অকারনে আমার মাথায় হঠাৎ রাগ চড়ে যায়। ইদানিং আমার এ সমস্যাটা হচ্ছে, বাসে, রাস্তা-ঘাটে, এখানে-সেখানে আমার অকারনে মানুষকে ঝার দিতে ইচ্ছে করে। ইচ্ছে করে কাউকে বেদম পিটিয়ে নিজেও বেদম পিটুনি খাই। তবেই হয়তো আমার কিছুটা ভালো লাগবে। কোনোমতে নিজেকে সামলে বলি, "আমার টাকায় আপনি চলেন নাকি? আরো অনেকেইতো এই বাড়ীতে থাকে তাদের কাছ থেকে নেন না কেন?" তিনি শুনে কপালে ভাঁজ ফেলেন। কিছুক্ষন চুপ থেকে অবশেষে মুখ খোলেন, যেন সাংঘাতিক গুরুগম্ভির কোন কথা বলবেন এমন ভাব নিয়ে বলেন- "দেখ আমাকে ঠকাস না; আমি বুড়ো মানুষ... আমাকেওতো চলতে হবে...।"
পড়ন্ত বিকেলের শেষে আবিদকে কাছে পেলাম। এটাকেও এতদিন মিস করেছি। অনেক বদলে গেলেও আমাকে দেখে তার চোখ পিটপিট করা অদ্ভুতুড়ে সেই রোমাঞ্চকর দৃষ্টি নিক্ষেপ সে ভোলেনি। এক দৌড়ে এসে কোলে উঠে আমাকে জড়িয়ে ধরেছে। অনেক পেকে গেছে। অথচ এইতো সেইদিনইতো ছিল এটুকুন পিচকি! আজ কত সুন্দর করে হাঁটছে, দৌড়োচ্ছে, পাকনা পাকনা কথা বলছে। অবাক লাগে।
'ভাইয়্যা আমি অনেক বড় হব, তোমার মত'
'তাই নাকিরে?'
'হুম' তারপর সেই অদ্ভুত দৃষ্টি মেলে চোখ পিটপিট করে চেয়ে থাকা।
'ওরে পাকনু তোকে বড় হতে কে বলেছে?'
'কেউ বলেনি; আমি বলো হব, তোমার মত'
'বড় হওয়া ভালো না।'
'কেনো ভালোনা?'
'বড়তে অনেক কষ্ট'
'কষ্ট কি ভাইয়্যা?'
'কষ্ট হচ্ছে- দুঃখ। তুই পড়ে গেলে দুঃখ পাসনা, অমন দুঃখ, তবে সেটা দেখা যায়না'
'কেন দেখা যায়না'
'দেখানো নিষেধ তাই'
'নিষেধ কেন?'
'বেশি প্রশ্ন করতে নেই'
ও চুপ হয়ে যায়। ঘাড়ে মাথা রেখে আমাকে জড়িয়ে রয়েছে চুপটি করে। আমি হেঁটে চলি ছাদের এপাশ থেকে ওপাশ। আমার জীবনের এক পাশে আঁধার, অন্যপাশেও ঠিক তাই। মাঝখানের অথই নিকোশ নোনা পথ ধরে ধীর পাঁয়ে হেঁটে চলেছি। গন্তব্যগুলোয় অনেক...অ-নে-ক ব্যারিকেড। আমাকে থামতে হয়, প্রমাণ দিতে হয় কে আমি? তারপর আবার কিছুটা অনুপথ, পাহাড়সম বাঁধা। আমার পথচলাটা বড় একঘেয়ে, কখনো কখনো অন্যের প্রতি নির্ভরশীল, পরজীবির মত। কখনো কখনো ছন্নছাড়া। আত্মহননের কথা কতবার ভেবেছি... কতবার...! কাপুরুষ হয়তো। বেঁচে আছি। বেঁচে আছি অনেকের ভালোবাসা ফেরত দেবার আশায়। বেঁচে আছি কিছু কল্পনাতীত প্রাপ্তির আশায়। বেঁচে আছি। কাপুরুষ... তাই বেঁচে আছি। বেঁচে রইবো। বেঁচে রইবো, নিজেকে দহনের নেশায়।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ দুপুর ২:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



