9 নম্বরে হরেক রকমের যাত্রী ওঠে। প্রথম শ্রেণীর সরকারী চাকুরে থেকে শুরু করে জুতা চোর পর্যন্ত। মাঝে মাঝে খুব মজার মজার কথা বার্তাও হয়। রসিক টাইপ কিছু মানুষ আছে; তারা সব জায়গায়ই সরব থাকেন। স্বপ্নময় পেছনের একদিকে বাম্পার ধরে দাঁড়িয়ে আছে। বাসের ভেতরে ঠাসাঠাসি অবস্থা। ঘেমে সে অস্থির। তার দুই সিট সামনে একলোক গলাখাঁকারি দিয়ে শুরু করলো; কে বলে এ বাস সবচে' ফালতু সার্ভিস দেয়? আমার কাছে তো ভালোই লাগে। সবাই এ গরমেও তার দিকে না তাকিয়ে পারেনা। এমন প্রশংসাতো তারা কোনোদিন শুনেনি? পেছনের পাবলিকরা কিছুটা ঝুকে এসে শুনার চেষ্টা চালালো। বাঙালী মাত্রই বেশিমাত্রায় কৌতহলী। 'আমারতো মনে হয় এ বাস সার্ভিসের কোনো বিকল্প নাই! বিশেষ করে দেখুন না... তিনি সবার দিকে কিছু সময়ের জন্য চোখ বুলিয়ে নিলেন... এত বাস এঙ্েিডন্ট করতে দেখেছেন, কখনো কি 9 নম্বরকে এঙ্েিডন্ট করতে দেখেছেন? দেখবেন কি করে, রিঙ্াওয়ালাদেরকে পর্যন্ত এরা সাইড দেয়! বিখ্যাত বাস...। ভাবতাছি বাস মালিকদের কাছে একটা দরখাস্ত করবো। বলেই তিনি অমায়িক হাসি দিলেন। দু/তিনজন কৌতহল দমন করে রাখতে পারলো না। জিজ্ঞাসা করলো কি কারনে দরখাস্ত করবেন। তিনি পুনরায় তার দন্ত প্রদর্শন করলেন, চোয়ালটা শক্ত করে বললেন- ওদের কাছে এ কারনে দরখাস্ত করবো যেন তারা গাড়িগুলোর গতি বাড়ানোর জন্য অন্তত দুইজন লোক নিয়োগ করে। একজন সামনে দড়ি দিয়ে টানবে, বাকীজন পেছন দিক দিয়ে ঠেলবে। দুয়েকজন না হেসে পারেনা। বাকীরা এতটাই কান্ত হয়ে থাকে যে, মুখ খোলার মত শক্তিও তাদের থাকেনা।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, এ বাসে নারীরাও ওঠে। কিছু বেপরোয়া নারী, তাদের সমানাধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্যই বোধহয় এসব বাসে ওঠে। নাকি অন্য কিছু? কিছু সৎ মানুষ, যারা সব জায়গায় নিজেদের চরিত্রবান, সৎ বলে দাবী করে... তারা এসব জায়গায় ঠিক থাকতে পারে না। স্বপ্নময় কত কিছু দেখলো! সেদিন একজন নিরীহ ছাত্রের চরিত্র দেখলো সে। মেয়েটি নেমে যাচ্ছে, সে পেছনে। ছেলেটা এতটাই প্তিটায় হাত চালালো যে, স্লো-মোশনের ক্যামেরা লাগবে তার কর্মটি দেখতে হলে। মেয়েটি নামলো, ছেলেটিও। মেয়েটি লজ্জায় কিছু বলতে পারছে না। মাথা নিচু করে চলে যাচ্ছে। ছেলেটি'র মুখের দিকে তাকিয়ে স্বপ্নময় খুব আশ্চার্য্য হয়। আহা এমন নিরীহ মানুষ পৃথিবীতে আছে? কোনো অপরাধবোধ সে চেহারায় ছায়া ফেলেনি। নিদারুন ভালো মানুষের মত সে হাঁটা দিয়েছে!
কলেজ ছাত্রীদের কথা আলাদা। তাদের কিছু বলতে মুর্গা পুরুষরা 10 বার ভাবে। সাধু পুরুষরা ডলাডলি করবে কি, উল্টো বাস থেকে নামিয়ে তাদেরকে যে ডলা দেবার মতা কলেজ ছাত্রীরা রাখে তা সবার জানা। স্বপ্নময় খুব অবাক হয়; তার ধারনা অর্থনৈতিক অবস্থায়ই নারীদের নানামুখী সমস্যায় ঠেলে দেবার কারন। সমানাধিকার মুখে বলে ঠিকই, মিছিল মিটিং করে ঠিকই; যেখান থেকে সমানাধিকারের শেকড় সেখানেই তো বিরাট ধরা!
এ বাসে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক সব ধরনের টপিকস নিয়ে কথা ওঠে। কে বলেছে বাঙালীরা মুর্খ। 9 নম্বরে উঠলে বুঝা যায়, বাঙালীর মত জ্ঞানী মানুষ পৃথিবীতে খুব কমই আছে। তর্কে কেউ তাদেরকে হারাতে পারবে না। অসম্ভব। স্বপ্নময় গন্তব্যে খুব কষ্ট করে নামে। এর পা মাড়িয়ে, ওর শরীর ঠেসে সে বেরিয়ে আসে নরক থেকে। এটা ধরতে গেলে প্রতিদিন। অভ্যেস হয়ে যাবার কথা। কিন্তু স্বপ্নময়ের হয়ে ওঠেনি। কোনো কিছুতেই সে অভ্যস্ত নয়। মুক্ত বাতাসে শ্বাস টেনে নতুন জীবনের ঘ্রাণ পেল। শরীর এবং শরীরে জড়ানো পোষাক, দুইয়েরই দফারফা অবস্থা। আহ... 9 নম্বরের শিল্পকর্ম বলে কথা! ছবি তুলে রাখতে হবে একদিন!
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৭ বিকাল ৩:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




