somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশ্বাসের দেয়ালে প্রথম আঘাত -১।

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৫ সকাল ৭:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যে সময়ের কথা বলছি তখন বাংলায় ফাল্গুন মাসের শেষ বা চৈত্রের শুরুর দিকের ঘটনা রাতে তখনো ঠান্ডা লাগে হালকা কুয়াশাও পড়ে।
বয়স তখন কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে পদার্পন,যেহেতু শরীরের রক্ত গরম,পৃথিবীর কোন বাঁধাই তখন বাঁধা মনে হতো না।
জ্বিন ভুত পেত্নী স্কন্ধকাটা ডাইনি মেছোভুত বিশ্বাস করতাম ,তথা শৈশবে শোনা রুপকথার গন্ধ তখনো শরীরে লেগে আছে।
হঠাৎ বিশেষ প্রয়োজনে শহর হতে প্রায় দশ কিঃমিঃ দূরে গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়ি যেতে হবে আমাদের চার বন্ধুকে।
রাত তখন প্রায় তিনটা চারজনে দুই রিকশায় রওনা হলাম,রাস্তা নীরব শহর হতে বেরোনোর পর চারিদিকে কোন আলো ছিলো না। আকাশে চাঁদও নেই সম্ভবত অমাবশ্যার রাত তবে আকাশ পরিষ্কার, তারার আলোয় আর রিকশায় বাঁধা তৎকালীন হারিকেনের আলোতে যেটুকু দেখা যায় তাতেই পথ চলছি।
আমি আর আমার এক বন্ধু যে রিকশায় উঠেছি তার চালক ছিলো যুবক সে দ্রুত রিকসা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, অপর রিকশার চালক ছিলো একটু বৃদ্ধ সে আস্তে আস্তে চলছে। এতে আমরা অনেকটাই এগিয়ে যেতাম ওরা অনেক পিছনে পড়ে থাকতো। বার বার রিকসা দাঁড় করিয়ে পিছনের রিক্সাকে সাথে নিয়ে এগুতে হচ্ছে। শেষে বিরক্ত হয়ে পিছনের রিক্সার এক বন্ধু বলল,"তোরা চলে যা আমারা আসছি। বাড়ি তো আমরা চিনিই শুধু শুধু দাঁড়িয়ে থেকে রাত শেষ করতে হবে না"। অগত্যা পিছনের রিক্সাকে ফেলেই আমাদের রিক্সা দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছে গেল।
গন্তব্য বলতে গ্রামের বাজার ,সেখানেই পাকা রাস্তা শেষ। সেখানেই আমাদের রিক্সা হতে নেমে যেতে হবে। তারপর হাঁটা পথ খালের পাড় ঘেঁষে কাঁচা রাস্তা।আমরা রিক্সা হতে নেমে পিছনের রিক্সার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। অনেক্ষণ হয়ে যাবার পরও রিক্সা আসছে না দেখে আমার সাথের বন্ধুটি বলল,"আমার ঘুম পাচ্ছে চল বাড়ি যাই ওরা আসতে থাকুক"। উপায়ন্তর না দেখে আমি আমার বন্ধুকে নিয়ে বাড়ির উদ্যেশ্যে রওয়ানা দিলাম। যেই রাস্তা ধরে যেতে হয় সেদিকে কিছুটা এগুলেই বামে আরেকটা কাঁচা রাস্তা এসে মিশেছে সেটা খালের উপর একটা ব্রিজ দিয়ে ওপারের কাঁচা রাস্তার সাথে সংযুক্ত। দুই রাস্তার সংযোগ স্থলে খুব বড় একটা তেতুল গাছ আছে আর আছে একটা পুরানো গোরস্তান। জনশ্রুতি আছে এই গোরস্তানের জায়গা তৎকালীন স্থানীয় হিন্দু জমিদার দিয়েছিলেন। তাহলে বুঝাই যাচ্ছে শতবছরের পুরোনো গোরস্তান। আমরা গোরস্তানের পাশ দিয়ে খাল পাড়ের রাস্তা ধরে কিছুক্ষণেই হেটে চলে আসলাম বাড়ি। বাড়ি এসেই আমার বন্ধু নাক ডেকে ঘুম আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পরও যখন বাকিরা আসলো না তখন চিন্তা হতে লাগলো। ভাবলাম কিছুটা এগিয়ে দেখি কি হলো। ঘুমন্ত বন্ধুকে ডাকলাম সে আর সাড়া দিলো না তাহলে একাই যেতে হবে, ভাবতেই কেমন একটু ভয় হতে লাগলো তাছাড়া গ্রামে বিদ্যুৎ নেই পাকা রাস্তার বাজার পর্যন্তই বিদ্যুৎ আছে। আত্মীয়র কাছ টর্চ চাইলাম ওনি টর্চ দিলেন কিন্তু তাতে যেই ব্যাটারি তাও দুর্বল। আলো জ্বলে টিমটিম করে। তাই নিয়ে রওয়ানা দিলাম নদীর পাড় ঘেঁষে রাস্তা দিয়ে কিছুদূর যাওয়ার পর যখন তেতুল গাছটার কাছাকাছি আসলাম তখনই টর্চটাও নিভে গেল। যদিও আমি ছোটবেলা হতেই সাহসী তবুও এমন পরিস্থিতিতে আমি কেন যে কারো ভিতরে কাঁপন ধরবে। কারন জায়গাটার একটু আধটু দুর্নাম আছে গ্রামের লোকের মুখে মুখে। তার কিছুটা আমার কানেও এসেছে। সেগুলো বাদ দেই শুনা ঘটনা বলবো না বলবো নিজের দেখা সত্যি ঘটনাই।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৫ সকাল ৭:৪৬
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×