somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

থাইল্যান্ডে ভিক্ষাবৃত্তি।

০৩ রা মার্চ, ২০১৮ রাত ৮:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বলা হয় চাটুচক এ পাওয়া যায় না দুনিয়ার এমন কোন জিনিস নেই। কেউ কেউ বলে পুরো থাইল্যান্ডেকে নাকি বেচে দেওয়া হয় চাটুচকে। কি কি পাওয়া যায় আর পাওয়া যায় না । তার হিসেবে মিলাতে গেলে তর্ক অনেক হবে। তবে বিশ্বাস নিয়ে যাওয়াই যেতে পারে একবার চাকুচকে ।

আমি সেই বিশ্বাস নিয়েই গিয়েছিলাম একদল কথিত উন্নয়নের প্রতি আস্থাহীন বা অবিশ্বাসী মানুষের সাথে। তারা দুনিয়াব্যাপী ৪জি, ৩জি,৫জি উন্নয়ন বিরোধী। জিডিপি বাড়ালে সাধারণ মানুষের যে কিছুই হয় না, তাই তাদের মূল আলোচ্য বিষয়। তারা স্থানীয় মানুষের স্বার্থরক্ষায় পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষায় বেশি গুরুত্ব দিতে আগ্রহী। জিডিপি গোল্লায় যাক।

বিভিন্ন হাটে, ঘাটে, বন্দরে বাদযন্ত্রের মোহনীয় সুর দ্বারা মানুষকে মুগ্ধ করাই তাদের কাজ। বিনিময়ে যে অর্থ পায় তা দিয়ে পেট ও আন্দোলন চালায়।

এখানে আমার কোন কাজ নেই। আমার কন্ঠে সুর নেই, আমি বাদ্যযন্ত্র বাজাতে জানি না।

আমার কাজ মানুষ দেখা। আমি সারা দুনিয়া থেকে চাটুচকে আসা রং বেরংয়ে মানুষ দেখি।

আর একটু পর পর ছোট হ্যান্ড মাইকে চিৎকার দেই “ দেন ভাই দেন, কিছু দেন। প্রকৃতি রক্ষার জন্য দিন। নিজের জন্য দিন। “

যেহেতু তাদের কাছে থেকে বিনামূল্যে থাকা খাওয়া পাই । তাই এই ব্যয়বহুল শহরে বাসস্থান ও খাদ্যের যোগানদাতাদের টুকটাক আদেশ শুনতেই হয়।

ঐ ভ্রমণে আমি নানা দলের সাথে মিশে ছিলাম। একদল ছিল ঈশ্বরের লোক। তারা ভগবান বৌদ্ধের বানী প্রচার করত গ্রামে গ্রামে। মাঝে মাঝে আমি তাদের সাথে ভিক্ষাবৃত্তি করতেও যাই। বাণী প্রচারের সাথে গ্রামে গ্রামে ভিক্ষা করতে হয়। বাড়ি মানুষজন হাসি মুখে ভিক্ষা দেয়। কেউ দেয় ডিম,কলা, চাল, সবজি, নানা ফসল। যদিও আমার এক বড় ভাই Maruf Rahman​ এই ভিক্ষাবৃত্তি দেখে লজ্জায় শেষ।

তিনি যেহেতু ফর্সা মানুষ তাই লজ্জায় লাল। আমি কালো তাই লাল হবার সুযোগ নেই।

আমি ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে ভিক্ষা করি। দিনে দুইবার, তিন বার যাই। আসার পথে আমি সবাইকে দোয়া দিয়ে আসি। মোটামুটি চিৎকার করে। সবাই আমার আচরণে অবাক হয়ে দেখে। পাশের জনকে জিজ্ঞাসা করে ব্যাপার কি। বলি কৃতজ্ঞতা স্বীকার।

তারা হাসি মুখে ভিক্ষা দেয়। আবারও এসো।

আ হা কি শান্তির ভিক্ষাবৃত্তি। যদিও তারা বলে না এটাকে ভিক্ষা। ওদের কাছে এটি পুণ্যের কাজ।

যাই হোক আবার আসি চাকুচক ইস্যুতে। যারা আমাকে থাইল্যান্ডের রাজধানীতে থাকতে দিয়েছিলেন। তারা প্রকৃতি প্রেমিক। তারা এক বিন্দু জলও নষ্ট করে না। নিদিষ্ট পরিমাণ আয়ের পর তারা আর অর্থ সংগ্রহ করে না।

আমি তাদের সাথে বিভিন্ন বাজারে বাজারে ঘুরি। সপ্তাহের বিশেষ বিশেষ দিন আমাদের হাটের মত বাজার বসে। একবার গিয়েছিলাম বিনাখরচে হাজার রংয়ের বাজার চাকুচক/চাটুচক দেখতে।

যারাই থাইল্যান্ডে যাবেন সুযোগ পেলে চাটুচক দেখার সুযোগ নষ্ট করবেন না। আর সাথে যদি বউ/বান্ধবী থাকে তবেও কেনাকাটা ঐখানেই শেষ করে ফেলতে পারেন।

আমি নিশ্চিত যত টাকাই আপনার সাথে থাকুক। চাটুচকে কেনাকাটা করে বাঙ্গালী বউ/বান্ধবীর মন ভরাতে পারবে এ ক্ষমতা কারো হয়নি। পুরো আস্ত বিমান নাকি ভর্তি হয়ে যাবে । তবুও চাটুচকে কেনাকাটার শখ মিটবে না।

এই বানী আামার নয় “ আমার চিৎকারে জড় হয়ে যাওয়া এ বাঙ্গালী বড় ভাই #তৌফিক ভাইয়ের।

তৌফিক ভাই আমি দোয়া করি । সৃষ্টিকর্তা আপনাকে এত তৌফিক না দেন যে আপনি ভাবীর মন ভরাতে পারেন। ভাবীর মন ভরানোর চেষ্টায় আপনি বার বার চাটুচকে নিয়ে যান। আর আসার সময় আমার জন্য উপহার নিয়ে আসুন।

ভাবী এবং দুনিয়ার সবচেয়ে ভাল স্বামী তৌফিক ভাই শুভ কামনা। বিবাহের প্রতিটি দিবস কাটুক চাটুচকে।

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মার্চ, ২০১৮ রাত ৮:০৪
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হিজিবিজি নদীর ধারে খাদ্যমেলা

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০১ লা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৪

হিজিবিজি নদীর ধারে খাদ্যমেলা
.................................................................



শামুক ভাইটি দিল ছুট,
পায়ে তাহার নাইকো বুট।
হোঁচট খেয়ে থাবড়া,
মাছের নাকে কামড় বা!

মাছটি বলে, "কী আপদ!
ছাড়ো আমার এই পথ।
"ফ্যাঁকফ্যাঁকে সব বুদবুদ,
ছুটলো তারা কুদকুঁদ।

ব্যাঙ ও মাছি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

চেনা অচেনা জীবন

লিখেছেন সামিয়া, ০১ লা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১২



ঝড়ের কাছে হেরে যাওয়া গাছ,
শুকনো পাতার মতোই ঝরে পড়ে।
আমি শিকড়ে বেঁধেছি বাসা,
তাই তো দাঁড়িয়েছি ঝড়ের পরে।

একলা রাতের নীরব জানালায়,
কত অশ্রু ভোরের আগে শুকায়।
শান্তি নামে শব্দহীন এক পাখি,
যখন মানুষ নিজেকেই খুঁজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ সমস্যা ও সমাধান

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০১ লা আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৬


ছবি-১

চলার পথে অনেকেই হয়তো মোবাইল ফোনে ব্লগ পড়তে বা দেখতে গিয়ে বিপত্তির সম্মুখীন হচ্ছেন। সাধারণত মোবাইল ফোনে যারা ব্লগ পড়েন তাদের ব্লগের লেখা পড়তে ও ব্লগের লেখা সহ ছবি... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছুই ভাল্লাগে না আজ তবু সময় বয়ে যায়

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:০৮


কিছুই ভাল্লাগে না আজ
মানুষের মুখে মানুষেরই রক্তের গন্ধ লেগে আছে
শিশুর কান্না আকাশ ছুঁয়েও
কোনো ক্ষমতার প্রাসাদের জানালা কাঁপে না।

বাংলাদেশ জেগে থাকে
গ্যাসের অপ্রতুলতা, দ্রব্যমূল্যের দীর্ঘশ্বাস,
বেকার যুবকের অনিদ্রা,
আর প্রতিদিনের অগণিত অসমাপ্ত প্রতিশ্রুতির পাশে।
সংবাদপত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

"জাগো বাহে কোনঠে সবাই"....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৩৬



ফেসবুক মেমোরিঃ
৩২ জুলাই এই পোস্ট লিখেছিলাম.....

"জাগো বাহে কোনঠে সবাই"....

ভালো থাকার চেষ্টা সবসময় করি, বেঁচে থাকার উপাদান খুঁজে নিতে চেষ্টা করি- পুঞ্জিভূত ক্ষোভ আর কিছু করতে না পারার আফসোস... ...বাকিটুকু পড়ুন

×