(বাকি অংশ)
সুতরাং, প্রথমবারে সৃষ্টি যা সংঘটিত হয়েছে এবং 2য়বারে সৃষ্টি যা সংঘটিত হবে, এ দু'বারের সৃষ্টি খুব বড় ও ব্যাপক । আর প্রথমবারের ঐ বড় সৃষ্টির পর মহান আল্লাহ আর কোন সৃষ্টিই করছেন না, এমনটি নয় । বরং প্রতি মুহূর্তে তিনি নতুন নতুন সৃষ্টি করে চলেছেন এবং বহুরকম কাজে লিপ্ত রয়েছেন ।
যেমন: পৃথিবীতে ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ নানারকম জীব সৃষ্টি । বিভিন্ন প্রকৃতির মানুষ সৃষ্টি । বিভিন্নরকম ভাবে মানুষদের মৃত্যু ঘটানো । বৃষ্টি বর্ষনের মাধ্যমে যমিনে ফল-মূল ও ফসল উৎপন্ন করা । ভূমিকম্প, প্লাবন, জলোচ্ছাস ঘটানো । নির্দিষ্ট সময় পর ধূমকেতুর আবিভর্াব ঘটানো । তারা, গ্রহ ও উপগ্রহকে নিজ নিজ কক্ষপথে ঘূর্ণমান রাখা । গ্যালাক্সিগুলোকে নিজ নিজ সীমার মধ্যে কার্যকর রাখা । মহাবিশ্বের শেষ প্রান্তের দিকে অবস্থিত কোয়াসার নামে অভিহিত অতি উজ্জল ও তেজস্ক্রিয় বস্তুগুলোকে নিয়ন্ত্রন করা ইত্যাদি অগনিত সৃষ্টি ও কাজ সবই মহান আল্লাহর । মহাকাশ বা মহাবিশ্বের বিশালতা সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন -
1। নিশ্চয়ই আমি আমার নিদর্শন সমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ননা করেছি, ঐসব লোকের জন্য যারা জ্ঞানবান ।
[6 আনআম:97 শেষাংশ]
2। আর নিশ্চয়ই আমি নিকটবতর্ী আসমানকে প্রদীপ পুনজ (অর্থাৎ তারাসমূহ) দ্্বারা সুশোভিত করে রেখেছি ।
[67 মুলক: 5 প্রথমাংশ]
3। অসীম বরকত সম্পন্ন তিনি, যিনি আকাশে বুরূজসমূহ স্থাপন করেছেন । আর তার মধ্যে একটি প্রদীপ (সূর্য) ও একটি চাঁদ উজ্জল করে রেখেছেন ।
[25 ফোরকান:61]
4। তাঁর (আল্লাহর) কুরসী, আসমানসমূহ ও যমিনকে নিজের মধ্যে ধারণ করে রেখেছে। আর তাঁর পক্ষে এদের ( অথর্াৎ আসমানসমূহ ও যমিনের ) হেফাযত করা একটুও অসুবিধাজনক নয় ।
[2বাকারা:255 মধ্যাংশ]
3 নং আয়াত থেকে বোঝা যায় যে, একটি বুরূজের সাথে একটি গ্যালাক্সির মিল রয়েছে ।
যেহেতু আল্লাহ বলেছেন যে, তিনি সর্বনিম্ন আসমানটি প্রদীপসমূহ দ্্বারা সুশোভিত করে রেখেছেন, সুতরাং বোঝা যাচ্ছে অবশিষ্ট আসমানগুলো সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা আমাদের পক্ষে সহজ নয় । আল্লাহই জানেন, তাঁর মহাবিশ্ব কি বিশাল । আর নবী ( সা: ) কে তিনি সপ্তম আসমানের উপরে যে আরশে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন সেটা কতই দূরে!
নভোবিজ্ঞানীরা মহাকাশে ''মহাপ্রাচীর'' দেখতে পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন । মার্কিন বিজ্ঞানী মাগর্ারেট গেলার ও জন হোচরা বলেন, এই মহাপ্রাচীরের ব্যাপ্তি কত তা আমরা এখনো বের করতে পারিনি ।
'এই মহাপ্রাচীর' অর্থে তারা কি বোঝাতে চেয়েছেন সেটা বলা হয়নি । তবে এটা যে একটা বাঁধা, তাতে কোন সন্দেহ নেই । (দৈনিক ইনকিলাব:7ই ডিসেম্বর 1989)
বর্তমানে পৃথিবীর অধিকাংশ বিজ্ঞানীরা এই প্রাচীর ভেদ করার জন্য কাজ করে চলেছেন । কারন, মহাকাশের অনেকটাই এই মহাপ্রাচীরের আড়ালে ঢাকা পড়ে আছে । কিন্তু এত বছরেও তারা খুব বেশি এগুতে সক্ষম হননি ।
আল্লাহ বলেন: তিনি (আল্লাহ) সাত আসমানকে স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন ।
[67 মুলক:3 প্রথমাংশ]
এখানে বোঝা যাচ্ছে, প্রথম আসমানের সীমা শেষ হওয়ার পর, প্রাচীরের মতো একটি বাঁধা আছে । তারপর দ্্বিতীয় আসমান শুরু হয়েছে । হতে পারে সে প্রাচীর দৃশ্য বা অদৃশ্য ।।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মে, ২০০৬ রাত ১০:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


