রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন আপনি। আপনার সামনের লোকটা হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ পাশের চোদ্দ তালা বিল্ডিঙের্ দশ তালার জানালার দিকে তাকালো। সেই অবস্থাতেই কিছুক্ষন হাঁটলো, ঘাড় ঘুরিয়ে। কি করবেন আপনি?
একটা পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে ওরকম অবস্থায় নব্বই ভাগ মানুষই ঘাড় ঘুরিয়ে উপরে তাকায়।
আমরা মানুষ হিসেবে গর্ব বোধ করি, ভেড়াদের নাক কুঁচকে তাচ্ছিল্য করি--ভেড়ার পালের মত চলি না আমরা, নিজেদের ইচ্ছামত যা ইচ্ছা তাই করি, এই সব ভেবে গর্ববোধ করি। আসলে আরেকটু সরল পর্যায়ে গেলে বা গভীরে গেলে দেখা যায় আমরা ভীষণ ভেড়া লাইক প্রজাতি। আমরা অন্য মানুষকে অনুসরন করতে খুব পছন্দ করি। কখনও নিজে জেনে, কখনও একেবারেই অজান্তে।
আরেকটা মজার এক্সপেরিমেন্ট হয়েছিল। ধরুন এক্সপেরিমেন্ট করা হচ্ছে আপনার উপর। আপনাকে বলা হলো, এক্সপেরিমেন্ট সকাল দশটায়। সময় মতো ওখানে গিয়ে দেখলেন এক্সপেরিমেন্টে অংশগ্রহনের জন্য আরও অনেকেই চলে এসেছে। আপনার জন্য এক প্রান্তের সিট খালি। তাড়াতাড়ি বসে পড়লেন। এক্সপেরিমেন্ট শুরু হয়ে গেল।
ব্যাপারটা এরকম--সামনের স্ক্রীনে কয়েকটা দন্ডের ছবি আসবে। একের পর এক। প্রথমে ক, ক চলে যাওয়ার পরে খ, খ চলে যাওয়ার পরে গ। প্রশ্ন খুব সোজা--কোনটা বড়। সোজা, কারণ তিনটার আকৃতি আসলে কাছাকাছিও না। একটা ১ ইঞ্চি তো আরেকটা ১২। এর পরেরটা পুরা ১ মিটার।
উত্তর খুব সোজা, গ হলো ঠিক উত্তর। কিন্তু একটা অদ্ভূত ব্যাপার খেয়াল করলেন। আপনি লাইনের সবার পিছনে বসে আছেন। টেবিলের একদম অন্য প্রান্তের লোকটা বলল ক। কি আশ্চর্য, আপনি জানেন উত্তর ঠিক না। ক মোটে ১ ইঞ্চি ছিল। গ ১ মিটার ছিল, গ বড়। অবাক হয়ে খেয়াল করবেন এর পরের ১০ জনের প্রত্যেকে "ক" কে সবচেয়ে বড় বলে ঘোষনা দিচ্ছে।
আপনার পর্ব আসলে কি বলবেন? গ সবচেয়ে বড় বলে জানেন। তারপরেও, সবাই ক বললো। আপনি কি ক বলবেন নাকি গ বলবেন?
এক্সপেরিমেন্টে দেখা গেল ৯০% মানুষই বলে 'ক'। কেমন একটা বিভ্রান্তিতে পড়ে যায় হয়তো--সবাই একটা কথা বলছে, তার মানে আমি আসলেই ভুল না তো? আর না হয়, সিম্পলি উল্টো দিকে যেতে চায় না।
এখানে কেউ মারবে না, বকবে না, তারপরেও চায় না। নিজে এত স্পষ্টতই ঠিক, জানার পরেও চায় না।
ল্যাবে বসে এক্সপেরিমেন্ট হলেও, আসলে এটা আমাদের সামগ্রিক ভেড়া জাতীয় আচরণের প্রতিফলন ঘটায়। এখানে বলে রাখি--এই এক্সপেরিমেন্টটা হয়েছিল এমেরিকায়। আর এমেরিকায় বরাবর 'অন্য রকম', 'নিজের মত' হতে উৎসাহিত করা হয়। বলাই বাহুল্য, যাদের কখনও উৎসাহিত করা হয় নি, তারা আরও ভেড়া লাইক হবে!
চারিদিকে আজকাল শুধু ভেড়াদের ছড়াছড়ি দেখছি। ভাবছি, সব মানুষ ভেড়া হয়ে গেলে, ভেড়া হওয়াটাই হয়তো মানুষ হওয়া!
(লেখাটা কিংকর্তব্যবিমূঢ়ের অসাধারণ পোস্টের সরাসরি প্রতিক্রিয়া। লিংক দিতে পারছি না!)
আলোচিত ব্লগ
'মাহাথিরনোমিক্স'- মালয়েশিয়াকে যেভাবে নিজ পায়ে দাঁড় করালো (পর্ব - ১)

আমাদের প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া গেলেন। এটা খুব ভালো এক মুভ ছিলো। সারা বিশ্বকে একটি বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। কিন্তু, সারা বিশ্বে মালয়েশিয়াকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার অগ্রনায়ক মাহাথির মোহাম্মদের সাথে তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন
গোসাইপুর ১৯৭১

জুন মাসের পড়ন্ত বিকেল, ভ্যাপসা গরমে আগন্তুক ঘেমে একাকার। গায়ে ময়লা হাফ শার্ট আর নীল ফুলপেন্ট। শার্টের রঙ কোনো এক সময় হয়তো সাদা ছিলো, ময়লা হতে হতে এখন প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
নিউইয়র্কের ডায়েরী: ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া থেকে লং-আইল্যান্ড

আমাদের সামার ভেকেশন চলছে এখন। প্রায় তিন মাসের ছুটি। এই ছুটিতে বসে না থেকে নিউইয়র্কের একটি ন্যাশনাল ল্যাবে জয়েন করলাম ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি হিসেবে! গবেষণা করে যে পৃথিবীকে উদ্ধার... ...বাকিটুকু পড়ুন
কবিতাঃ মোহমায়া

খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।
ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।
হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।