somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রোজেক্ট পলায়ন

০২ রা আগস্ট, ২০১২ বিকাল ৩:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১১ জুলাই ২০১২, বেলা ১২ টা বাজে দৌড়াতে দৌড়াতে হাজির হই টি এস সি চত্বরে । মাথার উপর কাঠ ফাটা রোদ আর আধা রাত ঘুমানোর ক্লান্তি দুয়ে মিলে মাথার মধ্যে দুনিয়ার চিন্তা ঘুরতেছে । অমুক প্রোজেক্ট শো এর আজ প্রথম দিন । প্রোজেক্ট শোতে নাম দিয়েছিলাম - ভাবলাম নিজের ইউনিভার্সিটি এর বাইরে একটা শোতে দেখি কেমন লাগে । কিন্তু ভাগ্য বড়ই নির্মম । আগের দিন রাতে পড়ল ০৭’ এর ভাইয়াদের “খেদানো উৎসব” । চরম মজা হল – কিন্তু অনুষ্ঠান শেষ হতে হতে রাত বাজল ১১ টা । অত রাতে বাড়ি ফিরার রিস্ক আর নিলাম না , পাছে বাড়ি ফিরার লোভে যদি জানমাল নিয়ে টান পরে সেই ভয়ে । রাস্তাঘাটের যেই অবস্থা আজকাল – কোন সিকিউরিটি নাই । তো যাই হোক থেকে গেলাম হলে । আমি আবার মাঝে মাঝেই আতেল হয়ে উঠতে অনেক পছন্দ করি। তো সেদিন মধ্যরাতে আমার মনে পড়ল একটা প্রেসেন্টেশন তো বানাতে হয়। অনেক খেটে খুটে হলে বসে একটা মাস্ত প্রেসেন্টেশন এর প্রায় অর্ধেক শেষ করে ফেললাম । কিন্তু এর পর ক্লান্তিতে হোক আর শান্তির আশায় হোক ঘুম কে আর আটকে রাখতে পারলাম না। দিলাম এক শান্তির ঘুম ।।

ঘুম ভেঙ্গে দেখি বাজে বেলা ৯ টা । আর প্রোজেক্ট শোতে হাজির হওয়ার কথা ১০ টায়। পড়ি কী মরি করে দৌড়াতে দৌড়াতে যখন বাসায় পৌছালাম তখন বেলা ১০ টা বাজতে একটু দেরি । ফ্রেশ হয়ে একটু বসে দেখি শরীর আর নড়ে না । কোনমতে ধরে বেঁধে প্রেজেন্টেশান টা শেষ করলাম । পার্টনার পুলককে ফোন দিয়ে বললাম যা ভাই আগে গিয়ে রেজিস্ট্রেশানটা কমপ্লিট কর । নাইলে হইতও পার্টিসিপেটই করতে পারব না । বিধি বাম – তার তখন হাতে নেই টাকা । রাতের বেলা গিয়েছিলাম আমরা ব্রাক ব্যাংক এর এটিএম বুথে । কিন্তু ২৪x৭ খোলা থাকার কথা বলে তারা নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছিলো । যাই হোক সকালে সে গেল টাকা উঠাতে । আমি অনেক কষ্টে রওনা দিলাম ।

পৌছালাম গিয়ে ১২ টায় । রেজিস্ট্রেশান করে ফেললাম । দেরি করে যাওয়াতে টি-শার্ট জুটল না কপালে । তাও মনে মনে ভাবলাম ঠিক আসে । গিয়ে বসলাম স্টলে । একটু পর পুলক ও আসলো । দেখি বিশাল করে আয়োজন। ভাবলাম ভালই তো । কিন্তু পরে দেখি নেট কানেকশন দেয় নাই। আমার প্রোজেক্ট এর প্রায় পুরাই চলে নেট এর উপর ডিপেণ্ড করে । চরম হতাশ হলাম । পুলক তখন এগিয়ে এলো উদ্ধার করতে । ওর সেই কচ্ছপ গতির জুম মডেমটা সে সাথে নিয়ে আসছে। কোনমতে সেটা দিয়ে সব গুলা পেজ একবার লোড করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম । তো যাই হোক শুরু হল প্রোজেক্ট শো দেখানো। লোকজন আসছে দেখাচ্ছি , প্রশংসা-সমালোচনা সবই শুনছি । কয়েকটা প্রোজেক্ট দেখে মনে হল আসলেই মনে হয় বিপদে পড়তে যাচ্ছি । জিতা তো দূরে থাক কই যাই কে জানে । এর মাঝে আমি আর পুলক ২ জনই ব্যাপক মুঠোবার্তা দেয়া নেয়া করসি। কার সাথে দেয়া নেয়া করছিলাম তা আবার ভেঙ্গে বলার প্রয়োজন দেখসি না । পড়ন্ত বিকালে শুরু হল জাজিং। সেটাও নাকি হবে ২ টা। ঠিক আসে আমি আর পুলক ঠিক করলাম জাজিং হয়ে গেলে পরের দিন আর আসব না । একে তো প্রচণ্ড গরম , তার উপর নেট নাই। আবার আমাদের ইউনিভারসিটিতে একটা ব্যাপার নিয়ে ব্যাপক গেঞ্জাম চলছে। সবাই তখন ইউনিভারসিটিতে আন্দোলন করতেসে আর আমরা প্রোজেক্ট শো করতেসি ব্যাপারটা ভাল ঠেকে না। তো যাই হোক প্রথম জাজিং হল – মোটামুটি ভালই ফিডব্যাক পেলাম। ভাবতেসি এই তো আর কয়েক মিনিট এর পরই মুক্তি । হঠাৎ শুনি অরগানাইজাররা বলসে সবাইকে সেমিনার হল এ যেতে । স্পন্সরদের খুশি করতে আর কী সব অনুষ্ঠান হবে তার জন্য । তো অনেকক্ষণ গাই গুই করে আমি আর পুলক ২ জনই হাজির হলাম সেমিনার রুমে। যদিও এসি ছিল কিন্তু এই গদবাধা অনুষ্ঠান এ আমার আর পুলক ২ জনেরি বিরক্ত লাগসিলো । এর মাঝে আবার পুলক এর উনি উনাকে অর্ডার দিল ২০ মিনিট এর মাঝে অমুক জায়গায় থাকতে । পুলক এর অস্থিরতা আর গেল বেড়ে। তো আমার আর বেচারাকে ধরে রাখতে ইচ্ছা হচ্ছিলো না । বললাম যা গিয়ে । ও চলে যাবার পর একলা বসে আসি । ভাবসি এই তো আর কিছুক্ষণ এর পরই শেষ । কিন্তু দুর্ভাগ্য তখনি আরেক বিশেষ অতিথির আগমন । মানে আরও এক ঘণ্টা পেঁচাল শুনতে হবে ।
এই যন্ত্রণা আর সহ্য হল না । আমার জনের সাথে দেখা করার জন্যও মনটা আকুপাকু করসিলো । অনেক দিন এর ঝগড়ার পর দেখা করব বলে হইতও। আর বসলাম না । ভাবলাম কত কিছুই তো বাঙ্ক মারি। প্রোজেক্ট শো ও একটা বাঙ্ক মারি। বেরিয়ে এলাম টি এস সি থেকে । একটি অনেক দ্বিধাদ্বন্ধের প্রোজেক্ট শো এর হাত থেকে মুক্তি পেলাম । বের হয়ে রিক্সায় চড়ে তাহার সাথে মধুর আলাপ করতে করতে আর বিকালের ঠাণ্ডা হাওয়া খেতে খেতে চলছি আমার ইউনিভারসিটি এর পথে। আহহহ , কি শান্তি !!!
*******************************************************
ঘটনা পুরাই কাল্পনিক । জীবিত কিংবা মৃত কোন ব্যক্তি অথবা অনুষ্ঠান এর সাথে কিছু মিলে গেলে তা পুরাই কাকতলীয় । কারো প্রতি কোন অভিযোগ বা অনুযোগ প্রকাশ করার কোন নিমিত্ত নয় ইহা, ইহা কেবলি একটি গল্প ।।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা আগস্ট, ২০১২ বিকাল ৩:৩৪
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০১৮ সালের পর ঢাকাতেই ৪টা এক্সপ্রেসওয়ে

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩



একটা দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, সেটা বোঝার অনেকগুলো উপায় আছে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেই দেশের রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা। কারণ এগুলোর পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভ্যাস বিষয়ে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১২

অভ্যাস আসলে কীভাবে তৈরি হয়?

আমরা অনেক সময় ভাবি, কোনো একটা অভ্যাস তৈরি করতে হলে অনেক বেশি Willpower দরকার।

আসলে ব্যাপারটা একটু অন্যরকম।

আপনি যদি প্রতিদিন এক ঘণ্টা বই পড়ার সিদ্ধান্ত নেন, কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×