somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার শৈশব - ১

১০ ই মে, ২০১৩ বিকাল ৫:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শৈশবে সবাই কম বেশি বাঁদরামি করেছি । স্বীকার করতে ভয় কিসে ? এলা শুরু করলাম ।

বাপজানের ইচ্ছা নার্সারিতে ভর্তি করাইবে । হেডমাস্টার মশায় আমার প্রতিভা দেখিয়া এতই মুগ্ধ হইলেন যে তিনি ক্লাশ ওয়ানের খাতায় নাম টুকিয়া দিলেন । এখন আমাকে পায় কে ? নিজেরে বস ভাবিতে লাগলুম ।

স্কুলে বার্ষিক ক্রিড়া প্রতিযোগিতা হইবেক । সব গুলা শাখায় মামলা থুক্কু নাম ঠুকিয়া দিলাম । অভিনয়, গান, আবৃত্তি, দৌড়, কৌতুক একটিও বাদ পড়িল না । মাস্টার মশায়গণ আমার সর্ব শাখায় প্রতিভার ঝলক দেখিতে পাইবেন বলিয়া বিশেষ পুঃত হইলেন । কেউ একজন দিখিতে পাইলেই হল, তত্‍ক্ষণাত্‍ প্রশ্নের তীর ছুড়িতেন, "কী হে ছোকড়া গান কেমন রিয়াজ করিতেছ ?" "ওরে হতচ্ছাড়া অভিনয়টা মন দিয়ে করছিস তো ?"

যাই হোক দিন গড়াইতে গড়াইতে অনুষ্ঠাণের দিনটি নাকের ডগায় আসিয়া ঠেকিল । আমার উত্‍কণ্ঠা যেন আলোর সহিত পাল্লা দিয়া বাড়িতে লাগিল । এহেন বিষম উদ্বেগের অবস্হার কারণ পাঠক কূল ধারণা করিতে পারিতেছেন যে নাচা, গানা, অভিনয়ে এই অধমের কোন গিয়ান পিলাচ দক্ষতা পিলাচ পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না ।

শেষ মেষ টিকিতে না পাড়িয়া মাকে বলিলাম ইশকুলে ত গান করিব বলিয়াছি, এখন কোন গানটি করিব? এহেন প্রশ্ন শুনিয়া তিন যেন সপ্ত গগন হইতে পড়িলেন । তাহার ভাবনা, যে ছোকড়া জীবনে সা রে গা হইতে মা পর্যন্ত উচ্চারণ করিল না সে করিবে গান ! মনের ভাব লুকাইয়া বলিলেন ঠিক আছে আমি খাতায় লিখিয়া দিতেছি তাহা শিখিয়া কণ্ঠস্থ করিয়া লও । তারপর সুর তরার চড়াইয়া ডেলিভারি দিবা । যথাসময় একখান দেশাত্মবোধক গান তিনি খাতায় লিখিয়া দিলেন । তাহা মুখস্ত করিতে গিয়া অবস্হা আরো কাহিল । উপায় নাই জেনে শুনেই বাঘের খাঁচায় ঢুকেছি । অতি কষ্টে গানখানা আত্মস্হ করার পর মনে ভীষণ আনুন্দ গান শিখিয়া ফেলছি ।

গান ত গেল এবার কৌতুক লইয়া যন্ত্রনায় পড়িলাম । একখানা রসের কৌতুকও যে আমার জানা ছিল না । এবার আর মাকে জ্বালাইলাম না । বন্ধুকুলের কাছে ছুটিলাম । পরাণের বন্ধুর জন্য তারা কি না করিল । যাচাই বাছাই করে একখানা কৌতুক বলিয়া দিল । আমিও মনে স্থিত করিয়া লইলাম ।

সেই বিশেষ দিনটি আসিয়া পড়িল । প্রথমেই দৌড়াইতে হইবে । যথাসময়ে বাঁশি বাজিল আমিও দৌড়াইতে লাগিলাম । দৌড়াইতে দৌড়াইতে একসময় আছাড় খাইয়া পড়িয়া গেলাম । নাহ বোল্ট হইবার স্বপ্ন সেখানেই মাটিচাপা পড়িল । দৌড় ঝাপ শেষ হইবার পড় আসিল আবৃত্তির পালা । বিশেষ কোন প্রস্তুতি নাই । পাঠ্য বইয়ের একখান কবিতা আউড়াইয়া আসিব মনস্হির করিলাম । নাম ডাকিল । মঞ্চে উঠিয়া নিজেকে রাজনৈতিক নেতা মনে হইতে লাগিল । কবিতার কথা ভুলিয়া গেলুম । পাশ হইতে মাস্টারর বলিলেন শুরু কর বাপু আর কত দম নিবে । শুরু করিলাম, এমন ভাবে শুরু করিলাম যে মুখস্ত পড়া বলিতেছি । এক দমে পুরা কবিতাখানা বলিয়া দিলাম । আশে পাশে তাকাইয়া দেখি সবাই বড় বড় চোখ নিয়ে তাকিয়ে আছে । ভড়কাইয়া গেলাম । তড়ি ঘড়ি করিয়া নামিয়া গেলাম ।

এবার গানের পালা । সহপাঠিগণের গান শুনিতে শুনিতে আত্মস্হ করা গান ভুলিয়া গেলাম । দুঃখে চোখে পানি আসিয়া পড়িল । এমনই সময় শুনিলাম "এবার গান গাইতে আসছে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ____"। স্বীয় নাম শুনিয়া দাঁড়ায়া গেলাম । পাশ হইতে এক চুইট আন্টি বলিলেন যাও বাপু গান একটু স্লো টেম্পুতে গেও । আবার মঞ্চে উপবিষ্ট হইলাম । কী গান করিব ? এদিক সেদিক তাকিয়ে শুরু করলাম "এই পদ্মা এই মেঘনা.....এ এ এ এ এ"। কিছুক্ষণ এ এ এ এ করিয়া মঞ্চ ত্যাগ করিতে হইল । স্বীয় ইচ্ছায় নয় । মাস্টার মশায় তাড়িয়ে দিয়েছিল ।

এবার পালা কৌতুকের । আমি যে কৌতুকখানা শিখিয়াছিলাম তাহা যে বন্ধুমহলের বাইরে বলা যাবে না তা আমি জানিতাম না । যাই হোক বিশেষ কৌতুক বলা আরম্ভ করিলাম । দুই লাইন বলার পর একখানা বিশেষ শব্দ উচ্চারণ করিতে গিয়া চমকাইয়া গেলাম । ইহা আমি কী বলিতেছি । মাস্টার মশায় শুনলে ত ঠ্যাঙাবে । কতক্ষণ আমতা আমতা করে স্টেজ হইতে নামিয়া গেলাম ।

অভিনয়ের পালা আসিল । নাম ডাকা হইল । আমি আর বাড়াইলাম না । ব্যাগ খানা কাঁধে করিয়া বাটিতে ফিরিলাম ।


চলবে.....
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মে, ২০১৩ বিকাল ৫:০৫
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×