somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

9 নম্বর বাস (মুড়ির টিন)!

০৫ ই জুলাই, ২০০৬ সকাল ৭:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পুরনো দিনের যানবাহন নেই আর। তাই পুরনো দিনের গানও বাসগুলোর ভেতরে বাজে না। মানুষজন যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছে দিনদিন। সিটিং বাসগুলোতে লোক দেখানো ফ্যান ঝুলানো আছে। সেসব কাজ করে না। নিরিহ মানুষগুলো এসব নিয়ে তর্ক বিতর্ক করে গলা ফাটায়। কেউ কেউ নষ্ট ফ্যানগুলোতে হাত দিয়ে আঘাত করে, কেউ কলম দিয়ে ফ্যান ঘুরানোর চেষ্টা করে। নিষ্ফল। ফ্যান আর ঘুরে না। কন্ট্রাক্টর ফ্রি গালাগাল শুনে, আর হাসে। ওদের এসব শুনার অভ্যেস আছে। সিটিং বাস একটাও সে পায়না। 9 নম্বর বাস তার শেষ সম্ভল। কিন্তু 9 নম্বর আর চুলোর উনুনের মাঝে কোনো তফাৎ নেই। 9 নম্বর বাসে উঠতে হবে, ভাবতেই তার গলা শুকিয়ে আসে। তারপরও কোন পথ নেই। একটাই পথ খোলা, 9 নম্বর বাস চড়ো। মানুষের বিশ্রি গালাগাল শুনো, কার্বন-ডাই অঙ্াইডের ফ্যাক্টরীতে ঢুকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঝিমাও। ভিড়ের মাঝে পকেটমার ঢুকলেতো কোন কথাই নাই। মানুষগুলো কি থেকে কি করবে সেটার মতিগতি বুঝে ওঠা মুশকিল। মাঝে মাঝে খুব মারপিট শুরু হয়ে যায়। ভাড়া বাড়লেতো কোন কথাই নাই। হেল্পার থেকে ড্রাইভার... নামাও শালাদের। গ্লাস ভাঙ্গো, গাড়ি ভাঙ্গো; হেল্পার শালার পা ভাঙ্গো... এ ভাবেই চলে যায় দিন। তারপরও 9 নম্বর বাস কোনদিন হারায় না; হারায় না ঐ বাসের যাত্রীরাও।

9 নম্বরে হরেক রকমের যাত্রী ওঠে। প্রথম শ্রেণীর সরকারী চাকুরে থেকে শুরু করে জুতা চোর পর্যন্ত। মাঝে মাঝে খুব মজার মজার কথা বার্তাও হয়। রসিক টাইপ কিছু মানুষ আছে; তারা সব জায়গায়ই সরব থাকেন। স্বপ্নময় পেছনের একদিকে বাম্পার ধরে দাঁড়িয়ে আছে। বাসের ভেতরে ঠাসাঠাসি অবস্থা। ঘেমে সে অস্থির। তার দুই সিট সামনে একলোক গলাখাঁকারি দিয়ে শুরু করলো; কে বলে এ বাস সবচে' ফালতু সার্ভিস দেয়? আমার কাছে তো ভালোই লাগে। সবাই এ গরমেও তার দিকে না তাকিয়ে পারেনা। এমন প্রশংসাতো তারা কোনোদিন শুনেনি? পেছনের পাবলিকরা কিছুটা ঝুকে এসে শুনার চেষ্টা চালালো। বাঙালী মাত্রই বেশিমাত্রায় কৌতহলী। 'আমারতো মনে হয় এ বাস সার্ভিসের কোনো বিকল্প নাই! বিশেষ করে দেখুন না... তিনি সবার দিকে কিছু সময়ের জন্য চোখ বুলিয়ে নিলেন... এত বাস এঙ্েিডন্ট করতে দেখেছেন, কখনো কি 9 নম্বরকে এঙ্েিডন্ট করতে দেখেছেন? দেখবেন কি করে, রিঙ্াওয়ালাদেরকে পর্যন্ত এরা সাইড দেয়! বিখ্যাত বাস...। ভাবতাছি বাস মালিকদের কাছে একটা দরখাস্ত করবো। বলেই তিনি অমায়িক হাসি দিলেন। দু/তিনজন কৌতহল দমন করে রাখতে পারলো না। জিজ্ঞাসা করলো কি কারনে দরখাস্ত করবেন। তিনি পুনরায় তার দন্ত প্রদর্শন করলেন, চোয়ালটা শক্ত করে বললেন- ওদের কাছে এ কারনে দরখাস্ত করবো যেন তারা গাড়িগুলোর গতি বাড়ানোর জন্য অন্তত দুইজন লোক নিয়োগ করে। একজন সামনে দড়ি দিয়ে টানবে, বাকীজন পেছন দিক দিয়ে ঠেলবে। দুয়েকজন না হেসে পারেনা। বাকীরা এতটাই কান্ত হয়ে থাকে যে, মুখ খোলার মত শক্তিও তাদের থাকেনা।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, এ বাসে নারীরাও ওঠে। কিছু বেপরোয়া নারী, তাদের সমানাধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্যই বোধহয় এসব বাসে ওঠে। নাকি অন্য কিছু? কিছু সৎ মানুষ, যারা সব জায়গায় নিজেদের চরিত্রবান, সৎ বলে দাবী করে... তারা এসব জায়গায় ঠিক থাকতে পারে না। স্বপ্নময় কত কিছু দেখলো! সেদিন একজন নিরীহ ছাত্রের চরিত্র দেখলো সে। মেয়েটি নেমে যাচ্ছে, সে পেছনে। ছেলেটা এতটাই প্তিটায় হাত চালালো যে, স্লো-মোশনের ক্যামেরা লাগবে তার কর্মটি দেখতে হলে। মেয়েটি নামলো, ছেলেটিও। মেয়েটি লজ্জায় কিছু বলতে পারছে না। মাথা নিচু করে চলে যাচ্ছে। ছেলেটি'র মুখের দিকে তাকিয়ে স্বপ্নময় খুব আশ্চার্য্য হয়। আহা এমন নিরীহ মানুষ পৃথিবীতে আছে? কোনো অপরাধবোধ সে চেহারায় ছায়া ফেলেনি। নিদারুন ভালো মানুষের মত সে হাঁটা দিয়েছে!

কলেজ ছাত্রীদের কথা আলাদা। তাদের কিছু বলতে মুর্গা পুরুষরা 10 বার ভাবে। সাধু পুরুষরা ডলাডলি করবে কি, উল্টো বাস থেকে নামিয়ে তাদেরকে যে ডলা দেবার মতা কলেজ ছাত্রীরা রাখে তা সবার জানা। স্বপ্নময় খুব অবাক হয়; তার ধারনা অর্থনৈতিক অবস্থায়ই নারীদের নানামুখী সমস্যায় ঠেলে দেবার কারন। সমানাধিকার মুখে বলে ঠিকই, মিছিল মিটিং করে ঠিকই; যেখান থেকে সমানাধিকারের শেকড় সেখানেই তো বিরাট ধরা!

এ বাসে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক সব ধরনের টপিকস নিয়ে কথা ওঠে। কে বলেছে বাঙালীরা মুর্খ। 9 নম্বরে উঠলে বুঝা যায়, বাঙালীর মত জ্ঞানী মানুষ পৃথিবীতে খুব কমই আছে। তর্কে কেউ তাদেরকে হারাতে পারবে না। অসম্ভব। স্বপ্নময় গন্তব্যে খুব কষ্ট করে নামে। এর পা মাড়িয়ে, ওর শরীর ঠেসে সে বেরিয়ে আসে নরক থেকে। এটা ধরতে গেলে প্রতিদিন। অভ্যেস হয়ে যাবার কথা। কিন্তু স্বপ্নময়ের হয়ে ওঠেনি। কোনো কিছুতেই সে অভ্যস্ত নয়। মুক্ত বাতাসে শ্বাস টেনে নতুন জীবনের ঘ্রাণ পেল। শরীর এবং শরীরে জড়ানো পোষাক, দুইয়েরই দফারফা অবস্থা। আহ... 9 নম্বরের শিল্পকর্ম বলে কথা! ছবি তুলে রাখতে হবে একদিন!
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৭ বিকাল ৩:৩২
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ সুবহানার বীরত্ব

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:১০




সুবহানা খুব ছোট্ট হলেও, দারুণ মিষ্টি দেখতে,
চটপটে, বেজায় সাহসী , কেউ পারে না রুখতে।

স্কুল থেকে ফেরার পথে একদিন দুপুরবেলা
অনাথ দুটি শিশু বসে করছিল কি এক খেলা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৩৩

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

একসময় ভারতীয় কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ কিংবা বাংলাদেশের কিছু ক্ষমতাসীন নেতা এমন ভাষায় কথা বলতেন, যেন বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র নয়; বরং কোনো ছোট ভাই, আদরের বোন বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্তর্দিগন্ত

লিখেছেন মুনতাসির রাসেল, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৯



যে নদী সাগরকে ছোঁয়নি, সে-ই গায় সবচেয়ে নির্মল সঙ্গীত।
যে বৃক্ষের শাখা ফলের ভারে নত হয়নি, সে-ই আকাশকে বেশি বোঝে, বাতাসকে বেশি শোনে।

পৃথিবীর প্রাচীনতম ভ্রমগুলোর একটি এই,
মানুষ ভেবেছে প্রাপ্তিই পরিত্রাণ।

তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

Laptop Stand কেন দরকার?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৪ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৯

Laptop Stand কেন দরকার? | Digital Fast IT থেকে স্মার্ট সমাধান



দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ ব্যবহার করলে অনেকেরই একটি সাধারণ সমস্যা দেখা দেয়—ল্যাপটপের নিচের অংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। অতিরিক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমিগ্রেশনেই ধরা খেল বিএনপির কূটনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪০


ধরুন আপনার পাশের বাড়ির সাথে সম্পর্ক ভালো না। দীর্ঘদিনের পুরনো ঝামেলা, কথা বলাবলি বন্ধ, একে অপরকে দেখলে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ার অভ্যাস হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পাশের বাড়িতে একটা বৈঠক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×