ডিমের খোসা ফেলে ডিমকে বসিয়ে তারপর কাটলাম, সবাই হাততালি, হ্যাপি বাড ডে টু হিমু মিয়া!
তারপর বড় বাক্সটা খুলে তারা কেক বের করলো। আমিতো কাটবোই না। ঐ কেক কাটা আমাকে দিয়ে হবেনা বাপু। আমি কখনোই কেক কাটি নাই, কিছু কুসংস্কার আমার মাঝে আজো রয়ে গেছে, যদিও বড় হয়েছি শহরেই। এসবের পরিবর্তন হবেনা। অগত্যা নাহিনকে দিয়ে কাটানো হলো।
রাত ৯টায় এদিক ওদিক ঘোরাঘুরি। হাসি ঠাট্টা। সবাইকে বিদায় দিয়ে নির্ঝরকে বাড়ি পৌঁছে দিলাম। ও আমার খুব পুরনো বন্ধু। ওর বাড়ির সামনে মিনিট বিশ আড্ডা দিলাম দাঁড়িয়েই দাঁড়িয়েই। নির্ঝর কথাবার্তায় দিন দিন স্মার্ট হয়ে যাচ্ছে। আমার হাত ঝাকিয়ে বললো-
: তো হিমু সাহেব, মাল্টিপ্লাগ ত্যাগ করে এইবার থেকে সিঙ্গেল প্লাগ হয়ে যান।
: কি???
: জ্বি হ্যাঁ, রানা তাল মেলায়
: আমি আবার কবে থেকে মাল্টিপ্লাগ হলাম?
: আপনি জন্মথেকেই মাল্টিপ্লাগ, আর কতদিন মানুষকে কষ্ট দিবেন?
: হুমম আর কতদিন? রানা মুচকি হাসছে
: আমি যদি মাল্টিপ্লাগ হই, তবে রানা কি?
: আমি আবার কি করলাম? রানা অবাক হয়ে যায়!
: আমি না হয় বিয়ে করি নাই, মেয়েদের জ্বালঅই, আর তুমি? বিয়ের পর পরকিয়া!!! নির্ঝর এটা ঠিক তুমিই বলো?
: উহু ঠিক না (যাক বিষয়বস্তু অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়া গেছে), নির্ঝর পন্ডিত সাজে, রানার উচিৎ না এসব করে বেড়ানো।
: আরে বাবা আমি আবার কি করলাম, রানা অভিমান দেখায়
: অ: কিছু করো নাই বুঝি? তা, ঐযে রাত দশটায় বিজয় স্মরনীতে কে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বনানী গেছিলো শুনি?
: থাক, থাক, নির্ঝর আমি যাই, রানা 'চাচা আপন প্রাণ বাঁচা' বলে পালাতে চাইছে
আমি নির্ঝরকে কিছুক্ষন বুকে জড়িয়ে থাকলাম। ছেলেটা খুবই ভালো। অতিরিক্ত ভালো। ওর নাক নিয়ে, ওর লাইফ ষ্টাইল নিয়ে এত্তো ক্ষেপাই কিচ্ছু মনে করেনা।
ফেরার পথে রাজিব বললো-
: 'কেউ-না' কেমন আছেরে? আমি মুখ বাঁকিয়ে বললাম-
: জানি নাহ।
: কি বলিস?
: যা সত্যি তাই বললাম
: আর তৃণা?
: তৃণা! এটা আবার কে?
: ঐযে চন্দ্রিমা!!!
: সেটার খবরতো তুই রাখবি
: যাই বলিস, তুই অন্য কাউকে ঠকা মেনে নিলাম, কিন্তু 'কেউ-না' কে ঠকাইস না।
: আরে ছেলে, তোর এতো দরদ কেন?
: দরদের ব্যাপার না, তাকে আমার খুব ভালো লেগেছে
: কি বলিস?
: এমন মেয়ে পাবিনা
: তোকে বলেছে? এই শুন এই আজাইরা প্রেম ট্রেম ছাড়াও দুনিয়াতে অনেক বিষয়বস্তু আছে। বাদ দেতো।
রাজিব মুখটা ছাইয়ের মত করে বললো- দোস্ত ঠিক হয়ে যা।
: জ্বালা দেখি, আমি বেঠিক কোথায়? অন্য কথা বল ব্যাটা, তোর অফিসের কি অবস্থা?
: ভালোই
: হুম
এখন বাসায়। মা'টাকে খুব মিস করছি। আর মিস করছি রাশেদকে। রাশেদ আমার ছোটবেলার বন্ধু। মারপিট করতে করতে বড় হয়েছি। গত দেড় মাস ধরে ওর সাথে আমার কথা বন্ধ হয়ে আছে। দুপুরে ফোন করে পায় নাই, রাজিবকে ফোন করে খুঁজেছে। জানি, আরো কিছুদিন পর, কলি/লাবনী বিরোধ দেখা দিলে ও আমাকে 'সরি' লিখে পাঠাবে। গাড়িটা বাড়ির সামনে দাঁড় করিয়ে বলবে বের হতে, তারপর কোলাকুলি, ঘুসাঘুসি, ঠেসাঠেসি, ইমোশন, পাগল ছেলে, আমার মতন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






