দুপুরে খাওয়া দাওয়া শেষে বের হলাম কুরিয়ারের উদ্দেশ্যে ।হোস্টেল থেকে বাহিরে বের হতেই অনুভব করলাম যে বাহিরের আবহাওয়া যথেষ্ট খারাপ ।এ অবস্থায় বাহিরে বের হওয়া মোটেও ঠিক না ।কিন্তু জরুরী কুরিয়ার, না গেলেই নয় ।হোস্টেলের বাহিরে একটা রিকশাও দেখলাম না ।তাই নিরুপায় হয়ে হাটতে শুরু করলাম ।হাটতে হাটতে যখন ভার্সিটি গেটে পৌঁছালাম তখন হঠাৎ এক ঝড়ো হাওয়া এসে চলার পথে বাঁধা সৃষ্টি করলো ।ধূলি ঝড়ে অগ্রসর হতে পারছি না ।রাজশাহীর আবহাওয়া কিছুটা এমনই ।সবসময় নাটকীয়তায় ভরা ।এই ঝড় তো একটু পরেই তপ্ত রোদেলা আকাশ ।তাই কিছুটা সময় দাঁড়িয়ে রইলাম ।ব্যাগ থেকে চশমাটা বের করে পরে নিলাম ।কিছু সময় পর ধূলিঝড় থামলো । তখনও আমি ভার্সিটি গেটে দাঁড়িয়ে ।হঠাৎ চোখ পড়লো গেটের যে দিকটায় আমি দাঁড়িয়ে আছি তার ঠিক উল্টা দিকে ।একটি লোক আমার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে ।লোকটার পরনে একটা মেটে রঙা শার্ট ,বয়স ঠিক ২৭/২৮ ।রোদে পোড়া চেহারা ।লোকটির এভাবে তাকিয়ে থাকাতে কিছুটা বিব্রতবোধ করলাম ।সাথে সাথে মনে কিছুটা ভয়ের সঞ্চার হলো ।হাইজাকার না তো আবার ।লোকটির দিকে না তাকিয়ে তাড়াতাড়ি একটা অটোরিকশা ডাকলাম ।কুরিয়ারের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম ।কুরিয়ার শেষে আবার হোস্টেলের উদ্দেশ্যে যাত্রা ।ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সময় ৩:৩০ ,কিন্তু এতো অন্ধকার কেন ??? আকাশ মেঘে ঢাকা ।রাস্তা পার হয়ে বড় রাস্তায় আসলাম ।অটোরিকশার আসায় ।দাঁড়িয়ে আছি ।কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অটো দূরে থাকুক, একটা রিকশাও নেই । তাছাড়া রাস্তায় কোন জনমানব দেখা যাচ্ছে না ।কাঁধের কাছে হঠাৎ যেন নিশ্বাসের শব্দ পেলাম ।পিছনে তাকিয়ে দেখি সেই লোকটা ।হৃদস্পন্দন থেমে যাওয়ার উপক্রম ।সেই মেটে রঙা শার্ট ।সেই রোদে পোড়া চেহারা ।সেই অপলক দৃষ্টি ।
কানে কার যেন কথার শব্দ ।আরে আমার রুমমেট না ???
কিরে ক্লাসে যাবি না ???তোর না আটটা থেকে ক্লাস ।কি গভীর ঘুম রে তোর!!! কতক্ষণ থেকে ডাকতেছি ।
হুম, উঠতেছি ।কি যে সব স্বপ্ন দেখলাম ।তাও আবার সকালে ।শুনেছি সকালের স্বপ্ন নাকি সত্যি হয় ।
কি স্বপ্ন ???
না থাক ।তুই তো আমার চাইতে বেশি ভীতু ।তোরে না বলি ।
থাক ।বলা লাগবে না ।রেডি হয়ে ক্লাসে চল ।
সকালের ক্লাস শেষ করে হোস্টেলে ফিরছি ।কিছুটা ক্লান্ত ।অরিনের প্রস্তাবে রাজি হয়ে ক্যান্টিনে গেলাম ।কিছু খাওয়া দরকার ।হঠাৎ অরিন বললো, জানিস গত রাতে আমাদের ভার্সিটি গেটে একটা লোক এ্যাকসিডেন্টে মারা গেছে ।বয়স প্রায় ২৭/২৮ ।এখনও কোন পরিচয় জানা যায় নি ।আজকে পেপারে ছবি দিছে ।
ক্যান্টিন থেকে হোস্টেলে ফিরলাম ।এ্যাকসিডেন্টের কথাটা তখনও মাথায় ঘুরছে ।লোকটার বয়স ২৭/২৮ ।বুকের মাঝের হৃদস্পন্দন হঠাৎ স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হতে থাকলো ।সকালের খবরের কাগজ খুলে খবরটা দেখে স্তব্ধ হয়ে গেলাম ।পাশে মৃত লোকটার ছবি ।সেই মেটে শার্ট ।সেই রোদে পোড়া চেহারা ।অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে লোকটা যেন কিছু বলতে চাইছে ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




