somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শের শায়রী
অমরত্বের লোভ কখনো আমাকে পায়না। মানব জীবনের নশ্বরতা নিয়েই আমার সুখ। লিখি নিজের জানার আনন্দে, তাতে কেউ যদি পড়ে সেটা অনেক বড় পাওয়া। কৃতজ্ঞতা জানানো ছাড়া আর কিছুই নেই।

খোলাফায়ে রাশেদিন হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)

০১ লা মার্চ, ২০২০ রাত ১:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ক্যালিগ্রাফিতে উমর (রা) এর নাম

আগের পর্বঃ খোলাফায়ে রাশেদিন হযরত আবু বকর (রাঃ)

আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর, আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাহ......... প্রতিদিন নামায পড়ার জন্য মসজিদ থেকে আহ্বান জানানো হয় আযানের মাধ্যমে, নবীজিকে তার পরামর্শদাতা কিন্তু ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর বিন খাত্তাব (রাঃ)। মদীনায় হিজরত করার পর মুসলমানরা প্রকাশ্যে নামায পড়ার সুযোগ পায়। কিন্তু কিভাবে নামাযের জন্য ডাক দেয়া হবে? মহানবী সাহাবীদের কাছে সে ব্যাপারে পরামর্শ চাইলেন। সে কালে ইহুদী এবং খ্রিষ্টানদের প্রার্থনালয়ে শঙ্কধ্বনি এবং ঘন্টার ব্যবস্থা ছিল, কোন কোন সাহাবী মত প্রকাশ করলেন সেভাবেই ডাক দেয়া হোক, কোন কোন সাহাবী এতে আপত্তি তুললেন অন্য ধর্মের অনুকরনে নামাযের আহ্বান না করার জন্য। উমর (রাঃ) বললেন নামায আহ্বানের জন্য একজনকে নিযুক্ত করলে কেমন হয়? তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) উমর (রাঃ) পরামর্শমত বেলাল (রাঃ) নিযুক্ত করলেন নামাযের ডাক বা আযান দেবার জন্য। (খোলাফায়ে রাশেদিন জীবন ও কর্ম পৃঃ ২০৮)

৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকর (রাঃ) মারা যাবার পর তার নির্বাচিত হিসাবে হযরত উমর বিন খাত্তাব (রাঃ) ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হিসাবে অভিষিক্ত হন। যদি চার খলিফা নির্বাচনের দিকে আপনি দৃষ্টি দেন সেক্ষেত্রে আপনি দেখবেন সব থেকে স্মুথ ভাবে নির্বাচিত খলিফা হলেন হযরত উমর (রাঃ)। কোন রক্তপাত তো দূরে থাক কোন রূপ বাধার মুখেও পড়তে হয়নি তার খেলাফত লাভের সময়। এদিক দিয়ে দেখতে গেলে হযরত উমর সব থেকে ভাগ্যবান।

যেহেতু আমি খোলাফায়ে রাশেদিনদের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করব তাই তাদের জীবনের অন্যান্য সময় নিয়ে এখানে আলোচনা আনব না একান্ত প্রাসাঙ্গিক না হলে কারন এদের খেলাফতের ব্যাপ্তিকাল এবং কর্মযজ্ঞ এত ব্যাপক যে তা আলোচনা করতে গেলেই এই সামান্য পরিসরে হিমশিম খেতে হয়, সে জায়গায় অন্যান্য বিষয় আলোচনা টানলে কোন কিছুই হবে না। খেলাফতের ও সব বিষয় আলোচনা করা যাবে না শুধু উল্লেখ্য যোগ্য ঘটনাবলী টাচ করে যাব। হযরত উমর (রাঃ) খিলাফত লাভ করেই হযরত আবু বকর (রাঃ) এর অসমাপ্ত জায়গা থেকেই শুরু করলেন।



হযরত আবু বকরের সময় হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ পারস্যের হীরা ছেড়ে সিরিয়ায় যায় বাইজান্টাইন সম্রাট হেরাক্লিসের মুখোমুখি হতে ওদিকে সেনাপতি মুসান্না তখনো তার বাহিনী নিয়ে পারস্য অভিযান অব্যাহত রাখে, এখানে নানাবিধ কারন ছিল পারস্য অভিযানের বিস্তারিত লেখা যাবে না, সংক্ষেপে কারন গুলো জানাই, মুসলিম জাগরনে এক সময়ের পরাশক্তি পারসিকদের ঈর্ষা, মুসলিম দুত কে পারস্য রাজ দ্বিতীয় খসরু অপমান করে তাড়িয়ে দেয়া, আরবে মুসলিম বিরোধী শক্তিকে মদদ দেয়া, ব্যাবসায়ে বাধা, রাজনৈতিক নিরাপত্তা সহ নানাবিধ কারন ছিল।


“সোহরাব রুস্তম” গল্প

মুসান্না ব্যাবিলন দখল করে বসে ওদিকে হীরা হারিয়ে পারস্য রাজ উন্মাদ হয়ে ওঠে এবং পুনরুদ্ধারের জন্য পারস্যের মহাবীর রোস্তমের নেতৃত্ব এক বিশাল বাহিনী পাঠান। এই রোস্তম ই হল শাহানামার সেই বিখ্যাত চরিত্র অনেকেই হয়ত ছোটকালে “সোহরাব রুস্তম” গল্প পড়ছেন, যাকে অবলম্বন করে শাহনামার সেই সব বিখ্যাত গল্পের চরিত্র তৈরী হয়েছিল ইনিই সেই মহাবীর। এদিকে মুসান্না একা অল্প কিছু সৈন্য নিয়ে পারস্যর দখল বজায় রাখতে, এই পর্যায়ে খলিফা উমর মুসান্নার সাহায্যার্থে আবু উবাইদার নেতৃত্বে এক বাহিনী পাঠান মুসান্না কে সহায়তা দিতে। ৬৩৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নামারিক নামক স্থানে মহাবীর রুস্তমের মুখোমুখি হয় মুসলিম বাহিনী এবং পারসিক বাহিনী পরাজয় বরন করে। এই যুদ্ধ ইতিহাসে “ব্যাটল অভ নামারিক” নামে পরিচিত।


ব্যাটল অভ ব্রিজ

নামারিকের পরাজয় মহাবীর রুস্তমকে পাগল বানিয়ে দেয়, ৬৩৪ সালের অক্টোবর মাসে এইবার পারসিকরা রনহস্তী বা যোদ্ধা হাতী নিয়ে মুসলমানদের মুখোমুখি হয় জসর নামক স্থানে, এই যুদ্ধ ইতিহাসে “ব্যাটল অভ ব্রিজ” নামে পরিচিত। মরুর বেদুঈনরা হাতীর সাথে পুরাপুরি অপরিচিত থাকায় সেকালের ট্যাঙ্ক নামে খ্যাত এই যোদ্ধা হস্তীর মুখোমুখি হয়ে খেই হারিয়ে ফেলে এবং এই ব্যাটল অভ ব্রিজে শোচনীয় পরাজয় বরন করে। এই যুদ্ধে মুসলিম সেনাপতি আবু উবাইদা (রাঃ) শহীদ হন এবং ৯০০০ মুসলিম সৈন্যের মধ্যে ৬০০০ নিহত হয়। এই যুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধে খলিফা নতুন সেনা প্রেরন করে এইবার বুওয়ায়েব নামক স্থানে উভয় বাহিনী মুখোমুখি হয় এবং মুসলিম বাহিনী জয়ী হলে নিম্ন ইরাক মুসলমানদের হস্তগত হয়। এর অল্প কিছুদিন পর এপ্রিল, ৬৩৫ সালে মুসলিম সেনাপতি মুসান্না (রাঃ) ইন্তেকাল করেন। ইসলাম সম্প্রসারনে এই বীর সাহাবীর অবদান অনস্বীকার্য্য।


ব্যাটেল অভ কাদেশিয়া

বুওয়ায়েবের পরাজয়ের পর পারসিক রাজ আরব বাহিনীকে মোকাবেলা করার জন্য এক লাখ বিশ হাজার সেনার এক বিরাট বাহিনী মহাবীর রুস্তমের নেতৃত্বে প্রস্তুত করেন। ওদিকে খলিফা উমর (রাঃ) হযরত সাদ বিন আবি ওয়াক্কাসের নেতৃত্বে ৩০০০০ সৈন্যের এক বাহিনী পারস্য অভিমুখে পাঠান। দুই বাহিনী ৬৩৭ সালে কাদেসিয়া নামক স্থানে মুখোমুখি হয়। ইতিহাসে এই যুদ্ধ “ব্যাটেল অভ কাদেশিয়া” নামে পরিচিত তিন দিনের এই যুদ্ধে মহাবীর রুস্তম নিহত হন এবং পারস্য বাহিনীর পরাজয় ঘটে। এর অল্পদিনের মাঝে জালুলা যুদ্ধে মুসলিম বিজয় পারস্যের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেয়া হয়, পারস্য সম্রাট বাধ্য হয় মুসলমান খলিফার সাথে সন্ধি করতে। এই চুক্তি অনুযায়ী ইরাক খলিফার এলাকা এবং পারস্য পর্বতমালার অপর অংশ পারস্য সম্রাটের এলাকা হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে। এরপর ৬৪১ সালে আলবুর্জ পাহাড়ের পাদ দেশে নিহাওয়ান্দে দেড় লাখ পারস্য সৈন্যর মুখোমুখি হয় ৩০০০০ মুসলিম সৈন্য এবং বিজয় লাভ করে এবং মুসলিম সাম্রাজ্য আজারবাইজান এবং খোরশান পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে। এর পর ৬৪৩ সালে মাকরান বিজয় দিয়ে মুসলিম সাম্রাজ্য ভারতের সীমানা স্পর্শ করে কিন্তু ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে না। পারস্য বিজয় সমাপ্তি ঘটে। ( দেখুন এবং চাইলে ডাউনলোড করুন The Muslim Conquest of Persia)



এইবার দৃষ্টি দেয়া যাক বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের দিকে। সেদিকে তখন সেনাপতি আমর ইবনুল আস এবং পারস্যের হীরা থেকে আগত খালিদ বিন ওয়ালিদ অভিযান শুরু করে। আমর ইবনুল আস খলিফার নির্দেশে ফিলিস্তিনের বিজিত অংশে অবস্থান নেন আর খালিদ বিন ওয়ালিদ সিরিয়া বিজয়ের জন্য অগ্রসর হয়। খালিদ দামেস্ক নগরী ৬ মাস অবরোধ করে রাখেন এবং সেপ্টম্বর ৬৩৫ সালে এই নগরী বিজয় করেন। ওদিকে দামেস্কের পতন ঠেকাতে বাইজান্টাইন সম্রাট যে বাহিনী প্রেরন করেন তাদের সাথে মুসলিম বাহিনীর যুদ্ধ হয় জর্ডানের মাটিতে। এই যুদ্ধ “ফিহলের যুদ্ধ” নামে পরিচিত। এরপর মুসলমান বাহিনী হিমসের দিকে অগ্রসর হয়ে হিমস দখল করে এবং খলিফার নির্দেশে আর অগ্রসর না হয়ে খালিদ দামেস্কে, আমর ইবনুল আস জর্ডানে এবং হিমসে অবস্থান নেন সেনপতি আবু উবাইদা। এবং যে যার অঞ্চলে শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করতে খলিফা দ্ধারা নির্দেশিত হন।


“ব্যাটেল অভ ইয়ারমুক”

দামেস্ক, জর্ডান, হিমসের পতনের পর বাইজান্টাইন সম্রাট হিরাক্লিয়াস তার ভাই থিওডোরাসের নেতৃত্বে দুই লাখ চল্লিশ হাজার (এই সংখ্যা নিয়ে অনেক জায়গায় দ্বিমত আছে তবে নিম্নে দেড় লাখ উপরে চার লাখ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় বর্ননা আছে) সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী প্রেরন করেন এই বাহিনীকে প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে আমর ইবনুল আস এবং আবু উবাইদার নেতৃত্বে ইয়ারমুক নামক স্থানে অবস্থান নেয়। ওদিকে খালিদ বিন ওয়ালিদ ও এসে এখানে অবস্থান নেয় তাদের সম্মিলিত সৈন্য সংখ্যা ছিল ৩৫০০০ থেকে ৪০০০০। প্রায় মাসাধিক কাল এই ইয়ারমুকে যুদ্ধ সংগঠিত হয় এবং বাইজান্টাইন বাহিনী পরাজিত হয় সময় ৬৩৬ খ্রিষ্টাব্দ। ইতিহাসে এই যুদ্ধ “ব্যাটেল অভ ইয়ারমুক” নামে পরিচিত। বাইজান্টাইনদের পক্ষে প্রায় এক লাখ সৈন্য ( অল্প কিছু এদিক ওদিক আছে বিভিন্ন ঐতিহাসিকের মতে) আর মুসলমানদের পক্ষে তিন হাজারের মত সৈন্য নিহত হন। সেনাপতি থিওডোরাসও নিহত হন। পারস্য বিজয়ে যেমন কাদেশিয়ার যুদ্ধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন তেমনি ইয়ারমুক যুদ্ধও বাইজান্টাইন দখলে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ন বলে বিবেচিত হয়। এই যুদ্ধে বাইজান্টাইনদের মনোবল ভেঙ্গে যায়। মুসলমানদের সিরিয়া বিজয়ের সব বাধা প্রায় দূরীভুত হয়।

এখানে মুসলিম ইতিহাসের এক অন্যতম বড় ঘটনা ঘটে, ইয়ারমুকের যুদ্ধের অব্যাবহিত পরেই খলিফা উমর “সাইফুল্লাহ” (আল্লাহর তরবারি) উপাধিপ্রাপ্ত হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে পদচ্যুত করেন। খালিদ অপরাজেয় হওয়ায় অনেক মুসলিম তার কারণে যুদ্ধে বিজয় অর্জিত হচ্ছে বলে বিশ্বাস করতে শুরু করে। এই ব্যাপারে উমর বলেছিলেন :"আমি খালিদ বিন ওয়ালিদকে আমার ক্রোধ বা তার দায়িত্বহীনতার কারণে অব্যাহতি দিই নি, এর কারণ ছিল আমি লোকদের জানাতে চাইছিলাম যে বিজয় আল্লাহর তরফ থেকে আসে।" (দেখুন Conquerors of Palestine Through Forty Centuries by Allenby, Viscount, পৃঃ ৭০) এখানে আরো একটু বর্ননা না দিলেই নয় খালিদ মারাশ অধিকার করার কিছুকাল পর জানতে পারেন যে খ্যাতনামা কবি আশ’আস খালিদের প্রশংসা করে কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন। খালিদ তাকে ১০,০০০ দিরহাম উপহার হিসেবে দেন। উমর এই ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হিসেবে বিবেচনা করেন। উমর আবু উবাইদাকে চিঠি লিখে আশ’আসকে দেয়া খালিদের অর্থের উৎস বের করার নির্দেশ দেন। বলা হয়েছিল যে যদি খালিদ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে দেন তবে তা ক্ষমতার অপব্যবহার। আর যদি তিনি নিজের অর্থ প্রদান করেন তবে তা অপচয়। উভয় ক্ষেত্রেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হবেন। ( দেখুন A history of Palestine, 634–1099 by Gil, Moshe পৃঃ ৪৭)। যাই হোক এনিয়ে চাইলে অনেক কিছু লেখা যায় তবে কথা না বাড়াই, ইতিহাসের বীর অন্যতম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ খলিফার কথা মেনে নিয়ে পদত্যাগ করেন বিনা প্রশ্নে। এই ঘটনা ৬৩৮ সালে। হযরত খালিদের জায়গায় দায়িত্ব নেন হযরত আমর। (দেখুন আল্লাহর তরবারী খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা) )


Map of the Muslim invasion of Syria and the Levant
(September 636 to December 637)


খলিফা ওমরের শাসনকালের অন্যতম উল্লেখ্য যোগ্য ঘটনা জেরুজালেম বিজয় সময় কাল ৬৩৭ সাল। তখন জেরুজালেমের দায়িত্বে ছিলেন বাইজেন্টাইন সরকারের প্রতিনিধি ও স্থানীয় খ্রিস্টান গীর্জার প্রধানঃ যাজক সোফ্রোনিয়াস। খালিদ ইবন আল-ওয়ালিদ (রাঃ) এবং আম্‌র ইবন আল-আস্ (রাঃ) এর নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী শহর অবরোধ করা শুরু করলেও উমর (রাঃ) নিজে এসে আত্মসমর্পণ গ্রহণ না করলে আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানান যাজক সোফ্রোনিয়াস।

এমন পরিস্থিতির খবর পেয়ে উমর ইবন আল-খাত্তাব (রাঃ) একাই একটি গাধা এবং এক চাকরকে নিয়ে মদীনা ছেড়ে জেরুজালেমের উদ্দেশে যাত্রা করেন। জেরুজালেমে সোফ্রোনিয়াস তাঁকে স্বাগত জানান। মুসলিমদের খলিফা, তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি উমর (রাঃ) ছিলেন খুব সাধারণ বুননের পোষাকে। তাঁকে ও ভৃত্যের মধ্যে কে উমর তা আলাদা করা যাচ্ছিলনা। এ অবস্থা দেখে সোফ্রোনিয়াস খুবই বিস্মিত হন।



এরপর উমর (রাঃ) কে পবিত্র সমাধির গীর্জাসহ পুরো শহর ঘুরিয়ে দেখানো হয়। নামাজের সময় হলে সোফ্রোনিয়াস তাঁকে গীর্জার ভেতর নামাজ আদায় করার আমন্ত্রণ জানান, কিন্তু উমর (রাঃ) তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, যদি তিনি সেখানে নামাজ আদায় করেন তাহলে পরবর্তীতে মুসলিমরা এই অজুহাত দেখিয়ে গীর্জাকে মসজিদে রূপান্তরিত করবে – যা খ্রিস্টান সমাজকে তাদের একটি পবিত্র স্থান থেকে বঞ্চিত করবে। বরং উমর (রাঃ) গীর্জার বাইরে নামাজ আদায় করেন যেখানে পরবর্তীতে একটি মসজিদ নির্মিত হয় (যা “মসজিদে উমর” নামে পরিচিত)।

৬৪০ সালে সমগ্র সিরিয়া, ফিলিস্তিন, পারস্য বিজয় সম্পন্ন হলে এক আকস্মিক সমস্যা তৈরী হয়, তা হল দুর্ভিক্ষ এবং মহামারী। এতে প্রায় ২৫০০০ মানুষ মারা যায়, এমন কি মুসলিম সেনাপতি আবু উবাইদা, ইয়াজিদ এবং সোরাহবিলও মারা যান। খলিফা নিজে সিরিয়ায় উপস্থিত হয়ে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করেন। এখানে আর একটা ব্যাপার উল্লেখ্য করতে হয় উমার (রা) এর বিখ্যাত একটি উক্তি রয়েছে, তিনি বলেছিলেন সেই দুর্ভিক্ষের সময়, “আজ যদি ফোরাতের তীরে একটা কুকুর না খেতে পেয়ে মারা যায়, তবে তার জন্য আমি উমার আল্লাহ্‌র কাছে দায়ী থাকব।”

খলিফা যখন জেরুজালেম আসেন তখন সেনাপতি আমর ইবনুল আস তার কাছ থেকে মিশর দখলের অনুমতি নিয়ে নেন। মিশর দখলের উদ্দেশ্যে ৬৩৯ সালে ১২ ই ডিসেম্বর আমর ইবনুল আস তার সেনাবাহিনী সহ রওনা হন পথে ৬৪০ সালে হেলিওপোলিসের যুদ্ধে মুসলমানরা বাইজাইন্টাইনদের পরাজিত করে এর পর অগ্রসর হয়ে মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া অবরোধ করেন এবং ৬৪১ খ্রিষ্টাব্দের ৮ ই নভেম্বর এই শহরের পতন ঘটে।

খলিফা উমরের শাসনকাল মুলতঃ মুসলিম সাম্রাজ্যের সম্প্রসারন কাল। অসংখ্য বীর সেনাপতি এবং সৈন্যদের অসাধারন ত্যাগের মাধ্যমে মুসলমানরা বিভিন্ন রাজ্য দখল করে এক শক্ত ভীতের ওপর দাড়ায়। তার সময় ইসলাম যেমন শক্তভীতের ওপর দাঁড়ায় তেমনি ইসলামের বিপর্যয়ের ক্ষীন আভাষ ও দেখা দেয় কথিত আছে পারস্যের লুন্ঠিত মালামাল যখন মদীনায় পাঠানো হয়েছিল তখন খলিফা ওমর কেঁদে দিয়ে বলেছিলেন, “এই সমস্ত লুন্ঠিত দ্রব্যের মাঝে আমি আমার লোক জনের ভবিষ্যত ধ্বংস দেখতে পাচ্ছি।” বাইজান্টাইন এবং পারস্য দখল করার পর মুসলমানদের মাঝে বিলাসিতা আর ভোগের প্রতি আসক্তির জন্ম নেয়া শুরু হল। তবে উমর (রাঃ) তা রোধ করার জন্য কিছু পদক্ষেপ নেন।

খলিফা উমর তার বিশাল খেলাফতে কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি প্রদেশিক শাসন ব্যাবস্থা চালু করছিলেন। খলিফার একছত্র ক্ষমতার অধিকারী হয়েও তিনি একটা আইনসভা বা পরামর্শ সভা গঠন করেন। তিনি ঘোষনা দেন “পরামর্শ ছাড়া কোন খেলাফত চলতে পারে না”। এই পরামর্শ সভা দুই ভাগে বিভক্ত ছিল, মজলিশ- আল আম এবং মজলিশ- আল খাস। এর পাশাপাশি তিনি নিয়মিত বেতনভুক সামরিক বাহিনী, গুপ্তচর বাহিনী তৈরী করছিলেন। একজন ন্যায় পরায়ন শাসক হিসাবে উমর (রাঃ) ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন সেক্ষেত্রে তার বিচার ব্যাবস্থা ইসলামের ইতিহাসে যে উদাহরন হয়ে থাকবে সে তো খুব স্বাভাবিক।

সে আমলের তুলনায় নিজে শিক্ষিত ছিলেন বিধায় শিক্ষা ব্যাবস্থা প্রসারে হযরত উমরের বিশাল অবদান আছে যা বিস্তারিত লেখা এখানে সম্ভব না, একই সাথে তার জনহিতকর কাজের বিবরন দেয়াও এই স্বল্প পরিসরে প্রায় অসম্ভব বিধায় সেদিকে আর যাব না। কা’বা শরীফের সম্প্রসারন, মসজিদে নববীর সংস্কার ও সম্প্রসারন ও তার হাত দিয়ে ঘটে। মসজিদে আলো এবং সুগন্ধির ব্যাবস্থা ও তিনি করেন, ইমাম মুয়াজ্জিনদের বেতন ভাতাও তার একটি উল্লেখ্য যোগ্য কাজ। ইসলামী মুদ্রার প্রচলন তার উল্লেখ্যযোগ্য কাজের একটি। তার সময় বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে অমুসলিমদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত ছিল। এই পর্যায়ে এসে হযরত উমর (রাঃ) কাজের বিবরন বাড়ালে এই লেখা শেষ করা সম্ভব হবে না। তাই আপাতত ক্ষান্ত দিয়ে তার মৃত্য এবং উত্তারাধিকারী নির্বাচন দিয়ে লেখা শেষ করব।

৬৩৬ সালে যখন পারস্যের রুস্তম পরাজিত হন, তখন তাঁর বাহিনীর এক সেনা ক্রীতদাস হিসেবে মুসলিমদের অধিকারে আসে। তার নাম ছিল ফিরোজ ওরফে আবু লুলু। তাঁকে মুগিরা (রা) এর অধিকারে দেয়া হয়। ফিরোজ অবশ্য মুসলিম ছিল না।একদিন ফিরোজ হযরত উমার (রা) এর কাছে এলো এবং বলল যে মুগিরা (রা) তার উপর বেশি কর আরোপ করেছেন। উমার (রা) মুগিরার উত্তর তলব করলেন। মুগিরা (রা) এর উত্তর সন্তোষজনক ছিল। উমার (রা) তখন ফিরোজকে বললেন, “তুমি নাকি ভালো বায়ুকল বানাও, আমাকেও বানিয়ে দাও একটা।” ফিরোজ উত্তর দেয়, “আমি এমন কল আপনাকে বানিয়ে দেব যে সারা বিশ্ব মনে রাখবে।”

উমার (রা) জানতেন না ফিরোজকেই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে উমার (রা)-কে হত্যার, পারস্য জয়ের প্রতিশোধ হিসেবে। সেদিন রাত্রে হযরত আবু বকর (রা) এর পুত্র আব্দুল রাহমান দেখলেন হরমুজান, ফিরোজ আর জাফিনা (খ্রিস্টান) এক জায়গায় জটলা হয়ে কথা বলছে। এমনিতে এটা অস্বাভাবিক কিছু ছিল না। কিন্তু তাঁর উপস্থিতি টের পেতেই ফিরোজের হাত থেকে একটা দুই-মুখা ছোড়া পড়ে গেল। এই ছোরাটা যে হরমুজানের ছোরা সেটা তিনি জানতেন। কিন্তু এখানে কোনো অপরাধ সংঘটিত হচ্ছিল না যে সেটা দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে।

পরদিন ভোরবেলা, ৬৪৪ সালের ৩১ অক্টোবর। ফিরোজ মসজিদে নববীতে গিয়ে ফজরের নামাজে ইমামতি করতে থাকা উমার (রা)-কে উপর্যুপরি ছয় বার আঘাত করল পেটে এবং শেষে নাভিতে। নাভির ক্ষতটা ছিল মরণক্ষত। উমার (রা) পড়ে গেলেন। ফিরোজ পালাতে গেল। কিন্তু চারপাশে এতো মানুষ ছিলো যে সে পালাতে পারল না। কিন্তু পালাতে গিয়ে আরো ১২ জনকে আঘাত করল যার ৬ বা ৯ জন পরে মারা যান। তারপর নিজের ছোরা দিয়ে আত্মহত্যা করে ফিরোজ।

পরে আব্দুল রাহমান সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, এ ছোরাই তিনি ফিরোজের হাতে দেখেছিলেন সেই রাতে, যেখানে হরমুজান আর জাফিনা ছিলেন। এ ঘটনা জানবার পর উমার (রা) এর পুত্র উবাইদুল্লাহ ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে হরমুজান ও জাফিনাকে হত্যা করেন। এমনকি ফিরোজের কন্যাকেও হত্যা করে ফেলেন প্রতিশোধের আগুনে, যদিও কথিত আছে সেই কন্যা মুসলিম ছিলেন। প্রমাণ ব্যতীত এই প্রতিশোধ-হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করায় মৃত্যুশয্যায় শায়িত উমার (রা) নিজ পুত্রকে কারাবন্দী করবার নির্দেশ দেন, এবং বলে যান পরবর্তী খলিফা যা ভালো মনে করেন সেটাই সিদ্ধান্ত নেবেন তাঁর ব্যাপারে। একজন অমুসলমানের হাতে মৃত্যুঘাতী আঘাত প্রাপ্ত হবার পরো তিনি বলে গেছেনঃ “তোমরা অমুসলিম প্রজাদের সাথে উত্তম ব্যাবহার করবে” (দেখুন আল বুখারী, কিতাবুল জিযযা, অধ্যায় ৩)।

উমার (রা) তিন দিন পর এই ক্ষত থেকে মারা যান। দিনটি ছিলো ৬৪৪ সালের ৩ নভেম্বর বুধবার। মারা যাবার আগে উমার (রা) ছয়জনকে নিয়োগ দিলেন একটি কমিটি গঠন করতে। এদের মাঝেই নিজেরা আলোচনার মাধ্যমে খলিফা নির্বাচিত করবেন। এ ছয়জনই ছিলেন সেই ১০ সাহাবীর অন্তর্গত যাদের সম্পর্কে মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) বলে গিয়েছিলেন যারা নিশ্চিত বেহেশতে যাবেন। তালিকায় আরও একজন ছিলেন, কিন্তু তাঁকে উমার (রা) বাদ দেন আত্মীয় বিধায়। কারণ তিনি চাননি নিজের আত্মীয় কাউকে খলিফা নিয়োগ দিয়ে যেতে। এই ছয়জনের ছিলেনঃ হযরত আলী ইবনে আবু তালিব (রাঃ), হযরত উসমান ইবনে আফান (রাঃ), হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাঃ), হযরত সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রাঃ), হযরত যুবাইর ইবনে আউয়াম (রাঃ), হযরত তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রাঃ)

উমার (রা) চাইলেন তাঁর কবর যেন আবু বকর (রা) আর হযরত মুহাম্মাদ (সা) এর কবরের পাশেই হয়। যেহেতু এ কবর দুটো ছিল আইশা (রা) এর প্রাক্তন ঘরে, তাই তিনি তাঁর কাছেই অনুমতি চাইতে পাঠালেন কাউকে। ক্রন্দনরত আইশা (রা) জানালেন, তিনি নিজের কবরের জন্য সেই ঘরের বাকি জায়গাটা রাখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু উমার (রা) অধিকতর শ্রেয়, অবশ্যই তাঁর কবর ওখানে হবে।


ডান দিক থেকে প্রথম জানালা দিয়ে উঁকি দিলে আপনি হযরত উমার (রা) এর কবর দেখতে পারবেন

১০ বছর ২ মাস খেলাফত কালে ৬০ বছর বয়সে ইসলামের এই দ্বিতীয় খলিফা ৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩রা নভেম্বর তারিখে উমার (রা) মারা যাবার পর তাঁকে মসজিদে নববীতে রাসুল (সা) এর পাশে সমাহিত করা হয়।


আততায়ী ফিরোজ বা আবু লুলুর কথিত সমাধি ইরানের কাশান থেকে ফিন্স যাবার পথে পড়ে।

এই লেখা লিখতে গিয়ে অনেক শিয়া মতবাদ দেখতে হয়েছে যা সুন্নী মতবাদের সাথে ভীষন বিতর্কিত তাই সেগুলো বাদ দিয়ে লিখছি যেমন হযরত উমর (রাঃ) হত্যাকারী আবু লুলু শিয়াদের কাছে অনেক সন্মানিত। আততায়ী ফিরোজ বা আবু লুলুর কথিত সমাধি ইরানের কাশান থেকে ফিন্স যাবার পথে পড়ে। অনেকটা মাজারের মতো। ইরানের শিয়া মতবাদে হযরত উমার (রা)-কে অন্যায় খলিফা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। উমার (রা)-কে হত্যা করায় ফিরোজের উপাধি হয় বাবা সুজাউদ্দিন (‘ধর্মের বীর রক্ষক’)। উমার (রা) এর মৃত্যুদিবস ৯ রবিউল আওয়াল কিছু কিছু ইরানি গ্রামে উদযাপিত হয়। আগে অনেক জায়গায় হতো, কিন্তু কিছু আরব বিদ্রোহের পর সেটা নিষিদ্ধ করা হয়। এই উদযাপনের নাম জাশ্নে ওমার কোশি (‘উমার নিধন উদযাপন’)। ২০১০ সালে ফিরোজের মাজার ধ্বংস করবার জন্য International Union for Muslim Scholars অনুরোধ জানায়। কিন্তু ইরান এটাকে ইরান-বিরোধী দাবি হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে। প্রখ্যাত আল-আযহার ইউনিভার্সিটিও এই মাজার ধ্বংস করতে বলে। এর ফলে ইরান এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে। তবে শেষ পর্যন্ত ২০১০ সালে মাজারটি বন্ধ করে ইরান। এখন সেটা স্থানীয় পুলিশের হেড অফিস।

শিয়া মতবাদে উমার (রা)-কে কিছু কারণে অত্যন্ত ঘৃণা করা হয়। কারণ হিসেবে বলা হয়, গাদির খুম এর একটি বিখ্যাত ঘটনা পরিপ্রেক্ষিতে ফাতিমা (রা), আলী (রা) ও তাঁর পক্ষের লোকজন মনে করেছিলেন আলী (রা) হবেন প্রথম খলিফা। যদিও আলী (রা) পরবর্তীতে আবু বকর (রা) এর কাছে বাইয়াত দিয়েছিলেন, কিন্তু শিয়া মতবাদে এখনও সেটাই বিশ্বাস করা হয়। এজন্য প্রথম তিন খলিফাকে তারা অস্বীকার করে, এবং ব্যক্তি বিশেষে অভিসম্পাত বর্ষণ করে থাকে। অবশ্য হযরত মুহাম্মাদ (সা) এর হাদিস অনুযায়ী তাঁরা সকলেই নিশ্চিত বেহেশতবাসী ১০ জনের মধ্যে অন্তর্গত। শিয়া মতবাদ অনুযায়ী, যখন আবু বকর আলী (রা) এর আনুগত্য আনতে ফাতিমা (রা) এর বাসায় যান তখন সেখানে আলী (রা)-ও অবস্থান করছিলেন। বলা হয়, উমার (রা) হুমকি দেন বাসা পুড়িয়ে দেবার যদি আলী (রা) বেরিয়ে না আসেন। বেরিয়ে না আসাতে উমার (রা) নাকি দরজা লাথি দিয়ে ঢুকে পড়েন যার ফলে ফাতিমার গায়ে আঘাত লাগে, ফলশ্রুতিতে এক পর্যায়ে তাঁর গর্ভপাত হয়, তাঁর সন্তান মুহসিন গর্ভে ছিল। কোনো কোনো শিয়া মতে বলা হয়, আলী (রা) তরবারি তুলে দৌড়ে আসেন, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে বলা হয় জুবাইর (রা) উমার (রা)-কে মুকাবিলা করতে যান তরবারি হাতে। তবে সুন্নি মতবাদ অনুসারে এরকম কোনো ঘটনা আদৌ ঘটেনি। আলী (রা) এবং উমার (রা) এর ভালো সম্পর্ক ছিল, এমনকি আলী (রা) এর মেয়েকে তিনি বিবাহ করেছিলেন পর্যন্ত। যেখানে আলী (রাঃ) তার কন্যা উম্মে কুলসুম (রাঃ) কে হযরত উমর (রাঃ) এর সাথে বিয়ে দেন সেখানে ওই সব শিয়া ধারনা আমার কাছে একান্তই ভ্রান্ত মনে হয়েছে ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোন থেকে।

পরের পর্বঃ খোলাফায়ে রাশেদিন হযরত উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)

নোটঃ এই লেখা গুলো লিখতে গিয়ে আমি ধর্মীয় দৃষ্টিকোন ব্যাবহারের থেকে ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোনের প্রতি বেশী খেয়ালা রেখেছি, তারপরো কোথাও যদি কোন ভুল কারো কাছে পরিলক্ষিত হয় দয়া করে রেফারেন্স সহ জানালে কৃতজ্ঞতার সাথে ঠিক করে দেব। পরিসরের কারনে অনেক কিছুই বাদ দিয়ে যেতে হয়েছে যা আমার ইচ্ছা কৃত না একান্ত অনিচ্ছাকৃত।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মার্চ, ২০২০ রাত ১১:১৭
২১টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিছুটা আত্মকথন, কিছুটা স্মৃতিচারন আর আমার গানের ভুবন!!!

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০১ লা জুন, ২০২০ সকাল ১১:৩৩




কোন একটা ক্রাইসিসে একেক মানুষ একেকভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়। কারন, ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সবার একরকমের হয় না। মানুষ হিসাবে আমি কেমন….…..দুর্বোধ্য নাকি সহজবোধ্য? প্রশ্নটা আমার নিজের কাছেই।

গত কয়েকদিন ধরে মাথায় ঘুরছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

» প্রকৃতির ছবি, দেশের ছবি (ক্যানন ক্যামেরায় তোলা-৭)

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০১ লা জুন, ২০২০ বিকাল ৪:০০

বিভিন্ন সময়ের তোলা কিছু ছবি ।
১। পিটুনিয়া



কেমন আছেন সবাই? কেমন ছিলেন? বন্দিত্বের দিনগুলোতে। অনেক দিন গ্যাপ হয়ে গেলো পোস্ট দিচ্ছি না। বন্দি থেকে থেকে হয়রান হইতে হইতে অফিস করছি এখন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

খানসাব জানিলো কেমনে !!

লিখেছেন নূর মোহাম্মদ নূরু, ০১ লা জুন, ২০২০ বিকাল ৪:৩৫


খানসাব জানিলো কেমনে!!
নূর মোহাম্মদ নূরু

ও মনু তাইলে তুমিও ছিলা ওদের দলে
বুঝছ এখন ক্যামনে তুমি পড়াছা যাতা কলে!
বারোটা সাঙ্গাত যখন উঠলা রাতের ট্রেনে
মতি গতি ভালোনা তা বুঝলো আামার ব্রেনে।

মজা করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমেরিকান সৌন্দর্য্য

লিখেছেন শের শায়রী, ০১ লা জুন, ২০২০ বিকাল ৫:০৩



একেই বলে আমেরিকান সৌন্দর্য্য। সব খানে জর্জ ফ্লয়েডের কারনে আমেরিকায় শুধু মারামারি, হানাহানির ছবি খবর দেখে বিরক্ত। কারন এতে আমি নতুনত্ব কিছু খুজে পাই নাই। আমাদের দেশে এসব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ

লিখেছেন অনল চৌধুরী, ০১ লা জুন, ২০২০ রাত ১০:৪০



ইউরোপ-এ্যামেরিকায় প্রতিদিন মুসলমান-এশিয় ও আফ্রিকানদের উপর জঘন্য বর্ণবাদী আক্রমণ হয়।
এ্যমেরিকাতে এখনো কালোদের প্রায় ক্রীতদাসই ভাবা হয়।

তাদের প্রতি পুলিশের আচরণই তার প্রমাণ।পুলিশ তাদের যেকোনো সময়ে বিনা অপরাধে গ্রেফতার এমনকি হত্যাও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×