somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্যারাম থেকে হা-ডু-ডু

৩০ শে জুন, ২০০৭ দুপুর ১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাঁতার, সাইকেল থেকে দাবা খেলা, কেউ কখনো শেখাইনি আমাকে। নিজে নিজে যতটুকু পারা গেছে, ততটুকুই। সাঁতার আমি একদম ভালো পারিনা ;) সাইকেলতো একেবারেই না, দাবাটা বলা যায় একটু পারি। কারণ, জাতীয় পর্যায়ে কয়েকবার খেলেছি এবং সুখস্মৃতি আমার সর্বোচ্চ ৩ পয়েন্ত ;), ক্রিকেট, ফুটবল একদমই পারিনা। কেরামটাই যা ভালো পারি :))

ক্লাশ ফোর/ফাইভে সাইকেল ধরেছি। এলাকায় সাইকেল ঘন্টা হিসাবে ভাড়া পাওয়া যেত, প্রতি পনেরো মিনিট ২ টাকা করে। প্রথম ক'দিন বেশ কয়েকবার হাঁটু, কনুই, মাথায় আলু গজানো ছাড়া তেমন কোনো বাহারী কম্ম সাধন হয়নি। দল বেঁধে সমবয়সীরা সাইকলে রেস খেলতাম। কেউ একজন আমাকে প্রায় ধরে ফেলছে টের পেলে পেছনের চাক্কাটা কৌশলে তার সামনের চাক্কার সাথে বাজিয়ে তাকে মাটিতে ফেলে দিতাম..., নিজেও কতবার পড়েছি... । এভাবেই যখন পার হয়ে যাচ্ছে দিন ভাড়াটে সাইকেলে চড়ে... তখন হঠাৎ একদিন দাদা আমাকে ডেকে ৩৫০০ টাকা ধরিয়ে দিলেন এবং কখনো আর আমাকে কিছু কিনে দেবেন না মর্মে চুক্তি সম্পাদন করালেন ;) অষ্টম ক্লাশ পাশ করে বেকার ছিলাম তখন। বন্ধুকে সাথে নিয়ে বংশাল থেকে ৩১০০ টাকা দিয়ে এম.টি.ভি সাইকেল কিনে নিয়ে আসলাম। এবার বড় রেস, তাই ঝুলিতে বড় দুর্ঘটনা। একবার এক দুধওয়ালাকে বাঁচাতে গিয়ে জঙ্গলে ঢুকে গেলাম, লতাগুল্ম, কাঁদা মাটি মাখামাখি এ ফাঁকে বোলতার হুল খেলাম চোখের উপর, নাকে, মুখে... আজাব... চেহারার বারোটা!!! এক সপ্তাহ বাইরে বের হতে পারলাম না।
আরেকদিন বৃষ্টিতে মাখামাখি রাস্তায় রেস হচ্ছিলো। একটা রাস্তার মোড় ঘুরতে গিয়ে জমাট পানিতে চাক্কা পিছলে এমন জোরে পড়লাম... গতির কারনে ছ্যাচড়ে অনেকদূরের ওয়ালে গিয়ে বাড়ি খেলাম, মাথায় আলু, হাঁটু কেটে সাদা মাংস দেখা যাচ্ছে, কনুইয়েরও একই অবস্থা, বারোটা বারোটা। ৩/৪ দিন দাদায় সাইকেলে তালা বন্ধ করে রাখলেন।
আরেকবার চোদ্দ নাম্বার ক্যান্টনমেন্টের রাস্তা দিয়ে আসছিলাম। গতি ভালোই, সামনের মোড়ে এসে দেখলাম 'উড়োজাহাজ' (ট্যাম্পুর মত, তবে প্রচুর শব্দ হতো বলে আমরা এর নাম দিয়েছিলাম উড়োজাহাজ, কেউ কেউ ভটভটি নামে ভালো চিনে) তার বিশাল নাকটা এগিয়ে দিয়েছে মোড় ঘুরবে বলে, আমি ব্রেক চেপে ধরেছি দাঁত মুখ খিচে। কোন কাজই হলো না। এক্কেবারে নাকে নাকে ঠোকাঠুকি। আমি উড়োজাহাজটার উপর দিয়ে রাস্তার ওপারে প্রায় উড়ে গেলাম, চারদিকে হইচই, আমার সাইকেলের একাংশ উড়োজাহাজের ওপারে, এপারে আমি, সামনেই আমার সাইকেলের সামনের চাক্কা লাফিয়ে লাফিয়ে ছুটছে। আমি উঠতে পারলাম না, ভাবলাম ইন্তেকাল করিতেছি।
সেদিন মরি নাই মনে হয় ;) আরো কিছু ছোট/বড় দুর্ঘটনা, আমার হাতের দুই কনুই, পায়ে, পাঠে, মাথায় বৈশিষ্ট্য হয়ে ফুটে আছে।

ক্রিকেটে প্রথম দিকে ব্যাটসম্যান ছিলাম। স্কুল টুর্নামেন্টে হয়ে গেলাম মিডিয়াম পেসার। ভালো ফিল্ডিং দিতাম বলে সবসময় লেগ সাইডের বাউন্ডারী লাইনে দোড়াদুড়ি করতে হতো। বাংলাদেশের সব ব্যাটসম্যানই লেগ সাইডে শট খেলতে পছন্দ করে, আমার ধারনা। কলেজ পযর্ন্ত বেশ ভালো গতিতে বল করে এসেছি। হঠাৎ একদিন আমার হাতের গোড়ায় টস করে একটা শব্দ হলো, ব্যাথায় বসে গেলাম, দুয়েকদিন পর সুস্থ্য হয়ে গেলেও আবিস্কার করলঅম, আগের মত আর বল করতে পারছি না, যত জোরে বল করি ততই হাতের তালু ঝিনঝিন করছে, ব্যাথায় বসে পড়তে হচ্ছে... বুঝতে অসুবিধে হলো না যে, আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ার এখানেই ফিনিস।

ফুটবলে খেলতাম ডিফেন্সে। ছোট বেলায় সিটি ক্লাবে নিয়মিত খেলেছি। সেই সুবাদে দম একদম মন্দ ছিলোনা। ডিফেন্সার, তাই নির্দেশ ছিলো- যেকোন একজনকে ধরে রাখতে হবে... হয় বল, নতুবা প্লেয়ার। আমার শরীরের তুলনায় দ্বিগুন মানুষকে কতবার মাটিতে ফেলে দিয়েছি, কতবার মারপিট, কতবার ঠোঁট ফাটিয়ে বাসায় এসেছি... গণার বাইরে। একদিন হয়ে গেলাম মিড ফিল্ডার। রোমান্সে বুদবুদ ছিলাম :) ইচ্ছেমত সব কিছু ডাইভার্ট করা যায়। এটাক করা যায়, ডিফেন্স করা যায়, দৌড়াদুড়ি করতে করতে জানটা শেষ করে... সন্ধ্যায় ভাবতাম... ইস নয়ন ভাইকে বলটা না দিয়ে সোহাগকে দিলে গোলটা হতোই হতো। নিজে গোল করেছি খুব কম, গোলের চেয়ে বল সার্ভ করতে আমার বেশি ভালো লাগতো।

হকি খেলেছি ক্লাশ এইট থেকে নাইন পর্যন্ত। বর্ণক ক্লাবের ফ্রি কোচিং যতদিন ভালো লেগেছে ততদিনই খেলেছি, কখনো বাইরের কোনো টুর্ণামেন্টে খেলিনি। কুঁজো হয়ে খেলতে হয় দেখে এই খেলা আমার কখনোই পছন্দের তালিকায় ছিলো না।
জগতের সব খেলা পারবো কিন্তু কেরাম পারবো না। কেরামের কথা শুনলেই আমার কান্না আসে। পারিনা একেবারেই। রাশেদ/ নির্ঝরদের সাথে খেলতে নামি নিল বাঁচানোর চিন্তা মাথায় রেখে অথবা ওরা যখন বলে, তোকেতো ৩ বোডেই গেম দিয়ে দিবো, তখন মাথা গরম করে বলি, "আমার আত্মবিশ্বাস আছে, তুই ৫ বোডের আগে গেম দিতে পারবি না"। কখনোই ওদের গেম দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নামি না। আমি আসলে কেরাম কখনো খেলিনি। জীবনে ১৫/১৬ বারের মত খেলেছি।

সাঁতার?
উহু এদমই পারিনা ;)

এসব খেলা নিয়ে আমার কখনোই কোনো দীর্ঘমেয়াদী স্বপ্ন ছিলোনা। এটা খেলা তাই খেলি, এটা দিয়ে টাকা বানানো যায়, সম্মান আনা যায় এমন স্বপ্নের প্রতি কখনোই আগ্রহ জন্মেনি। ক্রিকেটে অনির্বান পর্যন্ত দৌড় ছিলো, ফুটবলে বহু টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেও কখনোই মনে হয়নি থার্ড ডিভিশনের জন্য নিজেরে প্রস্তুত করতে হবে... রেকেটে রেফারেন্সের হাত ধরে জাতীয় পর্যায়ে খেলা কোনো ব্যাপার না, কিন্তু ভাবিনি কখনো এই খেলা ভালো খেলি।

হাডুডু, লুডু, কানামাছি ভৌ ভৌ, চোর পুলিশ, আইস ওয়াটারকেই মনে করি পৃথিবীর সেরা সেরা খেলা ;) ভাগ্গিস এসব খেলা ছিলো- না থাকলে মহিলারা যে তুমুল কান্ড ঘটিয়ে ফেলতো... এটা নিশ্চিত
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুলাই, ২০০৭ দুপুর ১:০২
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা ভয়ংকর

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!

শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০১


জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

আমাদের দৃষ্টিতে, তথাকথিত "জুলাই" বাংলাদেশের জন্য কোনো গৌরবের অধ্যায় নয়; বরং এটি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাংগুক অচলায়তন

লিখেছেন মাসুদ রানা শাহীন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৯


ভয় পাবেন না
আশার পিদিম জ্বালিয়ে রাখুন
প্রাণের ধুকপুকি জাগিয়ে রাখুন
হেরে যাবেন না।

ঘাবড়াবেন না
নতুন স্বর ও সাহসী উচ্চারণে অনবদ্য হোন
ক্ষুরধার সৃষ্টির ঔজ্জ্বল্যে উদ্ভাসিত হোন
থামবেন না।

নগদমূল্যে বিকোবেন না
ক্লান্ত শিরায় নতুন রক্ত বইয়ে দিন
তাতিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতিসত্তার পরিচয়ের বাজার

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:২১

ইতিহাসে কোনো আদর্শ সত্যিকার অর্থে মরে না। সে শুধু নাম বদলায়, পরাজিত আদর্শেরও পুনর্জন্ম হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ একটি আসনও পায়নি। কিন্তু সেই রাতে মুসলিম লীগ মরেনি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×