মুসলিম দেশ থেকে আসা ছাড়াও তো মুসলিম আছে। আমেরিকায় মোট মুসলিম জনসংখ্যার মোট ২৩% সোজা বাংলায়--সাদা আমেরিকান। অর্থ্যা ৎ ধর্মান্তরিত মুসলিম। এখন, এদের কাছে ধর্মের কোন ঐতিহাসিক মূল্য নেই, ইসলামের প্রতি রক্তের টান নেই। ইসলাম এক জীবন বিধান হিসেবেই পছন্দ হয়ে যাওয়ায় এই ঘুরে দাঁড়ানো। আগের পর্বে যেই মুসলিমদের কথা বললাম, তাদের চেয়ে চিন্তাভাবনা আলাদা হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। সত্যিকার ভাবে বিশ্বাস করে ইসলাম আসলে তার নিজের এবং সমাজের জন্য ভালো। তাই নিজেকে পুরা পুরি 'ইসলামিক' করে তোলার চেষ্টার পাশাপাশি সমাজকে দেয়ার চেষ্টা করে অনেক কিছু।
পশ্চিমে মুসলিমদের ভবিষ্যত কি ভাবতে গিয়ে আমি খুবই ইন্টারেস্টিং কয়েকটা ব্যাপার খেয়াল করি।
প্রথমত, এই ধর্মান্তরিত মুসলিমদের। সংখ্যাটা বেশ বড়, আর প্রতিদিনই বাড়ছে। তাদের রক্তে, চিন্তা ভাবনায় পশ্চিমা এবং মুসলিম। ওদের প্রভাবে যেই ইসলামিক কালচার শুরু হচ্ছে, সেটা বেশ অন্যরকম।
ব্যাপারটা কি রকম, সেটা পশ্চিমের প্রচলিত ইসলামিক গানগুলো পর্যবেক্ষন করলেই বুঝা যায়। দাউদ ওয়ার্নসবি আলি আর ইউসুফ ইসলাম (ক্যাট স্টিভেনস) দুই জনই ধর্মান্তরিত মুসলিম। পূর্ববর্তী পেশা ছিল গান গাওয়া। তারা মুসলিম হিসেবে যেই গানগুলো যায়, সেটার সুরে আগের প্রভাব পাওয়া যায়, দাউদের গানে কান্ট্রি মিউজিকের প্রভাব আর ইউসুফ ইসলামের গানে সেভেন্টিজের ওর নিজেস্ব স্টাইলের প্রভাব। অন্যদিকে, সামী ইউসুফ কিংবা নাযীল আযামীর ঘটনা অন্যরকম। সামী পূর্ব ইউরোপিয়ান, নাযীল বাংলাদেশী। ওরা ইংরেজীতে গান গাইলেও সেখানে নিজেস্ব দেশের প্রভাব থাকে।
এই জন্যই বলছিলাম, যারা ধর্মান্তরিত মুসলিম, তারা নিজেদের সাথে সাথে অনেক কিছু নিয়ে আসছে যা পশ্চিমে মুসলিমদের অন্যরকম পরিচয় দিচ্ছে, এক সমান্তরাল পরিচয়... যা পুরাপুরি পশ্চিমাও নয় আবার অনৈসলামিকও নয়।
সেদিন ভাবতে ভাবতে আরেকটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার খেয়াল করলাম। জাতির সংজ্ঞা তো তা-ই যাদের নিজেস্ব একটা সামগ্রিক সংস্কৃতি আছে। যা শেয়ারড আইডেন্টিটি তৈরি করে।
পোশাক আশাক সংস্কৃতির একটা খুব বড় অংশ। মুসলিমরা যেভাবে নিজেদের সংস্কৃতির এই অংশটা ধরে রাখছে, দিন দিন আঁকড়ে ধরছে, আর কোন জাতি সেটা করতে পারে নি। ভারতীয়দের সংস্কৃতিতে পোশাক আশাক খুব অন্যরকম, তারা পারে নি। ইহুদীদের শুধু ছেলেদের মাথায় ছোট্ট একটা টুপি পড়ার চল আছে, সেটাও তেমন কিছু নয়। কিন্তু মুসলিমদের যেরকম পোশাক আশাকের দিক দিয়ে একদম নিজেস্ব একটা কালচার গড়ে উঠছে--মুসলিম মেয়েদের হিজাব, অনেক মুসলিম ছেলেদের দাড়ি, শালীন পোশাক--এমন অভাবনীয় ব্যাপার কিন্তু অন্য কোন জাতিতে আসলেই হয় নি।
দিন দিন হিজাব পড়া মেয়েদের সংখ্যা বাড়ছে। যারা পার্টটাইম হিজাবী নয়। শুধু আজান বা ইসলামিক অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় হিজাব পরে না, সার্বক্ষনিক হিজাব পরে থাকে। প্যারালাল আইডেন্টিটি বোধটা দিন দিন সমৃদ্ধ হচ্ছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


