---< হেলেছি, এবার জলদি বলে ফেল। বেশিক্ষন হেলে থাকতে পারুম না, জরুরী কাজে ব্যস্ত আছি।
---> অ... ঠিক আছে এবার সোজা হ। তারপর বল, কি করছিস? নতুন কোনো গবেষণা?
---< নাহ্ ব্যাটা। সময় আছে নাকি? চোখের ব্যায়াম করতাছিলাম। কিন্তু আজ বেশি পাখি দেখা যাচ্ছে না।
---> হুম... নতুন মাতলামি! পাখি কই পাবিরে বেকুব? তোদের ওখানেতো বৃক্ষই নাই...!
---< আহা... আছে, আছে, তোরা দেখিস না... এই আরকি? দেখবি কিভাবে বল, তোদের কাছে তো আমার মত পাওয়ারফুল বাইনোকুলার নাই। দুঃখ করিস না, তুই আইসা পড়... তোরেও দেখামু... পাখিদের রঙ... শরীরের ভাঁজ... ক্যাটস ওয়াক... চুল শুকানো সাতরঙি রোদ্রু... জোস জোস ঐ তুই রাখ এবার; নতুন একটা কঠিন পাখি পাইছি... মনটা ভালো কইরা লই...
---> আজব চিড়িয়া? এই ব্যাটা ফোন কি তুই করেছিস নাকি...?
---< সরি দোস্ত, রাগ করিস না। মনটা ভালো না। মলি'র সাথে দিনকাল ভালো যাচ্ছে না।
---> ও তাহলে এই ব্যাপার, চিন্তা করিসনা এটাও আগেরগুলোর মত তেমনই একটা মৌসুমী মাকাল ফল। তুই যেমন- পাবিও তেমন। সহজে পাওতো, গায়ে লাগে না।
---< কি বলতে চাস, সোজাসুজি বইলা ফ্যালা। তোর কথার কোন দাম আছে নাকি যে মাইন্ড করুম।
---> লোল, তোর মাইন্ড আছে নাকি? ইয়াকুবের বাচ্চা আমার নাম্বার কাউকে দেস নাইতো?
---< তোর আর আমাদের পাড়ার নুনু পাগলার মাঝে কোনো তফাৎ নাই। তোর মোবাইল নাম্বার দিয়া নিজের প্রেস্টিজ পাংচার করুম? তুই আমারে এতই বেকুব ভাবিস?
---> হুম, তোর বাইনোকুলারে আসলেই পাওয়ার আছে। শুন ব্যাটা, কাল রাত 3.00টার দিকে একজন অপরিচিতা ফোন করে বললো-
হ্যালো এটা কি রং নাম্বার?
আমি ঘুম জড়ানো কণ্ঠে বললাম- নিশ্চয়ই তাই!
তাহলে রেখে দিলাম...
---< তারপর, তারপর কি হলো?
---> কি আর হবে, রেখে দিল। এদিকে আমি হাবুল হইয়া শুয়ে আছি। বাকী আধ ঘন্টা চোখে ঘুমই এলো না। ঘুম যখন এল, তখন আবার রিং। রাত 4.30মিনিটে বললো-
হ্যালো, এটা কি পাবনার মানসিক হাসপাতাল?
আমি দৃঢ় কন্ঠে বললাম- নিশ্চয়ই না!
সে বললো- ও, তাহলে রেখে দেই...
---< তারপর, তারপর কি বললি?
---> কি বলবোরে বেকুব, মুখ দিয়ে কিছু বের হওনের আগেইতো রেখে দিল...
---< আহারে... কিন্নরকন্ঠী ছিল বুঝি? হা হা হা। শুন টেনশন করিস না... আমি তোকে কিভাবে কথা কইতে হয় শিখায়া দিমু...
---> শালার ভাই, তোর মত লুই... (সেন্সর করা হইলো) নাকি আমি। তোর চেয়ে ভালোই কথা বলতে জানি। সেদিনের বৈরাগী, আসমানরে কয়- সখিনার ছাদ...!
---< আহা মুখ খারাপ করতে নাই, ব্লাড প্রেসার নাকি মাথায় উঠে যায়!
---> ক্যাবলার নাতি, ব্লাড প্রেসার মাথায় উঠে ক্যামনে?
---< চিনলি না, তোর প্রিয় বন্ধুকে আজও চিনতে পারলি না। তোকে টেস্ট করলাম। তাতে তুই পাশ করেছিস।
---> অ। ঠিক আছে। এবার ঝটপট বলে ফেল মলির কাহিনী, কি হয়েছিল?
---< আর বলিস না, মেয়েটা ম্যাদামারা। প্রথম যেদিন দেখলাম- সেদিন মনে হলো- সুচিত্রা সেন। এখন সে ভুল ভেঙ্গেছে। ওটাকে কুচিত্রা বললে ভুল হবে। কু কু কু...।
---> কাহিনি জটিল... কিভাবে কাট পেষ্ট করলি? তুইও যেমন; কিছু করিস নাইতো? আই মিন, প্রেমটা কেমন ছিল- ছোঁয়াছুঁই খেলা খেলিসনিতো?
---< হে হে হে তা আর বলতে, কয়েকবার সাইবারে নিয়ে গেছিলাম। দুইবার বোটানিতে। আর বার কয়েক বুদ্ধিজীবিতে।
---> তোর যা রুচি, কবরস্থানে কেউ ডেটিং মারে?
---< মারে মারে, মনে রাখিস- মরা মানুষরা প্রেমের ডাঙ্গুলী খেলায় বাঁধা দিতে আসে না।
---> আসল কথাতো বললি না, কিভাবে কেটেছিস?
---< কাটিনিতো, খোদ নিজেই কেটে বেরিয়ে গেছে। আমাকে দুইদিন দুই জনের সাথে দেখে একদিন ওয়ার্নিং দিলো- নো মোর ফষ্টিনষ্টি উইথ দেম।
---> তারপর তুই কি করলি?
---< ঐ দুইজনকে বাদ দিয়ে অন্য একজনকে নিয়ে করা শুরু করলাম... হা হা হা।
---> তোর উপর মেয়েদের বদ-দোয়ার গজব পড়বো দেখে নিস। সময় থাকতে নিজেকে সামাল দে।
---< যা যা, জ্ঞান দিতে আছিস না...
---> ক্যা এখন ভালো লাগছে না। শয়তান যখন নরকে তোর পাঁচায় গরম শিক দিয়া গুতা দিবো, তখন বেরিয়ে যাবে তোর সব ফষ্টিনষ্টি...
---< ঐ ব্যাটা মুখটা বন্ধ করবি, নাকি রেখে দেব? খোদা কোন পাগলের পাল্লায় ফ্যালাইলা?
---> খোদাকে ডাকিস না, শয়তানকে ডাক। খোদাতো তোকে ছেঁকা দিব না, দিব ইবলিশ শয়তানে।
ওপাশ থেকে টু টু শব্দ ভেসে এল। আমি মুশকি হেসে আয়েশ করে মানুষ দেখতে লাগলাম। কেউ দেখে পাখি, কেউ মানুষ...। দৃষ্টিভঙ্গির বিচিত্র রঙ...।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৭ বিকাল ৩:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



