গতকাল ছিল 26শে মার্চ । আমাদের স্বাধীনতা দিবস । সকল বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রীয় মযর্াদার সাথেই দিনটি পালন করা হয় । অনেক ভাষণ, নীতি কথা এবং সুন্দর সুন্দর বুলি শোনানো হয় । কিন্তু যাদের ত্যাগে এই স্বাধীনতা আর ইচ্ছেমত সবার এত মতামত প্রদানের সুযোগ , সেই শহীদদের জন্য কে কি ই বা কতটুকু করেছে? যেটুকু করা হয়েছে বা হচ্ছে তার বেশির ভাগই লোক দেখানো নয় কি? আদৌ কি আমরা কিছু করতে পেরেছি বা করতে চেয়েছি? মুখে মুখে অমরা সবাই অনেক বড় বড় কথা বলি কিন্তু সত্যিকার অর্থে সেসব বুলি অমাদের দেশের জন্য কোন কল্যাণ বয়ে আনে না । শুধুই বলার জন্যে বলা । মুক্তিযোদ্ধারা দেশকে কতটা তীব্রভাবে অনুভব করতে পেরেেিলন যে তারা নিজেদের জীবন, যৌবন, বেঁচে থাকা সব কিছুকে ভুলে শুধুমাএ একটি পরাধীন দেশকে স্বাধীনতা এনে দিতে চেয়েছিলেন । বলতে অনেক কষ্ট হলেও বলতে হচ্ছে আমরা আসলে স্বাধীনতা পাই নাই । স্বাধীনতা মানে তো স্ব- স্ব- অধীনতা । আমরা আজো এই দেশকে স্বাধীন ভাবতে পারি না । আজো আমাদের মনে পরাধীনতার ভয় । কেননা লক্ষ লক্ষ শহীদের অজস্ররক্তের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, আমরা তা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছি । এই ব্যর্থতা কারো একার প্রাপ্তি নয়, এ ব্যর্থতা সমগ্র জাতির ।
শহীদদের সংখ্যা টা নিযুতের ঘরে । লক্ষাধিক শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা আমরা পেয়েছি সেই স্বধীনতার কতটুকু মূল্য এখনো পর্যন্ত দিতে পেরেছি বা দিয়েছি? আমরা যারা জন্মের পর থেকেই একটি স্বাধীন দেশের অধীনে বড় হয়েছি তারা সেই সব সংগ্রামী মানুষদের কষ্ট এবং স্বাধীনতা অর্জনের জন্যে যে ত্যাগ তারা দিয়েছেন তা অনেকাংশেই উপলব্ধি করতে পারবো না । বলতে গেলে কিছুই পারবো না বা পারি না। কিন্তু যেই উদ্দেশ্যে ওরা দেশকে স্বাধীন করেছিলেন , সেটাও সফল হয় নি । এই যে একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েও আমরা নিজেরা এত ব্যর্থ, এত পরাধীন সেই লজ্জা টা কার? জাতি হিসেবে আমরা গর্বিত, কিন্তু একটা স্বধীন দেশ হিসেবে ঠিক ততটাই লজ্জিত । আমরা বিশ্বে ইতিহাস তৈরি করি পরপর দুর্ণীতিতে প্রথম হয়ে । স্বাধীনতা কি এর জন্যই? আমরা সন্ত্রাসী দেশ হিসেবে পরিচিত হই । আমরা ঘর থেকে বের হই ভয় ও আতঙ্ক নিয়ে, কেননা আবার ফিরে আসতে পারবো কিনা সেটা তো জানা নেই । যারা দেশকে স্বাধীনতা এনে দিল, তারা তাদের প্রাপ্য পায় নি , উপরূন্ত শুনতে হয় ধিককার । ভূয়া মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট নিয়ে নিজেদের ফায়দা আদায় ! অনেকেই করছেন । আর যারা এতকিছু করলো তাদেরকেই বনচিত করা । হায়রে, অভাগা বাংলাদেশ!!! এই ই কি আমাদের 35 বছর পর স্বাধীনতার প্রাপ্তি? এই যদি হয় স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আমার প্রাপ্তি, তবে ধন্য এদেশের মানুষ, ধন্য আমি!!!
যেসকল মুক্তিযোদ্ধাদের অজস্র রক্তের বিনিময়ে এ স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আমি নিজেকে দাবি করতে পারছি, মাথা উঁচুকরে দাঁড়াবার চেষ্টা করছি তাদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা । শ্রদ্ধা তো আর একটি দিনের জন্যই নয়, তাদের কাছে আমাদের যে ঋণ তা সারা মাস, সারা বছর, সারা জীবন শ্রদ্ধা জানিয়েও শোধ করা যাবে না । তাই শ্রদ্ধা জানাই ঋণী বলে, শ্রদ্ধা জানাই হৃদয়ের গভীরতা থেকে ।।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মার্চ, ২০০৬ রাত ৩:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



