somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্ল্যাকহোল!

০৪ ঠা জুলাই, ২০১৭ দুপুর ১:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ব্ল্যাকহোল কিঃ

আমাদের এই মহাবিশ্ব বস্তু ও বিকিরণ সমৃদ্ধ। একমাত্র কৃষ্ণ বস্তু (Dark matter) ছাড়া সকল বস্তুই বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গে বিকিরণ করে। তবে কোন্‌ তরঙ্গ দৈর্ঘে বেশি করবে তা নির্ভর করে বস্তুর তাপমাত্রার উপর। একটি বস্তু যদি দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ দৈর্ঘে বিকিরণ করে অথবা কোন উৎস থেকে আগত আলো প্রতিফলিত করে তাহলে বস্তুটিকে আমরা খালি চোখেই দেখতে পাই। যদি আলোক তরঙ্গ বিকিরণ না করে অন্যান্য তরঙ্গে বিকিরণ করে তাহলে বস্তুটি পর্যবেক্ষণের জন্য আমাদের বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির উপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু কোন বস্তু যদি আদৌ বিকিরণ না করে, কিংবা অন্য কোন উৎস থেকে আগত বিকিরণ প্রতিফলিত না করে? তখন কিন্তু বস্তুটির সঙ্গে যোগাযোগ করার কোন পথ খোলা থাকে না। বস্তুটি তখন আর দেখা যায় না। স্থান-কালের বুকে হারিয়ে যায়। মহাকাশের বুকে এরূপ কিছু কিছু অঞ্চল আছে যেখান থেকে কোনরূপ বিকিরণ আসে না, বা কোন প্রকার তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে না। বর্হিজগতের সঙ্গে সম্পুর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে আত্মগোপণ করে থাকে। স্থান-কালের বুকে আত্মগোপণ করে থাকা এইসব অঞ্চলকে বলা হয় ব্ল্যাকহোল (Black Hole) বা কৃষ্ণগহবর। যেহেতু কোন বিকিরণ করে না তাই ব্ল্যাক বা কৃষ্ণ। আশ্চর্যের বিষয়, ব্ল্যাকহোলের বাস্তব অস্তিত্ব থাকা সত্ত্বেও তাকে সনাক্ত করা যায় না। স্থান-কালের বুকে লুকিয়ে থাকে। লুকোচুরি খেলার জন্য ব্ল্যাকহোল কিন্তু অতি চমৎকার জায়গা। ব্ল্যাকহোল সর্বগ্রাসী। প্রতিবেশে যা কিছু পায় তা সবই গ্রাস করে নেয়। কিছুই ফিরিয়ে দেয় না।




মানুষের ভ্রান্ত ধারণাঃ 

অনেকে মনে করেন যে ব্ল্যাকহোল আমাদের আশেপাশেই ছড়িয়ে আছে। এমনকি অনেকে এও বিশ্বাস করেন যে বারমুডা ট্র্যায়াংগেল থেকে বিমান বা জাহাজের কথিত অন্তর্ধান রহস্যের কারণও এই ব্ল্যাকহোল।


বারমুডা ট্র্যায়াংগেল হল, উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের উত্তর-পশ্চিমাংশের ত্রিভুজ আকৃতির একটি অঞ্চল। কথিত আছে যে এই অঞ্চলের উপর দিয়ে কোন জাহাজ বা বিমান যেতে  গেলেই রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যায়। এই অঞ্চলটি Devil's Triangle নামেও পরিচিত। সাধারণ বিশ্বাস যে, এইসব জাহাজ বা বিমান ব্ল্যাকহোল গ্রাস করে ফেলে। কিন্তু না, আমাদের আশেপাশে কোন ব্ল্যাকহোল নেই। সাম্প্রতিককালে (১৯৯৯ সালে) V4641Sgr ব্ল্যাকহোলটি আমাদের নিকটতম ব্ল্যাকহোল বলে ধারণা করা হয়। এর দূরত্ব এক হাজার ছয়শত আলোকবর্ষ।




ইতিহাসঃ 

মহাবিশ্বের সবচাইতে রহস্যময় বস্তু হল ব্ল্যাক হোল। মহাবিশ্বের কিছু স্থান আছে যা এমন শক্তিশালী মহাকর্ষ বল তৈরি করে যে এটি তার কাছাকাছি চলে আসা যেকোন বস্তুকে একেবারে টেনে নিয়ে যায়, হোক তা কোন গ্রহ, ধুমকেতু বা স্পেসক্রাফট, তাই ব্ল্যাক হোল। পদার্থবিজ্ঞানী জন হুইলার এর নাম দেন ব্ল্যাক হোল। কেন? কারন ব্ল্যাক হোলের মহাকর্ষ বল এতই বেশি যে এর আকর্ষন থেকে এমনকি আলোও (ফোটন) বের হয়ে আসতে পারে না। ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন তার জেনারেল রিলেটিভিটি তত্ত্ব  দিয়ে ধারনা করেন ব্ল্যাক হোল থাকা সম্ভব। আর মাত্র ১৯৯৪ সালে এসে নভোচারিরা প্রমাণ করেন আসলেই ব্ল্যাক হোল আছে। এটি কোন সাইন্স ফিকশন নয়। জার্মান বিজ্ঞানী কার্ল শোয়ার্জস্কাইল্ড ১৯১৬ সালেই দেখান যেকোন তারকা ব্ল্যাক হোলে পরিণত হতে পারে। সূর্যের ব্যাসার্ধ (৮৬৪,৯৫০মাইল) যদি কমতে কমতে সঙ্কুচিত হয়ে ১.৯ মাইলে পরিণত হয় তাহলে সূর্যও ব্ল্যাক হোলে পরিণত হবে। তিনি ঘটনা দিগন্তের ব্যাসার্ধ মাপতে সক্ষম হন। ঘটনা দিগন্ত হল কোন এলাকা ব্যাপী ব্ল্যাক হোলের প্রভাব থাকবে সেই এলাকার ব্যাসার্ধ। বিজ্ঞানীরা প্রথম Cygnus X-1 নামক তারকারাজি থেকে মাত্রাতিরিক্ত এক্সরে রেডিয়েশন বেরুচ্ছে খেয়াল করেন। ১৯৭১ সালে বিশ্বের প্রথম এক্সরে স্যাটেলাইট এই এক্সরে রেডিয়েশনের মূল সূত্র বের করে হতবাক হয়ে দেখেন এটা একটা অতি বৃহৎ কিন্তু অদৃশ্য বস্তু থেকে আসছে। চতুর্মাত্রিক মহাবিশ্বের দ্বিমাত্রিক চিত্রায়ন করার চেষ্টা ব্ল্যাক হোলের একটা বিশেষত্ব হচ্ছে এর
চারপাশে যখন আকর্ষিত গ্যালাক্সি এসে পড়ে তখন এটি গ্যালাক্সি বা যেকোন মহাজাগতিক
বস্তুকে স্পাইরাল একটা ওয়ে(WAY) তে শুষে নিতে থাকে। এটা অনেকটা এমন যে একটা টেবিলের মাঝখানে ফুটো করে সেই ফুটোটা যদি টেবিলের লেভেল থেকে একটু নিচে থাকে তাহলে একটা বল
টেবিলে ছেড়ে দিলে তা ঘুরতে ঘুরতে সেই ফুটোতে পতিত হবে একসময়। ব্ল্যাক হোল একটা গ্যালাক্সিকে শুষে নিচ্ছে ব্লাক হোল আসলে মৃত তারকা। তারকা মানে হল উজ্জ্বল নক্ষত্র। যাদের আলো আছে। যেমন – সূর্য। ভারতের অসাধারন মেধাসম্পন্ন বিজ্ঞানী চন্দ্রশেখর সুব্রাহ্মন কোন তারা ব্লাক হোল হতে পারে তার
একটা সীমা ঠিক করে দিয়েছেন। তা হল সুর্যের ভরের ১.৫ ভাগ বেশি ভরের সব তারা নিজেদের জ্বালানী শেষ হয়ে গেলে নিজেদের ভরে নিজেরাই সঙ্কুচিত হয়ে সসীম আয়তন কিন্তু অসীম ঘনত্বের ব্ল্যাক হোলে পরিণত হবে। বাকিরা পালসার বা নিউট্রন তারকা হবে।

আজ  এ পর্যন্তই...আগামীতে ব্ল্যাকহোল সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানানো হবে। সাথেই থাকুন।

ধন্যবাদ সবাইকে।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুলাই, ২০১৭ দুপুর ২:০৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×