somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তিতাস একটি নদীর নাম...

২৭ শে জুলাই, ২০১১ ভোর ৬:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



‘একসময় এই তিতাসের সব দিক দিয়ে চলত লঞ্চ।... জেলেদের হাসিখুশি জীবন। তিতাসজুড়ে মাছরাঙা, পানকৌড়ি, গাংচিলের কলরব। বকের ঝাঁক। পাল তোলা নৌকার ভিড় থেকে ধেয়ে আসা মাঝিমাল্লাদের সুরেলা কণ্ঠ। নদীর পাড় গায়ের বধূদের কলসি কাখে পানি আনার দৃশ্য।’ কবি জয়দুল হোসেন এভাবেই বর্ণনা করছিলেন তিতাসকে। কিন্তু তিতাসের এই চিত্র আজ অনেকটাই রূপকথার মতো। ২০ বছর আগেও যেন এই চিত্রকে রূপকথা বলার সাহস কেউ পেতাম না।
ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর প্রাণের তিতাস। খুব কম জেলাবাসীই হয়তো আমাদের মতো ভাগ্যবান যাদের কূল কোল ঘেষে গেছে তিতাসের মতো এমন নদী। মেঘনা নদীকে বলা হয় তিতাসের দহিতা। মেঘনারই একটি শাখা নদী এটি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের চাতলপাড় গ্রাম থেকে তিতাসের সৃষ্টি। সেখান থেকে নাসিরনগর, হরিণবেড়, হরিপুর, শাহবাজপুর হয়ে শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আখাউড়ায় গিয়ে মিলিত হয়েছে তিতাস। উজানিশার থেকে আবার প্রবাহিত হয়ে মিলিত হয়েছে শহরের গোকর্ণ ঘাটের দিকে। গোকর্ণ ঘাট থেকে এর শাখা চলে গেছে নবীনগরে। ওদিক দিয়ে আবার একটি শাখা মিলিত হয়েছে মেঘনা নদীর সঙ্গে। একসময় প্রায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নয়টি উপজেলার সাতটির মধ্যেই লঞ্চ যাতায়াত ছিল। কিন্তু এখন শুধু মাত্র গোকর্ণ ঘাট থেকে নবীনগরের সঙ্গেই আছে লঞ্চ যোগাযোগ। আর বর্ষায় ইঞ্জিনের নৌকায় বেশ কিছু জায়গায় যোগাযোগব্যবস্থা স্থাপিত হয়। তবে নদীতে গিয়ে কদাচিৎও দেখা মেলে না পাল তোলা নৌকার। ইঞ্জিনের নৌকার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সে যেন কবেই তার পরাজয় মেনে নিয়েছে।
গোকর্ণ ঘাটের তিতাস পাড়ে গিয়ে দেখা মেলে মালু পাড়ার জেলে সম্প্রদায়ের গৌর বর্মণের সঙ্গে। পেশায় মৎসজীবী। চেহারায় যেন দুনিয়ার হতাশা। জিজ্ঞেস করলাম, ‘কেমন আছেন।’ উত্তরে বললেন, ‘বালা নাই বাবা। আমরা জাল্লা। মাচ দইরা জীবন চালাই। কিন্তু তিতাসে মাচই নাই জীবন চলব কীভাবে?’
এসবের পরও বর্ষার এ কয়টা দিন সংকীর্ণ হয়ে আসা তিতাসের রূপ দেখলে মন উৎফুল্লতায় ভরে ওঠে। উফ! অসাধারণ। স্কুলজীবনে বন্ধুরা দল বেঁধে তিতাসে যেতাম আর একজনের কাঁধে উঠে আরেকজন লাফিয়ে পড়তাম নদীতে। এ মৌসুমে আপনারাও যদি আসেন তাহলে নিশ্চিত তিতাসকে আলিঙ্গন করতে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। আর যখন অপরিচিত কাউকে বলি বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া তখন একটা হাসি দিয়ে বলেন, ‘ওহ তিতাস পাড়ের সন্তান।’ তখন গর্বে বুকটা ভরে ওঠে। পরক্ষণেই তিতাসের বুকে চড় পড়া, অবৈধ দখলে আস্তে আস্তে দুই পাড় সংকীর্ণ হয়ে যাওয়া, আবর্জনা ও ইঞ্জিনের নৌকার কারণে পানির দূষিত হওয়ার কথা মনে পড়লে বুকটা ছ্যাত করে ওঠে।
অদ্বৈত মল্ল বর্মণ তাঁর শ্রেষ্ঠ উপন্যাস তিতাস একটি নদীর নাম-এ সে সময়ই ফুটিয়ে তুলেছিলেন জেলেদের দুঃখ-দুর্দশা। আভাস দিয়েছিলেন আজকের তিতাসের করুণ ছবি। কিন্তু আমরা যেন কবির মতো করে দেখতে পাইনি। হতে পারিনি দূরদৃষ্টিসম্পন্ন। কিন্তু আজ তিতাসকে খনন করে এর নাব্যতা ফিরিয়ে না আনলে যেন আমাদের প্রাণের নদী একদিন কালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

আজ প্রথম আলোতে ছাপা এই লেখা
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুলাই, ২০১১ ভোর ৬:১৭
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×