কিলাশ ছিক্সে থাকতে ঢাকা শহরের এখকান নামি দামি (মোটামুটি রকমের) ইশকুল দেইখা ভর্তি হইছিলাম। ভর্তিতো হইলাম এখন পড়া শুনার পালা। এখন কুন স্যারের বাসায় পরুম??? ব্যপক টেনশনের বিষয়। বড় ভাইগরে জিগাইলাম কার কাছে পরুম। সবাই এক বাক্যে যে স্যারের নাম কইল হে হইল ধর্মের। এতো কিছু চিন্তা করনের সময় নাই। ভর্তি হইলাম হেতের বাসায়।
নতুন স্যার ভালাই লাগে। হগল বিষয় পড়ায়। উনার পারদর্শিতায় আমি মুগধ
যাই হউক দেশ লইয়া উনি বরই টেনশনে থাকে। দেশে ইসলামের শাসন নাই দেইখা কপাল থাব্রায়। ভালাই লাগে। যা কয় তাই হুনি। হুইনা কান জুরাই।মাথায় ঢুকাই। কয়েক হপ্তার মইধ্যেই ছারের লগে ফিরি হইয়া যাই।
তো স্যার একদিন কপিতা পড়াইতেছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কপিতা। কবি পরিচিতি পড়াইতে গিইয়া কয় রবীন্দ্রনাথ হিন্দু। ইছলামের শত্রু। রবীন্দ্রনাথ চুরি কইরা নোবেল পাইছে।
(সত্যি কথা বলতে কি ঐ ঘটনার পর রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে বিরুপ ধারনা জন্মে গিয়েছিল। ২ বছর পর আমি এর রহস্য উদ্ধার করতে পারছিলাম)। যাই হউক আমি আমার ছারের মরন রবীরে ঘৃণা করতে লাগলাম।
এমন কইরা ছারের কাছে প্রতিদিন তালিম নেই। হে পাকিস্তানের কথা কয়। একদিন কইল হুন তোমাগরে ৭১ এর আসল কাহিনী হুনাই, যেইডা তোমরা কুনু পুস্তকে পাইবা না। আসলে পাকিস্তানিরা চাইছিল পাকস্তান কায়েম করতে। মুসলিম দেশ গড়তে। কিন্তু শালার বঙ্গবন্ধু আর ঐ ভারতের দালাল গুলা তা হইতে দেয় নাই। অগর কারনে আজ পাকিস্তান ভাইঙ্গা গেছে
বাবারা তোমারা ইছলামের পথে আসো। ইসলামী শাসন কায়েম কর। শিবিরে যোগ দেও। আমাদের গোলাম আযম, নিজামী, মুজাহীদ, কামরুজ্জামান, সাঈদী কত্ত ভালো দেখছ। একাত্তরে ওরা পাকবাহিনীরে সাহায্য করছিল। কত্ত দ্বীনদার মুসল্মান দেখছ??? আর যুদ্ধে জিতলে ওরা হইত মুক্তি বাহিনী। কওনা সুভানাল্লাহ।
এর পর ছার একদিন কইল, জান আমি শিবির আছিলাম। কত্ত মারামারি করছি এই ইছলামের লাইগা। এহন শরীরে বল নাই তাই পারি না। তয় আমার মন সবসময় ঐ শিবিরের লগেই থাকে। আর এর মধ্যে উনার জনপ্রিয়তার গোপন রহস্য আবিষ্কার করলাম। পরীক্ষার আগে আমাদের বই ১/৪ হইয়া যায়।
যাই হউক এমনে কইরা ৭ পর্যন্ত হেতের কাছে পরলাম। এর পর আর যাই নাই। আস্তে আস্তে রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম। গো আযম সম্পর্কে জানলাম, ছাগু সম্পর্কে জানলাম। আমার তো মাথা নষ্ট। কি আর করুম উনার বিরোধিতা শুরু করলাম। এইটা উনি টের পাইলেন। আমাকে নাস্তিক, নাছার বইলা গাইল দিলেন। ক্লাশে আসলে দাড়া করিয়ে রাখতেন। যা করা যায় তাই করেছিল। এতে আমার কোনো কষ্ট নাই। আমার কষ্ট হচ্ছে নতুন প্রজন্ম নিয়ে। একটা ক্লাস সিক্স এর ছেলের মাথায় উনি যে বিষয় গুলো পুশ করেন সেটা কতটা ক্ষতিকর সেটা আপনারা আচ করতে পারেন নিশ্ছই।
পুনশ্চঃ কেউ স্কুলের নাম জানতে চাইয়েন না। শুধু আমার স্কুলই না খোঁজ নিলে এমন অনেক স্কুল পাওয়া যাবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


