somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কুয়ালালামপুর ঘুরে দেখা -১

১১ ই মে, ২০১৩ সকাল ১০:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



লংকাউই থেকে ফিরে এসে নতুন হোটেলে উঠলাম। লংকাউই যাওয়ার আগে হোটেলটা বুক করেছিলাম। তবে রুমটা চেক করিনি। হোটেলটা বাইরে ভাল লাগলেও ভেতরে পুরনো। মন খারাপ হয়ে গেল। কারো আর মন বসছে না এই হোটেলে। তাই রাত্রেই বের হলাম নতুন হোটেলের সন্ধানে। সুন্দর হোটেল পেলাম কাছেই। পরের দিনের জন্য রুম বুক করালাম কিছু এডভান্স দিতে হলো। সকালে আমরা মোহাম্মদের সাথে শহরটা ঘুরে দেখব, ঠিক করলাম। আমরা ঝলমলে কে এল টাওয়ার, পেট্রোনাস টাওয়ার ও অন্যান্য দর্শনীয় জায়গায় যাব তার সাথে।

সকালে উঠে প্রথম কাজ এই হোটেল থেকে চেক আউট। জিনিসপত্র নিয়ে নতুন হোটেলে সেট হয়ে মোহাম্মদকে কল দিলাম। তার সাথে যাত্রা শুরু হলো কে এল টাওয়ারের দিকে। কুয়ালালামপুরের রাস্তায় তখন ও মানুষ বেশী নেই। মারদেকা স্কোয়ারের পাশ দিয়ে আমরা এগিয়ে চলছি। দূর থেকে কে এল টাওয়ার দেখা যাচেছ।
কে এল টাওয়ার

কে এল টাওয়ার বা কুয়ালালামপুর টাওয়ারকে মালয়ী ভাষায় বলে মিনারা কুয়ালালামপুর। এটা মূলত একটা কমিউনিকেশন টাওয়ার। কুয়ালালামপুরের দুটো দর্শনীয় আকাশচুম্বী স্থাপনার মধ্যে এটা একটা। ১ লা মার্চ ১৯৯৫ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। মালোশিয়ার ৪র্থ প্রধানমন্ত্রী মহাথীর মোহাম্মদ ১লা অক্টোবর ১৯৯১ সালে এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। ১ লা মে ১৯৯৬ সালে সাধারণের জন্য এই টাওয়ার উুুক্ত করে দেয়া হয়। এর মেইন লবি কাঁচের কারুকার্যখচিত গম্বুজের মত এবং এটার নকশা ইরানের ইস্পাহানের কারিগরের হাতে বানানো। এই টাওয়ারের ছাদে একটা এন্টেনা আছে যার উচ্চতা ৪২১ মিটার এবং ছাদ পর্যন্ত উচ্চতা ৩৩৫ মিটার।


টাওয়ারের সামনে ট্যাক্সি থেকে নামলাম। পার্কিং এলাকা বাইরে। সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠেই টিকেট কাউন্টার। সুন্দর খোলা জায়গা সেখানে মালোশিয়ান কালচারের প্রদশনী চলছে। হালকা মিউজিকের তালে তালে ঐতিহ্যবাহী পোষাক গায়ে দিয়ে একটা দল নাচ পরিবেশন করছে। টিকেট কিনে লিফটের দিকে এগিয়ে গেলাম। এই টাওয়ারে আগেও উঠেছি এবার বাচ্চাদের নিয়ে অবজারভেশন ডেক থেকে কুয়ালালামপুর শহর দেখব।


দ্রুতই চলে এলাম অবজারভেশন ডেকে। এখানে অনেক সুভ্যেনিয়ের দোকান হয়েছে। ফুড কোট ও আছে বেশ কিছু। বাচ্চারা ঘুরে ঘুরে চারিদিক দেখার জন্য ব্যস্ত। আমরা আস্তে আস্তে কুয়ালালামপুরের অপূর্ব সুন্দর দৃশ্য দেখছি। নেতৃত্ব ও দেশপ্রেম এই দেশটাকে অনেক এগিয়ে নিয়ে এসেছে। সুভ্যেনিয়ের দোকানে হঠাৎ দেখি এক বাংলাদেশী সেলসম্যান। এখানে দাম বেশী মনে করে কিনব না ঠিক করেছিলাম। পরে দেখলাম বেশ রিজনেবল দাম এবং সস্তা মনে হলো। অনেকগুলো সুভ্যেনির কিনলাম।

এখানে এসে খালি মনে মনে ভাবছি আমাদের দেশটা কবে এমন হবে। নীচে নামার পর সুন্দরভাবে সাজানো মালোশিয়ান কালচারাল ভিলেজ এলাকায় গেলাম।


অনেক অর্কিড, ফুল, মালোশিয়ার পতাকা দিয়ে রং বাহারী করা হয়েছে। উপরে নীল পরিস্কার আকাশ, তীব্র সূর্যের আলো, খোলা জায়গা বয়ে যাওয়া বাতাস সব মিলে অন্য রকম দৃশ্য।

তবে গরম বেশী বলে ছায়ার দিকে দাড়ালাম। বাচ্চাদের এবং গোটা পরিবারের ছবি তুললাম। কত সুন্দর ভাবে সাধারন দৃশ্যগুলো এরা পর্যটকদের কাছে আকর্ষনীয় করে তুলেছে। আমাদের গাড়ী পোর্চে চলে এসেছে। পরবর্তী গন্তব্য টুইন টাওয়ার।

ছবি নেট ও নিজস্ব
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছোট গল্পঃ শেষ জীবনে

লিখেছেন সামিয়া, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৯



ঘুমিয়ে থাকা একজন মানুষ কখনো কখনো জেগে থাকা একজন মানুষের চেয়ে অনেক বেশি ভালো থাকতে পারে? কথাটা শুনতে অদ্ভুত। কিন্তু বয়স হলে মানুষ অনেক অদ্ভুত কথাই বিশ্বাস করে চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাবধান, এই ফলগুলো খাওয়ার আগে সচেতন হোন।

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২২

আজ কথা বলব একটা ভিন্নধর্মী সচেতনার বিষয় নিয়ে।
আপনারা অনেকেই জানেন, আপেলের বীজ বিষাক্ত, বেশি পরিমাণে খেলে মানুষ মারা যায়। কখনও ভেবেছেন, কেন মারা যায়? ঘটনাটা আসলে কী?

এর মূলে আছে Amygdalin... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রপতি পদে আনভীর সোবহানকে দেখতে চাই।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২


সায়েম সোবহান আনভীর। এক বিশাল বিজনেস টাইকুন, বসুন্ধরা গ্রুপের যোগ্য কান্ডারী। আহা, কী তার ব্যক্তিত্ব! দেখতে যেমন সুন্দর, চরিত্রও যেন মাশাআল্লাহ্ ফুলের মতো পবিত্র। আর বসুন্ধরা গ্রুপের কথা তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই/ঝুলাই

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১৯



আমরাই মারবো,লাশ করবো গুম,
আমরাই জানাবো শোক!

আমরাই বলবো , গলা ফাটা চিৎকারে-
ওরা ছিলো আমাদেরই লোক॥

আমরাই বাঁধাবো দু’তরফা দাঙ্গা,
... ...বাকিটুকু পড়ুন

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"..

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৯

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"
-একজন গুমের শিকার মানুষের চোখে একটি ভয়াবহ সত্যের দলিল।

“আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ: দ্য আয়নাঘর ফাইলস”- নামটি যতটা আকর্ষণীয়, বইটির ভেতরের সত্য তার চেয়েও বেশি নির্মম, বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×