somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিটলামি!

২২ শে মার্চ, ২০০৬ দুপুর ১২:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

---> হ্যালো...
---< হেলেছি, এবার জলদি বলে ফেল। বেশিক্ষন হেলে থাকতে পারুম না, জরুরী কাজে ব্যস্ত আছি।
---> অ... ঠিক আছে এবার সোজা হ। তারপর বল, কি করছিস? নতুন কোনো গবেষণা?
---< নাহ্ ব্যাটা। সময় আছে নাকি? চোখের ব্যায়াম করতাছিলাম। কিন্তু আজ বেশি পাখি দেখা যাচ্ছে না।
---> হুম... নতুন মাতলামি! পাখি কই পাবিরে বেকুব? তোদের ওখানেতো বৃক্ষই নাই...!

---< আহা... আছে, আছে, তোরা দেখিস না... এই আরকি? দেখবি কিভাবে বল, তোদের কাছে তো আমার মত পাওয়ারফুল বাইনোকুলার নাই। দুঃখ করিস না, তুই আইসা পড়... তোরেও দেখামু... পাখিদের রঙ... শরীরের ভাঁজ... ক্যাটস ওয়াক... চুল শুকানো সাতরঙি রোদ্রু... জোস জোস ঐ তুই রাখ এবার; নতুন একটা কঠিন পাখি পাইছি... মনটা ভালো কইরা লই...

---> আজব চিড়িয়া? এই ব্যাটা ফোন কি তুই করেছিস নাকি...?
---< সরি দোস্ত, রাগ করিস না। মনটা ভালো না। মলি'র সাথে দিনকাল ভালো যাচ্ছে না।
---> ও তাহলে এই ব্যাপার, চিন্তা করিসনা এটাও আগেরগুলোর মত তেমনই একটা মৌসুমী মাকাল ফল। তুই যেমন- পাবিও তেমন। সহজে পাওতো, গায়ে লাগে না।
---< কি বলতে চাস, সোজাসুজি বইলা ফ্যালা। তোর কথার কোন দাম আছে নাকি যে মাইন্ড করুম।
---> লোল, তোর মাইন্ড আছে নাকি? ইয়াকুবের বাচ্চা আমার নাম্বার কাউকে দেস নাইতো?

---< তোর আর আমাদের পাড়ার নুনু পাগলার মাঝে কোনো তফাৎ নাই। তোর মোবাইল নাম্বার দিয়া নিজের প্রেস্টিজ পাংচার করুম? তুই আমারে এতই বেকুব ভাবিস?

---> হুম, তোর বাইনোকুলারে আসলেই পাওয়ার আছে। শুন ব্যাটা, কাল রাত 3.00টার দিকে একজন অপরিচিতা ফোন করে বললো-

হ্যালো এটা কি রং নাম্বার?
আমি ঘুম জড়ানো কণ্ঠে বললাম- নিশ্চয়ই তাই!
তাহলে রেখে দিলাম...

---< তারপর, তারপর কি হলো?
---> কি আর হবে, রেখে দিল। এদিকে আমি হাবুল হইয়া শুয়ে আছি। বাকী আধ ঘন্টা চোখে ঘুমই এলো না। ঘুম যখন এল, তখন আবার রিং। রাত 4.30মিনিটে বললো-

হ্যালো, এটা কি পাবনার মানসিক হাসপাতাল?
আমি দৃঢ় কন্ঠে বললাম- নিশ্চয়ই না!
সে বললো- ও, তাহলে রেখে দেই...

---< তারপর, তারপর কি বললি?
---> কি বলবোরে বেকুব, মুখ দিয়ে কিছু বের হওনের আগেইতো রেখে দিল...
---< আহারে... কিন্নরকন্ঠী ছিল বুঝি? হা হা হা। শুন টেনশন করিস না... আমি তোকে কিভাবে কথা কইতে হয় শিখায়া দিমু...
---> শালার ভাই, তোর মত লুই... (সেন্সর করা হইলো) নাকি আমি। তোর চেয়ে ভালোই কথা বলতে জানি। সেদিনের বৈরাগী, আসমানরে কয়- সখিনার ছাদ...!

---< আহা মুখ খারাপ করতে নাই, ব্লাড প্রেসার নাকি মাথায় উঠে যায়!
---> ক্যাবলার নাতি, ব্লাড প্রেসার মাথায় উঠে ক্যামনে?
---< চিনলি না, তোর প্রিয় বন্ধুকে আজও চিনতে পারলি না। তোকে টেস্ট করলাম। তাতে তুই পাশ করেছিস।
---> অ। ঠিক আছে। এবার ঝটপট বলে ফেল মলির কাহিনী, কি হয়েছিল?
---< আর বলিস না, মেয়েটা ম্যাদামারা। প্রথম যেদিন দেখলাম- সেদিন মনে হলো- সুচিত্রা সেন। এখন সে ভুল ভেঙ্গেছে। ওটাকে কুচিত্রা বললে ভুল হবে। কু কু কু...।

---> কাহিনি জটিল... কিভাবে কাট পেষ্ট করলি? তুইও যেমন; কিছু করিস নাইতো? আই মিন, প্রেমটা কেমন ছিল- ছোঁয়াছুঁই খেলা খেলিসনিতো?
---< হে হে হে তা আর বলতে, কয়েকবার সাইবারে নিয়ে গেছিলাম। দুইবার বোটানিতে। আর বার কয়েক বুদ্ধিজীবিতে।
---> তোর যা রুচি, কবরস্থানে কেউ ডেটিং মারে?
---< মারে মারে, মনে রাখিস- মরা মানুষরা প্রেমের ডাঙ্গুলী খেলায় বাঁধা দিতে আসে না।
---> আসল কথাতো বললি না, কিভাবে কেটেছিস?
---< কাটিনিতো, খোদ নিজেই কেটে বেরিয়ে গেছে। আমাকে দুইদিন দুই জনের সাথে দেখে একদিন ওয়ার্নিং দিলো- নো মোর ফষ্টিনষ্টি উইথ দেম।

---> তারপর তুই কি করলি?
---< ঐ দুইজনকে বাদ দিয়ে অন্য একজনকে নিয়ে করা শুরু করলাম... হা হা হা।
---> তোর উপর মেয়েদের বদ-দোয়ার গজব পড়বো দেখে নিস। সময় থাকতে নিজেকে সামাল দে।
---< যা যা, জ্ঞান দিতে আছিস না...
---> ক্যা এখন ভালো লাগছে না। শয়তান যখন নরকে তোর পাঁচায় গরম শিক দিয়া গুতা দিবো, তখন বেরিয়ে যাবে তোর সব ফষ্টিনষ্টি...
---< ঐ ব্যাটা মুখটা বন্ধ করবি, নাকি রেখে দেব? খোদা কোন পাগলের পাল্লায় ফ্যালাইলা?
---> খোদাকে ডাকিস না, শয়তানকে ডাক। খোদাতো তোকে ছেঁকা দিব না, দিব ইবলিশ শয়তানে।

ওপাশ থেকে টু টু শব্দ ভেসে এল। আমি মুশকি হেসে আয়েশ করে মানুষ দেখতে লাগলাম। কেউ দেখে পাখি, কেউ মানুষ...। দৃষ্টিভঙ্গির বিচিত্র রঙ...।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৭ বিকাল ৩:৪৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আমার মন খারাপ, ফুল দিয়ো=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৮



অকারণে মন ভালো না আজ
তুমি কোথায়?
এসো এক গুচ্ছ রঙ্গন নিয়ে
বাঁধো আমায় ভালোবাসার সুতায়।

অকারণে ভালো লাগে না কিছু;
তুমি কই গেলে?
রক্ত রঙ ফুল নিয়ে এসো;
উড়ো এসে মন আকাশে - প্রেমের ডানা মেলে।

কী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫


সূর্যমুখী
অন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : রাধাপদ্ম, সুরজমুখী (হিন্দি)
সংস্কৃত নাম : আদিত্যভক্তা, সূর্যকান্তি, সূর্যকান্তিপুষ্প
Common Name : Sunflower, Common sunflower
Scientific Name : Helianthus annuus

সূর্যমুখী একটি বর্ষজীবী ফুলগাছ। সূর্যমুখীকে শুধু ফুলগাছ বলাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে

লিখেছেন আরোগ্য, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২১

গতবছর এই মে মাসের ১৭ তারিখেই আমার চোখের প্রশান্তি, আমার কর্মের স্পৃহা, আমার জননী এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ও আমাদের কাছ থেকে মহান রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আব্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

×