
হুমায়ূন আহমেদ! আমার কাছে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়া কিছুই না। এই ব্যক্তির সাথে প্রথম পরিচয় "আঙুল কাটা জগলু" বইয়ের মাধ্যমে। অনেক বই পড়েছি, এখনও পড়ি কিন্তু এক বসায়, একটানা একটা বই কখনও শেষ করিনি। কিন্তু আঙুল কাটা জগলু টা এক বসায় শেষ করি বললে ভুল হবে শেষ না করে উঠতে পারিনি। অদ্ভুদ এক মায়া, টান ছিল বইয়ের প্রতিটি পাতায়। এটাও সত্য ঐ বইটা দ্বিতীয় বার কখনও পড়িনি এবং পড়বোও না। অর্থহীন একটা বই। যার গভীরতা বলতে কিছুই নেই। হিমু চরিত্রটি বইয়ে যতটা সুন্দর, চলচিত্রে ততটাই ব্যর্থ। কিন্তু হিমু চরিত্রটি ঐ সময়ের জন্য প্রয়োজন ছিল। বলা যায় যুগের চাহিদা। কারণ তরুন সমাজ তখন বইবিমুখ ছিল, নতুন নতুন গ্রামোফোন তখন শহরে, গ্রামের চেন্জার, ক্যাসেটের যুগ, অাধুনিকতার ছোঁয়া তখন লাগছে তরুনদের দেহ মনে, পপ সংগীতের আগমন। এমন সময়ে কে পড়বে সাধুরীতিতে নজরুল কিংবা রবীন্দ্রনাথের বই, কে পড়বে গুরুগম্ভীর আখতারুজ্জামান ইলিয়াসেরর রাজনৈতিক বই চিলেকোঠার সেপাই কিংবা শামসুল হকদের গুরুগম্ভীর ভাবধারার বই। বইয়ের কাজ শুধু সমাজের বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, সামজিক কুসংস্কার, হিংস্রা, প্রতিহিংসা তুলে ধরাই না, বইয়ের মাধ্যমে যে আনন্দ দেয়া যায় তা হুমায়ূন আহমেদ শিখিয়েছেন, পথটাও দেখিয়েছেন।
তুমুল জনপ্রিয়, আলোচিত, সমালোচিত একজন ব্যক্তির জীবনের একটা ছোট স্ক্যান্ডেলকে পুঁজি করে করে আপনি ফিকশন তৈরি করবেন, সেখানে আপনি স্যারের ভালোবাসার মানুষকে ছোট করে আপনি কি মজা ফেলেন তা আমার বোধগম্য নয়ে। হুমায়ূন স্যার কি কখনও বলছে, আমি আমার প্রথম স্ত্রীকে ভালোবাসি না কিংবা দ্বিতীয় স্ত্রীকে অনেক বেশি ভালোবাসি। উনাদের বিবাহ বিচ্ছেদ একান্ত উনাদের ব্যক্তিগত বিষয়। আপনি কোন অধিকারের বলে একটা স্ক্যান্ডেলকের ভেতরের দুঃখকে পুঁজি করে সহনাভূতি নিতে যাচ্ছেন । হুমায়ূন স্যারকে যারা ভালোবাসে তারা অবশ্যই উনার পরিবারকেও ভালোবাসে (সেটা হোক প্রথম কিংবা ২য়)। আর মানুষ কি দ্বিতীয় বিয়ে করে না?
ফারুক সাহেব শুধু ফিকশন তৈরি করে থেমে থাকেন নি। উনি আনন্দবাজার পত্রিকার সাক্ষাতকার দিয়েছে, ছবিটি হুমায়ূন আহমেদের জীবনী অবলম্বনে আবার বারবার অস্বীকারও করেছেন। উনি স্যারের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে ছবি হিট করতে চেয়েচেন। নিজের ছবি হিট করতে যদি আরেকজনের জনপ্রিয়তা লাগে তবে আপনি কেমন ডিরেক্টর। আপনার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। হুমায়ূন স্যারের বিয়েটাই আপনার চোখ পড়লো, উনার জীবনের উথান-পতন , লেখক হিসেবে জনপ্রিয়তা, মানুষের ভালোবাসা কি আপনার চোখে পড়েনি? আপনি একজন পিতাকে ছোট করেছেন সন্তানের কাছে, একজন মা কে ছোট করেছেন তার সন্তানের কাছে।
এবার আসি ছবি নিয়ে, আমি আগেও বলেছে এখনও বলছি, আপনার ছবির সবচেয়ে দুর্বল দিক হলো, বাচনভঙ্গি বা শব্দের উচ্চারণ। আপনার ব্যাচলর ছাড়া বাকীগুলোতে এই শব্দ ও ক্যারেক্টারের উচ্চারণে একধরনের রোবট রোবট ভাব চলে আসে। সংলাপ ভালো হলেও ঐ রোবটিক ধরনের জন্য দর্শক আর নিজেকে ঐ দৃশ্যের সাথে একাত্ম করতে পারে না।
আপনি বলছেন, এদেশের দর্শক নাকি বায়োপিক বুঝে না। কিংবা আপনি বলেছেন, আপনি যদি বায়োপিক তৈরি করেন তবে কার কথা সত্য হিসেবে নিবেন, প্রথম স্ত্রীর নাকি দ্বিতীয় স্ত্রীর? এমন অদ্ভট প্রশ্ন যে করতে পারে, সেই ডিরেক্টের পক্ষে আসলে কখনও বায়োপিক তৈরি করা সম্ভব না।
আপনার ডুবই আপনার অর্জিত সম্মানকে ডুবালো।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৮:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


