somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হয়তো একদিন ...

০৬ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ১২:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


একটা ছোট গল্প বলি । গল্পটা হয়তো অনেকেই জানেন । তবুও আবার বলছি-

তিনবন্ধু বাংলাদেশের কোন বাড়িতে একসাথে খেতে বসেছেন । একজন আমেরিকান, একজন ভারতীয় এবং আরেকজন বাংলাদেশী । বাংলাদেশী বন্ধুটি খুব শখ করে তার অন্য বন্ধুদের বাঙ্গালী রসগোল্লা এনে দিল । সে আবার ইংরেজি জানতো না । তো আমেরিকান ভদ্রলোক ভারতীয়কে মিষ্টির দিকে ইঙ্গিত করে বললো-এটা কি? সে তাচ্ছিল্লের সাথে ইংরেজিতে উওর দিলো-এটা নাকি বাংলাদেশী সংস্কৃতি । আবার জিজ্ঞেস করলো-এটা কিসের তৈরি? সে বললো-এটা বাসি, পচা, নষ্ট দুধ হতে তৈরি করা হয় । তাই এটা বিষাক্ত । বাংলাদেশী বন্ধুটি ওদের কথা এক বর্ণ ও বুঝতে পারলো না কিন্তু কৌতুহল বোধ করলো । ভারতীয়টি আবার বাংলা জানতো । সে বললো- আমেরিকান ভদ্রলোক বলেছেন তোমার খাবার বিষাক্ত । তুমি আমাদের মেরে ফেলার জন্য এসব বিষাক্ত খাবার খেতে দিয়েছো । এগুলো পরীক্ষা করতে হবে। এই বলে সে সব মিষ্টি গুছিয়ে নিয়ে নিজের কর্মক্ষেএের উদ্দেশ্যে চলে গেল এবং যাওয়ার পথেই টপাটপ সব রসগোল্লার রস আস্বাদন করলো । রসগোল্লার লোভ সামলাতে না পেরে এই অবস্থা । সবাই চলে গেলে বাংলাদেশী বন্ধুটি অপরাধীর মত মুখ করে বসে রইলো । সে ধরেই নিল মিষ্টিতে আসলেই কোন ভেজাল ছিল ।

বুঝুন তাহলে । শুধুমাএ ভাষা জানা না থাকলে কোথাকার পানি কোথায় গড়ায়!!!

আমরা বাংলাদেশীরা কারো চাইতে কোন অংশে কম নই । মেধা, বুদিধ, সততা, পরিশ্রম করার ইচ্ছা সবকিছু মিলিয়ে আমরা অনেকের চাইতেই এগিয়ে আছি । কিন্তু আমরা বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর সামনে নিজেদেরকে তুলে ধরতে পারছি না । উপস্থাপন করতে পারছি না নিজেদের যোগ্যতা । নিজেদের যোগ্যতা যদি নিজেরা দেখাতে না পারি তবে নিশ্চয়ই তা অন্য কেউ বলে দেবে না । অন্যান্য দেশের সামনে নিজেদেরকে মেলে ধরতে হলে আমাদেরকে আন্তজর্াতিক কোন ভাষার সাহায্য নিতে হবে । সে হিসেবে ইংরেজির কোন বিকল্প নেই ।

ইংরেজি ভাষা শেখা মানে বাংলাকে ভুলে যাওয়া নয় । বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্যকে ভুলে যাওয়া নয় । একুশে ফেব্রুয়ারিকে ভুলে যাওয়া নয় । কিংবা শাঁড়ি ছেড়ে ওয়েস্টার্ন পোশাকে নিজেকে সজ্জিত করা নয় । ইংরেজি আমাদেরকে ভালো ভাবে শিখতে হবে, কারণ আমরা বাংলাকে ভালোবাসি, বাংলাদেশকে ভালোবাসি । বাংলাদেশী হিসেবে বাংলাকে ধারণ করতে চাই । বাংলাকে পৃথিবীতে স্থান দিতে চাই । নিজের দেশ ও জাতিকে উপড়ে ওঠাতে চাই । নিজের দেশের উন্নতি চাই । নিজেদের উন্নয়ন করতে চাইলে নিজেদেরকে মেলে ধরতে হবে সবার সামনে । আর সেটার জন্য জানতে হবে ইংরেজি । কেননা আর কোন আন্তজর্াতিক ভাষা নেই যা দ্্বারা নিজেদেরকে সবার সামনে উপস্থাপন করা যাবে ।

বাংলাদেশী ছাএ বা শিক্ষকরা মেধা, মনন কেনটাতেই পিছিয়ে নেই । বরং অনেক ক্ষেএেই বাংলাদেশী ছেলেমেয়েরা পাশ্ববতর্ী ভারত বা পাকিস্তান থেকে অনেক অগ্রগামী। কিন্তু এত অগ্রগামী হয়েও কোন লাভ হয়নি । শুধুমাএ ভাষাগত অদক্ষতার কারণে বাংলাদেশীরা ভারত থেকে অনেক পিছিয়ে পড়ছে । যে কোন কাজে আমাদেরকে ভারতীয়দের অধীনস্থ হিসেবে কাজ করতে হয় । অন্যান্য দেশগুলোতে বাংলাদেশী ছাএদেরকে ভারতীয় ভেবে ুল করা হয় । পরিচিত করা হয় ভারতীয় হিসেবে । কি দুংখজনক ! ভারত ও পাকিস্তানের মিডিয়া বাংলাদেশ থেকে অনেক অগ্রগামী । তাই তারা নিজেদের দক্ষতা, প্রযুক্তিযেভাবে বিশ্ব দরবারে উপস্থাপন যে ভাবে করছে, আমরা তা পারছি না শুধুমাএ ভাষাগত অদক্ষতার কারণে ।
আমরা ভারতীয়দের মত অতটা চটপটে নই । ওরা যে ভাবে যে কোন প্রশি্নর উওর স্বাচ্ছন্দের সাথে দিতে পারে, আমরা তা পারি না । এ সংকোচ ও ব্যর্থতা আমাদের দূর করতে হবে । ইংরেজিতে পারদশর্ী হ েহবে ।

আমরা কি বলতে চাই বা বোঝাতে চাই তা অন্যরা আমাদের ভাষা শিখে শুনতে আসবে না ।এ দায়িত্ব আমাদেরকেই নিতে হবে । আমরা বিশ্বের যে কোন দেশের মনচে দাড়িঁয়ে চিৎকার করে একুশে ফেব্রুয়ারির দিন জানিয়ে দেব আমাদের এই গৌরবময় ভাষার কথা । জামদানি শাঁড়ি পড়ে হেঁটে গেলে কেউ যেন ভারতীয় ভেবে ভুল না করে। কারণ জামদানি শাঁড়ি বাংলাদেশী ঐতিহ্য আর এটা আমাদেরকে জানিেেয় দিতে হবে। আমরা যে আলাদা একটা জাতি, আলাদা একটা দেশ তা সবাইকে বোঝাতে হবে । নিজেদের যোগ্যতাকে কাজে লাগাতে হবে । আর তার জন্য ইংরেজিতে দক্ষতা এবং উচ্চস্বরে বলতে পারার সাহস থাকাটা অপরিহার্য ।

হ্যাঁ জাপান, ফ্রানেসর মত কিছু দেশ আন্তজর্াতিক ভাষা (ইংরেজি) কে অগ্রধিকার না দিয়েও অনেক উন্নতি করেছে । ওরা কারো মুখাপেক্ষী নয় । কিন্তু ওদের যা আছে বা ছিল আমাদের তা নেই । তাই বাংলাদেশীদের সর্বক্ষেএে সামনে এগিয়ে যেতে হলে ইংরেজি শিখতে হবে । এর কোন বিকল নেই । তবে অবশ্যই বাংলাকে ভুলে গিয়ে নয়। বাংলায় দক্ষতা অর্জন না করেই নয় ।

বিশ্বের বুকে নিজেকে, নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে অন্য ভাষার সহযোগিতা নিতেই হবে । আমার যোগ্যতায় আমি সবকিছু জয় করে নেব । কারো করুণা বা দয়ায় নয় । বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে জয়ী করবার মানসিকতা ও অদম্য সাহস আমাদের সবারই থাকা উচিত । কেননা শুধু ভাষা জানা থাকলেই আপনার কাজ শেষ হয়ে যাবে না । আপনার দেশ ও জাতি কে, বিশ্বের অন্যান্য দেশকে আপনার জানা-অজানাটাকেও জানাতে হবে । একদিন হয়তো আমরা সবাই এক হয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বের সবার সামনে গর্ব সহকারে তুলে ধরবো । হয়তো সেদিন আর বেশি দূরে নয়, হয়তো বা তা অনেক দূরের । জানিনা সেটি কবে । তবুও মনে প্রশ্ন জাগে, সে দিনটি আদৌ কি কখনো আসবে???
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ১২:০৭
১৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাসাগরের ধারের সেই ছোট্ট দ্বীপ সামোয়া এবং বিশ্বকাপ ফুটবল

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩২

বিশ্বকাপের এই মৌসুমে ফুটবল নিয়ে একটা দারুণ হার্ট লিফটিং মুভি দেখে ফেললাম - "Next Goal Wins"
গল্পটা আমেরিকান সামোয়ার জাতীয় ফুটবল দলকে নিয়ে। ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩১-০ গোলে হেরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমা-গান-খেলাধুলা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ২:১৭

আইন সমাজ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নয়। আইন দৃশ্যমান, প্রতিরোধযোগ্য। সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো মানুষকে নিজেই নিজের আনন্দ নিষিদ্ধ করতে শেখানো। জীবন থেকে আনন্দের উচ্ছেদ ঘটানো। এই কাজটি বাংলাদেশে গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতি বছর জুলাই আসলেই কি কাউয়া ক্যাচাল লাগতে হবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:৫০


জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা ভয়ংকর

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!

শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×