somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশ, স্বাধীনতা এবং ...

২৭ শে মার্চ, ২০০৬ ভোর ৫:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গতকাল ছিল 26শে মার্চ । আমাদের স্বাধীনতা দিবস । সকল বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রীয় মযর্াদার সাথেই দিনটি পালন করা হয় । অনেক ভাষণ, নীতি কথা এবং সুন্দর সুন্দর বুলি শোনানো হয় । কিন্তু যাদের ত্যাগে এই স্বাধীনতা আর ইচ্ছেমত সবার এত মতামত প্রদানের সুযোগ , সেই শহীদদের জন্য কে কি ই বা কতটুকু করেছে? যেটুকু করা হয়েছে বা হচ্ছে তার বেশির ভাগই লোক দেখানো নয় কি? আদৌ কি আমরা কিছু করতে পেরেছি বা করতে চেয়েছি? মুখে মুখে অমরা সবাই অনেক বড় বড় কথা বলি কিন্তু সত্যিকার অর্থে সেসব বুলি অমাদের দেশের জন্য কোন কল্যাণ বয়ে আনে না । শুধুই বলার জন্যে বলা । মুক্তিযোদ্ধারা দেশকে কতটা তীব্রভাবে অনুভব করতে পেরেেিলন যে তারা নিজেদের জীবন, যৌবন, বেঁচে থাকা সব কিছুকে ভুলে শুধুমাএ একটি পরাধীন দেশকে স্বাধীনতা এনে দিতে চেয়েছিলেন । বলতে অনেক কষ্ট হলেও বলতে হচ্ছে আমরা আসলে স্বাধীনতা পাই নাই । স্বাধীনতা মানে তো স্ব- স্ব- অধীনতা । আমরা আজো এই দেশকে স্বাধীন ভাবতে পারি না । আজো আমাদের মনে পরাধীনতার ভয় । কেননা লক্ষ লক্ষ শহীদের অজস্ররক্তের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, আমরা তা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছি । এই ব্যর্থতা কারো একার প্রাপ্তি নয়, এ ব্যর্থতা সমগ্র জাতির ।

শহীদদের সংখ্যা টা নিযুতের ঘরে । লক্ষাধিক শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা আমরা পেয়েছি সেই স্বধীনতার কতটুকু মূল্য এখনো পর্যন্ত দিতে পেরেছি বা দিয়েছি? আমরা যারা জন্মের পর থেকেই একটি স্বাধীন দেশের অধীনে বড় হয়েছি তারা সেই সব সংগ্রামী মানুষদের কষ্ট এবং স্বাধীনতা অর্জনের জন্যে যে ত্যাগ তারা দিয়েছেন তা অনেকাংশেই উপলব্ধি করতে পারবো না । বলতে গেলে কিছুই পারবো না বা পারি না। কিন্তু যেই উদ্দেশ্যে ওরা দেশকে স্বাধীন করেছিলেন , সেটাও সফল হয় নি । এই যে একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েও আমরা নিজেরা এত ব্যর্থ, এত পরাধীন সেই লজ্জা টা কার? জাতি হিসেবে আমরা গর্বিত, কিন্তু একটা স্বধীন দেশ হিসেবে ঠিক ততটাই লজ্জিত । আমরা বিশ্বে ইতিহাস তৈরি করি পরপর দুর্ণীতিতে প্রথম হয়ে । স্বাধীনতা কি এর জন্যই? আমরা সন্ত্রাসী দেশ হিসেবে পরিচিত হই । আমরা ঘর থেকে বের হই ভয় ও আতঙ্ক নিয়ে, কেননা আবার ফিরে আসতে পারবো কিনা সেটা তো জানা নেই । যারা দেশকে স্বাধীনতা এনে দিল, তারা তাদের প্রাপ্য পায় নি , উপরূন্ত শুনতে হয় ধিককার । ভূয়া মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট নিয়ে নিজেদের ফায়দা আদায় ! অনেকেই করছেন । আর যারা এতকিছু করলো তাদেরকেই বনচিত করা । হায়রে, অভাগা বাংলাদেশ!!! এই ই কি আমাদের 35 বছর পর স্বাধীনতার প্রাপ্তি? এই যদি হয় স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আমার প্রাপ্তি, তবে ধন্য এদেশের মানুষ, ধন্য আমি!!!

যেসকল মুক্তিযোদ্ধাদের অজস্র রক্তের বিনিময়ে এ স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আমি নিজেকে দাবি করতে পারছি, মাথা উঁচুকরে দাঁড়াবার চেষ্টা করছি তাদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা । শ্রদ্ধা তো আর একটি দিনের জন্যই নয়, তাদের কাছে আমাদের যে ঋণ তা সারা মাস, সারা বছর, সারা জীবন শ্রদ্ধা জানিয়েও শোধ করা যাবে না । তাই শ্রদ্ধা জানাই ঋণী বলে, শ্রদ্ধা জানাই হৃদয়ের গভীরতা থেকে ।।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মার্চ, ২০০৬ রাত ৩:৪৮
১০৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দুমুখোচিন্তা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:১৬

সব মৃত্যু গণনায় আসে না। রাজনৈতিক সহিংসতার একটি পুরনো নিয়ম আছে। মৃত্যু সমান মৃত্যু নয়। কোনো মৃত্যু পত্রিকার প্রথম পাতায় যায়, কোনো মৃত্যু জয়পুরহাটেই থেকে যায়। এই বাছাইটা দৈবাৎ হয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিটিজেন ভিজিল্যান্টি থেকে কালেমার মিছিল: সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কতগুলো অশনি সংকেত - প্রথম পর্ব

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৮


গত মাসে আমেরিকায় "সিটিজেন ভিজিল্যান্টি" নামে মুসলিম ও অভিবাসীবিদ্বেষী একটি সিনেমা মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি প্রথমদিকে দর্শকদের মধ্যে তেমন জনপ্রিয় হয়নি। পরে যখন ইলন মাস্ক এক্স প্ল্যাটফর্মে তার ২৪ কোটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

'গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড' আন্দোলন কেন ব্যর্থ হলো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



মাও সে তুং-এর গৃহীত "গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড" (১৯৫৮-১৯৬০) আন্দোলনটি মূলত অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা, চরম অব্যবস্থাপনা এবং ভুল কৃষি নীতির কারণে মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ ফিরতে পারে, তবে…

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২০




১। ২০১২ থেকে সংঘটিত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১২ বছরের গু/ম, খু/ন, অ*পশাসন, গণতন্ত্র হ*ত্যা, নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বং*স, দুর্নী*তি, বাকস্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার হরণের মাত্রা এমন চরমই ছিল যে, শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাসাগরের ধারের সেই ছোট্ট দ্বীপ সামোয়া এবং বিশ্বকাপ ফুটবল

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩২

বিশ্বকাপের এই মৌসুমে ফুটবল নিয়ে একটা দারুণ হার্ট লিফটিং মুভি দেখে ফেললাম - "Next Goal Wins"
গল্পটা আমেরিকান সামোয়ার জাতীয় ফুটবল দলকে নিয়ে। ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩১-০ গোলে হেরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×