somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গুজব ও নির্ভরতা

২৮ শে নভেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


উপরের ছবিটি দেখুন, শুধু এইটাই বলতে চেয়েছি, সব কিছু বিশ্বাস করতে নেই। রোহিঙ্গাদের কষ্ট দুর্দশা আজকে হাস্যকর করে ফেলেছি এই আমরাই। এইসব মিথ্যে কেন প্রচার করতে হবে? এতোটা নিচে কেন নামতে হবে? আমরাতো জানিই ওদের উপর অত্যাচার হচ্ছে আমাদের উচিৎ প্রতিবাদ করা তা না করে গুজব ছড়াচ্ছি। পক্ষান্তরে বিবিসি, আলজাজিরা এ নিয়ে রিপোর্ট করে ফেলেছে যে আমরা ভুল, মিথ্যা ছবি দিয়ে ফেইসবুকে, মিডিয়াতে রোহিঙ্গা নির্যাতনের গুজব ছড়াচ্ছি। কি লাভ হলো তাইলে? যে বিশ্ব মিডিয়াতে আমাদের প্রতিবাদ পৌঁছানোর কথা তা না করে পৌছে দিলাম গুজব। আমাদের উচিৎ ছিল বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় ভাবে, প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে প্রতিবাদ জানানো। ভুল তথ্য না দিয়ে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে যদি আমাদের একজনেরও প্রতিবাদের কারনে এই মানূষগুলোর সাথে ইনসাফ করা হয় তাতেই তো অনেক।


আমরা যারা গুজব ছড়াচ্ছি আমরা কি একবারও মায়ানমারের মানচিত্রটা লক্ষ্য করেছি? আমাদের কতুটুকু অংশ জুড়ে তাঁদের সীমানা? শুধুমাত্র ৫% সীমানাও আমাদের সাথে নেই তাঁদের বাকী ৯৫% সীমানা ভারত, চীন আর থাইল্যান্ড ঘিরে আছে। তাইলে আমাদেরকে কেন তাদেরকে নিতে হবে? আমরাতো ইতিমধ্যে ৫ লাখ রোহিঙ্গা পালছি। তাঁদের পালতে গিয়ে আমাদের কি কি পোহাতে হচ্ছে, কষ্ট করে কক্সবাজারের মানুষগুলোকে জিজ্ঞেস করলেই হয়। আমাদের নিজের দেশে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে কতজন বাস করি? তার উপর এই রোহিঙ্গাদের আমরা কোথায় জায়গা দিবো? এদেরকে কি খাওয়াবো, অরাজক পরিস্থিতি শেষ হয়ে গেলে এরা কি ফেরত যাবে? যেতে চাইবে? মায়ানমারই বা কি নিতে চাবে? তাইলে মাত্র ৫% সীমানা থাকার কারনে কেন আমাকেই এগিয়ে যেতে হবে? কেন বাকী দেশগুলো এগিয়ে যাবে না? তারা কি জাতিসঙ্গের অন্তর্ভুক্ত না? নাকি আমাদের বেলায় এলেই জাতিসঙ্গের খবরদারি বেরে যায়? এই মানুষগুলোর জন্য আরব বিশ্বের কোন দেশ থেকেওতো কোন প্রতিবাদ দেখলাম না, দেখলাম না কোন রাষ্ট্রীয় ভাবে পদক্ষেপ। এরা কি মানুষ না? কেন এরা পানিতে ভাসবে? নিজের দেশের স্বার্থের কথা চিন্তা না করে যদি তবুও মনে হয় এদেরকে অবশ্যই আমাদের দেশে জায়গা দেয়া উচিৎ তাইলে একটা ছোট্ট গল্প বলি।

এক গ্রামে এক পরিবার বাস করতো ৫ জনের। সুন্দর সংসার মা বাবা আর ভাইবোন ৩ জন। কিছুদিন পর তাদের দুজন দূরসম্পর্কের আত্মীয় বেড়াতে এলো তাদের বাড়ি। এক দিন দুই দিন করে অনেক দিন হয়ে গেলেও তারা আর যায় না। শেষে বাড়ির কর্তা জিজ্ঞেস করে বসলো তোমরা কবে যাবে? এই কথা শুনে তারা জানালো আমরাতো যেতে আসিনি এখানেই থাকবো, আমরা ফিরে যাবো না। আর অবশেষে যে ফল হলো তা হলো বাড়ির মালিককেই ঐ দুইজনের অত্যাচারে তার নিজের বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হলো।

সরকারের কথা বাদ দিন যদি আপনাদেরকেই বলা হয় দুজন করে রোহিঙ্গা আপনাদের নিজের বাড়িতে থাকার ও খাবার ব্যবস্থা করে দিতে হবে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য সে ক্ষেত্রে কি করবেন? তাই বাস্তবতার নিরিখে চিন্তা করে কথা বলাই উচিৎ। যা আমরা পারবোনা তা বলা বা করা উচিৎ না। তানা হলে এই মানুষগুলোর সাথে কেবলমাত্র পরিহাসই করা হবে কাজের কাজ কিছু হবে না।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে নভেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১:০৪
৫টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোকুলে বাড়িছে সে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৪

গোকুলে বাড়িছে সে

পরিস্থিতি যতই ঘোলাটে হচ্ছে, ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে- ক্ষমতার অন্দরমহলে অস্বস্তি বাড়ছে। একের পর এক বক্তব্য, ভিডিওবার্তা, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দেখে মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগছে- এত অস্থিরতার কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আর্কাইভ থেকে: ফেলে আসা এক সড়কের কথা

লিখেছেন অর্ক, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:১৫



ফেলে আসা এক সড়কের কথা মনে পড়ে। হলুদ নিয়ন বাতির ম্লানাভ সন্ধ্যেবেলা। পলেস্তারা খসা বয়োজীর্ণ দেয়াল। দুয়েকটি রিক্সা। সিটের ’পর পা তুলে আঁটোসাটো ঝিমানো চালক। খেলা শেষে ঘরে ফেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোথাও একটা ভুল হচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৪২

একটা ছোট নৌকা পাল তুলে পাড়ি দিচ্ছে-
অনন্ত নক্ষত্রবীথি।
পেরিয়ে যাচ্ছে- গ্রহ নক্ষত্র, মহাজাগতিক উল্কা।
দূরে কোথাও সংঘর্ষ হচ্ছে।
ধীর, অতি ধীর তার গতি। নৌকায় কয়েকজন মানুষ!
একটি শিশু,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিদারাবাদ থেকে মাছুয়াপাড়া

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৫৫

আপনার সবচেয়ে অপছন্দের খাবার হচ্ছে শুকর। শুধু অপছন্দের না, এটা আপনি ঘৃণাও করেন। কিন্তু আপনার পাশে বসে সবাই শুকর খায়। যে পাতিলে শুকর রান্না করা হয়, সেই পাতিলেই আপনার জন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×