছিলেন। কর্মজীবী বাবা-মায়ের কাছে কোনোদিন স্কুল থেকে মেয়ের নামে নালিশ আসেনি। মডেলিং জগতের বিশ্ববিখ্যাত ২০ তারকার তালিকায় জায়গা করে নিবেন-এমনটি কখনোই ভাবেননি তুবা। মডেল হওয়ার স্বপ্নও কখনো দেখেননি তিনি।




ইউনিভারসিটিতে যাতায়াতের পথে একদিন দেখা হয় বিখ্যাত এক ফটোগ্রাফারের সঙ্গে। ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার আকর্ষণীয় ফিগারের অধিকারিণী কিশোরীটির ছবি তুলে নিতে ভুল করেননি ফটোগ্রাফার। এই ফটোগ্রাফারের চোখে পড়ায় মডেলিং জগতে আসতে বেশি সময় লাগেনি তুবার।
নাটকে তার প্রথম আত্মপ্রকাশ ছিল আইডিন বুলুত পরিচালিত “মাকামুস সুলতান” নামক সিরিজ নাটকের শেষ চার পর্বে অভিনয়ের মাধ্যমে। তুর্কি চ্যানেল কোনাল ডি তা ২০০৩ সালে প্রথম সম্প্রচার করে। এর মধ্য দিয়েই নাটকে নিয়মিত হন তিনি।

২০০৪ সালে তাশায়ান ইরমাক পরিচালিত ‘গোলাপ মুকুট’ নামে একটি সিরিজ নাটকে সুন্দরীর ভূমিকায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। একই চ্যানেল তা সম্প্রচার করে। নাটকটি পরে আরবিতে ডাবিং করা হয়। একই বছরে একই নামের একটি টেলিভিশন সিনেমায় তিনি ‘গোলাপ বিক্রেতা’র চরিত্রে অভিনয় করেন।




আরবিতে ডাবিংকৃত সংস্করণে ‘হলুদ গোলাপ’ সম্প্রচার হয়। ‘হলুদ গোলাপ’ এ গোলাপ বিক্রেতার চরিত্রে অভিনয় করার কারণে সার্বিয়া ও মনটিনিগ্রো প্রজাতন্ত্রের ইন্টারন্যাশনাল টিভি-উৎসবের পক্ষ থেকে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পান তুবা। এর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘প্রথম প্রথম তো দারুণ ভয় পেয়েছিলাম। মাকামুস সুলতান নাটকটি প্রচার হওয়ার পর অনেকে প্রশংসা করেছেন। এটি সত্যিই আমার জন্য অনেক আনন্দের।’

নাটকে তার ভিত শক্ত হয় ২০০৫ সালে আইডিন বুলুত পরিচালিত “হারানো বছর” নামক সিরিজ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। তিনি ছাড়াও এ নাটকে আরো অভিনয় করেছেন বুলেন্ট ইনাল ও সিনান তুজকু। একই বছরে তিনি অভিনয় করেন তাশায়ান ইরমাক পরিচালিত ‘বাবা ও পুত্র’ সিনেমায়। ২০০৬ সালে ‘পরীক্ষা’ সিনেমায় ‘শিক্ষিকা’র চরিত্রে অভিনয় করার মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় বেলজিয়ান অভিনেতা জাঁ ক্লদ ভ্যান ড্যামের সঙ্গে অভিনয় করার সৌভাগ্য অর্জন করেন।

গত ১০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ইসতামবুলের সময় অনুযায়ী সন্ধ্যা ৮টায় তুর্কি চ্যানেল স্টারে শুরু হয়েছে “সাহসী ও সুন্দরী” সিরিজের প্রথম পর্ব। এতে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী তুবা বুয়ুকুসতুন ও অভিনেতা কিভেন্স তাতলিতুগ। প্রথম বারের মতো এই দুই অভিনেতা কোনো নাটকে অভিনয় করলেন। যা লাখ লাখ তুর্কির দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা ছিল।

ধনীর দুলালি সোহানের আকর্ষণীয় প্রেমের গল্প অবলম্বনে নির্মিত নাটকে অভিনেতা কিভেন্স তাতলিতুগকে দেখা গেছে একটি সেতুর ওপর তুবার ঘোড়া আহত হয়ে দুর্ঘটনার মুখে পড়লে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাকে উদ্ধার করতে। এই দুই অভিনেতা সাত বছর আগে একটি বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনে একবার জুটি হয়েছিলেন। সে জন্য তারা মোটা অংকের টাকাও নিয়েছিলেন। অনেকের মতে, তাদের অপ্রতিরোধ্য জনপ্রিয়তার পেছনে মূল কারণ হচ্ছে, দুটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করা। একটি হলো ‘আলো’, অারেকটি ‘হারানো বছর’।




অভিনয় জগতের অনেকের সঙ্গে তুবা ভালবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। তাদের অন্যতম হলেন বুলেন্ট ইলান। তার সঙ্গে ‘হারানো বছর’ নাটকে অভিনয়ও করেছেন। আরেকজন হলেন সাইজান সুইসাল। সাইজান তার সঙ্গে বর্তমানে ‘কালো ভালো’ নাটকে অভিনয় করছেন। সর্বশেষ তার সম্পর্ক হয়, অভিনেতা আনওয়ার সাইলাকের সঙ্গে। ২০১১ সালের ২৮ জুলাই তুর্কি কনস্যুলারে তাদের বাগদানও সম্পন্ন হয়। ২০১২ সালের ১২ জানুয়ারি তাদের যমজ দুই সন্তান হয়। একজনের নাম তুবরাক ও অন্যজন মায়া।

[link||http://www.totalbangla24.com/তুবা-বুয়ুকুসতুনএক-তুর্কি-অভিনেত্রীর-গল্প/653]
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই নভেম্বর, ২০১৬ ভোর ৬:৩৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে আমি কয়েকটা জিনিস বুঝতে পারলাম।

প্রথমত,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×