somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যা ভাবছি …

২২ শে আগস্ট, ২০১৪ রাত ৮:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া এদেশের বেশিরভাগ রাজনীতিবিদ সন্ত্রাস বা দূর্নীতির সাথে মারাত্নকভাবে জড়িত।এই ধরনের রাজনীতিবিদদের মুখে যখন শুনতে হয় যে-‘সন্ত্রাস আর দূর্নীতি মূক্ত বাংলাদেশ গড়ব’ তখন কাঁদব না রাগব ভেবে পাইনা।
না, আমি রাজনীতিবিদদের নিয়ে কিছু লিখবনা।ছোটবেলায় পড়েছি "পরিবার থেকে সমাজ আর সমাজ দিয়ে দেশ হয়"।একটি সমাজে বা দেশে যখন কোন অপরাধ ঘটে তখন এটা নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা, লেখা-লেখি হয়।কিন্তু সবার অগোচরে পরিবারগুলোতে টর্চারমূলক কত অপরাধ ঘঠছে তার কয়টির খবরই বা আমরা রাখি কয়টিই বা আলোচনার শিরোনাম হয়।

রাজনীতিবিদদের মত দ্বিমূখিতা আমাদের পরিবারের প্রায়ই মানুষগুলোর মধ্যেও বিদ্যমান।এই ধরনের মানুষগুলোর চোখে আংগুল দিয়ে অপরাধগুলো দেখিয়ে দিতে নিজেরই লজ্জা হয়।আমরা উঁচু গলায় যতই বলিনা কেন আমাদের দেশ,সমাজ,আমাদের ছেলে মেয়েরা অনেক এগিয়ে গেছে। আসলে এগুলো নিজেদের সন্তুষ্টিমূলক কথা বার্তা ছাড়া আর কিছুই নয়।আমি দেশের বা মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতির কথা বলছিনা।মানুষের মন মানসিকতা বা দৃষ্টিভংগির উন্নতির কথা বলছি।আল্লাহ নারীদের স্বার্থেই পুরুষতান্ত্রিক পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন।নারীদের প্রতি যথেষ্ট পরিমান শ্রদ্ধা আর অধিকার প্রদর্শন করেই তাদের উপর পুরুষের কিছুটা কতৃর্ত্ব দিয়েছেন।কিন্তু আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজ বা পরিবারে প্রচলিত নিয়ম হচ্ছে নিজেকে পরিবার বা সমাজের একচ্ছত্র অধিপতি মনে করে নারীদেরকে নিজেদের অধিনস্ত বানিয়ে রাখা।

ছেলেরা মা-বাবাকে না জানিয়ে চিন্তিত রেখে বন্ধুর সাথে দিনের পর দিন বাহিরে বেকার রাত কাটাতে পারে আর মেয়েরা মা-বাবাকে জানিয়ে প্রয়োজনেও সন্ধ্যার পর বাহিরে থাকলেই আপত্তি।ছেলেদের জন্য প্রেম করা, বান্ধবী,মহিলা সহকর্মী,সহকর্মীর স্ত্রীর বা তাদের প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েদের সাথে গল্প করা,তাদেরকে নিজ বাসায় নিমণ্ত্র্ন জানানো,দেখা বা কথা বলা খুবই সুন্দর,জায়েয।আর মেয়েরা কোন ছেলে বন্ধুকে বাসায় আনাতো দূরের কথা তাদের সাথে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে কথা বলাও নাজায়েয।মা বাবারাও একটা সময়ের পর ছেলেদের শাষন করে কিছু বলার সাহস রাখেনা বলেই হয়ত এসব দ্বীমুখিতাকে সমর্থন করে।

আল্লাহ মেয়েদের পর্দার পাশাপাশি ছেলেদের দৃষ্টিকেও অবনত রাখতে বলেছেন। কয়টি ছেলে নিজেদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে? এসব না পারার দলে যারা আছে তাদেরকেই দেখা যায় অপরকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে।যে কাউকে একটা নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত শাষন করা যায়,বয়সটা পেরিয়ে যখন দেখা যায় যে মানুষটা ভাল মন্দ বুঝতে শিখেছে তখন শাষন করাটা বড়ই বেমানান। আর যারা নিজেরা ভুলের মাঝে থেকে অন্যের সমালোচনা করে তখন তাদের এই সমালোচনা গুরুত্ব না পেয়ে বরং ক্ষোভ বা হাসির পাত্র হয়। অনেক সময় এটা অনধিকার চর্চার পর্যায়েও চলে যায়।

আসলে আমরা সবাই আত্নতুষ্টিতে ভোগি।যার যার অবস্থানে থেকে আমরা ভাবি আমি সব জানি,সব মানি,আমিই সঠিক,বাকিরাই ভূল।একদিন সময়ই এর সমাধান নিয়ে হাজির হয় কে ভূল আর কে সঠিক।ক্ষোধ,আত্নতৃপ্তি মানুষকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যায় যে-কোন স্থানে,পরিস্থিতিতে বা পরিবেশে কোন কথা বলা উচিত সে জ্ঞানটাও অনেকে হারিয়ে ফেলে।কিন্তু সে এটা বুঝতেই পারেনা।চারপাশের পরিবার বা সমাজে এসব অন্যায় সে ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি,এখনও দেখছি।আমাদের মানসিকতা যদি এখনও পরিবর্তন না হয় তবে সমাজ বা দেশের কিভাবে পরিবর্তন হবে?আগে এসব দেখে প্রচন্ড ঘৃণা হলেও মা বোন ছাড়া কারো সাথে শেয়ার করার সাহস ছিলনা কিন্ত অবস্থা এখনও ধ্রুবক বলে আর নিরব থাকতে পারলামনা।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতামত পোস্ট: ২২ সালে লিখেছিলাম: যে শঙ্কা ছিলো তা আজকের বাস্তবতা

লিখেছেন অর্ক, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৩১



আমাদের কওমি জননী সত্যি কি অসাম্প্রদায়িক? হলে কতোটা? প্রশ্ন থাকলো সবার কাছে। তেতুল হুজুর মাওলানা শফি খুব ভক্তিভরে তাকে কওমি জননী উপাধি দিয়েছিলেন। এমনি এমনি তো আর নয়। অত্যন্ত মহব্বত... ...বাকিটুকু পড়ুন

"রিকন্সিলিয়েশান"....ইহা কি খায় নাকি মাথায় দেয়?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



সত্যি সত্যিই তাদের সুযোগ ছিলো ২৫ শে মার্চ এর পর যাবতীয় অপকর্ম জনগণের কাছে স্বীকার পূর্বক,
/মুক্তিযুদ্ধে তাদের দ্বারা নৃশংসতার শিকার জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা,
/তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে এবং,
/সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×