
আমরা এখন এমন একটা সময় পার করছি যা আগে কখনো দেখিনি। ইরানের এই যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয় তাহলে আমাদের জীবন ও জীবিকার উপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। আমরাও এখন প্রযুক্তি নির্ভর জীবন যাত্রার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি। আর তা সচল রাখতে জ্বালানির ভুমিকা মুখ্য। এই জ্বালানি সরবরাহের উপর যে কাল ছায়া নেমে এসেছে এর প্রভাব সামনের দিনগুলোতে মোকাবেলা করতে আমাদেরকে প্রস্তুত হতে হবে।
এই সংকট মোকাবেলা করে আমাদেরকে টিকে থাকতে হবে, এর কোন বিকল্প নেই তাই আমাদের জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন ও সমন্বয় করতে হবে। ইন্টারনেট চালাতে, ল্যাপটপ ও যোগাযোগে, সি সি ক্যামেরার পাওয়ার, পানি ফিল্টার, রেফ্রিজারেটর, সুউচ্চ ভবনগুলোতে পানি উত্তোলনে, কোল্ড স্টোরেজ, গরমের দিনে ফ্যান, এ সি ব্যবহার সামনের দিনগুলোতে বাড়বে। আমাদেরকে সংযমী হতে হবে। দিনের আলো ব্যবহার, রাতে আলোকসজ্জা ও অপ্রয়োজনীয় বাতি ব্যবহার থেকে বিরত থাকা। পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযত হওয়া। খাবারে ব্যয় সংকোচন, পরিবহন খাতে সংযম, আপ্রয়োজনীয় যানবাহন ব্যবহার বন্ধ করা। হাঁটা ও অযান্ত্রিক পরিবহনে কাজ সারার চেষ্টা করা। যে যার অবস্থান থেকে এই উদ্যোগে সামিল হতে হবে। বিন্দু বিন্দু থেকে সিন্ধু হয় তাই প্রতিটি সচেতন মানুষ এই কাজে সহযোগিতা করতে হবে।
সামাজিকভাবে চাঁদাবাজি বন্ধে উদ্যোগ নেয়া, পরিবহনে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ন নিয়ন্ত্রণে আনা, কৃষির দিকে মনোযোগ দেয়া। কৃষি পণ্য উৎপাদনে স্বাবলম্বী হওয়ার উদ্যোগ চলমান রাখা।
দেশের টাকা বিদেশে পাচার বন্ধের উদ্যোগ নেয়া এবং দেশের টাকা দেশে বিনিয়োগ করা। সারা বিশ্ব এখন অশান্ত, টাকা পাচার করে অন্য দেশে ভালভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ শেষ হয়ে আসছে। এই টাকা পাচার না করে অনেক কম টাকাতে দেশেই ভাল জীবন যাপন সম্ভব।
স্কুল কলেজ মসজিদ মন্দির মাদ্রাসায় দেশ প্রেম ও সংযমী হওয়ার বিষয়ে প্রেষণা প্রদান চালিয়ে যাওয়া। মধ্যপ্রাচ্যের শ্রম বাজার ও রেমিটেন্স নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ পড়বে। প্রশিক্ষিত জনবল গড়ে তুলে নতুন নতুন দেশে কর্ম সংস্থানের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। বিদেশে আমাদের মিশন গুলো একাজে ভালভাবে সহযোগিতা করতে পারে।
রোজার ভিতর ইরানে যেরকম আক্রমণ চলছে সেভাবে আমাদের এই মুসলিম প্রধান দেশের মুসলমান বড় ব্যবসায়ীরা জরুরী পণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে একই ধরনের অপরাধ করছে। এই বিশাল জনগণের বাজারের কারনেই আমাদের ব্যবসায়ীরা এই দেশে ব্যবসা করে লাভবান হচ্ছে। তাই তাদের উচিত দেশের ও মানুষের বিপদের সময় বেশী লাভের কথা চিন্তা না করে অল্প লাভে জনগণের সমস্যাকে সমাধানে এগিয়ে আসুক। সমাজ ও জনগণের বিপদে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে যে কোন সংকট মোকাবেলায় এগিয়ে আসবে এটাই হোক আমাদের লক্ষ্য।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



