somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অন্তর্মূখী (ধারাবাহিক গল্প)

০৬ ই জুন, ২০১৭ ভোর ৪:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




বেলকনীতে রাখা ফুলের টবে প্যারোডিয়া ক্যাকটাস বুনেছিলাম।' প্যারোডিয়া' হচ্ছে ক্যাকটাসের এমন একটি জাত যার গা চিরে বেরিয়ে এসে ফুল দ্যাখে সূর্যের আলো। আমার বুক চিরে হৃদয়ের যে অংশ বেরিয়ে আসে তাকে ফুল হিসেবে ধরে নিলে 'আমি’ নামক ফুলের গায়েও সূর্য তার আলো ফেলে যায়। ভিনদেশী বান্ধবী শার্লট আমায় একটি "জড় বস্তু" বলে ডাকে। ছোট্টবেলার বন্ধু সবুজ কথায় কথায় "ননসেন্স' শব্দটি আমার উপর প্রয়োগ করে । কিন্তু ওরা জানেনা যে আমি নীরবে রবি শঙ্কর , বিথোভেন, চপিন, মোজার্ট শুনি। ওরা জানেনা, আমার অস্বচ্ছ আলমারিতে লুকিয়ে আছে অজস্র পঠিত কবিতা, গল্প, উপন্যাস। ওরা জানেনা যে কাঁধে বস্তা বয়ে নিয়ে বেড়ানো টোকাই বাচ্চাগুলোকে দেখলে ঘরের কোণায় আমি বুকের চিনচিন ব্যাথার যন্ত্রণায় কাতরাই। এ বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলো আমায় অবশ্যই একজন কোমল হৃদয়ের ব্যক্তি হিসেবে প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট নয় । কিন্তু আমার সেন্স কিংবা আমার জীবনের ধাঁচটা একটু অন্যরকম। তা যেমন আমি ব্যাখ্যা করতে পছন্দ কিংবা স্বাছন্দ্যবোধ করিনা ঠিক একই ভাবে আমি চাইনা নিজেকে অন্যভাবে প্রকাশ করতে গিয়ে সবার কাছে যেন আলোচনার পাত্র হই। আমি একজন ইন্ট্রোভার্ট । তবে আমি জড় কিংবা ননসেন্স নই। পার্টিতে খাবার ফুরিয়ে গেলেও বড়জোর না খেয়ে চুপটি থেকে বাড়িতে ফেরত আসি। বইয়ের শেষ লাইনটা কিছু নতুন চিন্তার জন্ম দিলেও তা নিয়ে কারো সাথে আলোচনা করা নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দে থাকি কিংবা কলিগ সায়েম , রিয়াজদের কথায় মনে মনে স্পষ্ট ভুল ধরতে পেরেও চেঁচিয়ে উঠে বলতে পারিনা যে 'ভুলভাল বকা বন্ধ কর'। তাই বলে আমায় ওরা জড় বা ননসেন্স ধরণের শব্দ দ্বারা সংজ্ঞায়িত করতে পারে না। এ ভারী অন্যায়। যদি একবার ওদের বোঝাতে পারতাম! কানের কুঠুরি বরাবর একটা হ্যান্ডমাইক ধরে বলতে পারতাম 'হতচ্ছাড়ার দল!! আমায় অমন নামে আর ডাকবি না'- তারপরও কি আমি শান্তি পেতাম? জানি না। জানি ওরা আমার চারদেয়ালের ভেতরের যন্ত্রণা কোন দিনও বুঝবেনা। অবশ্য আমার বলার প্রয়োজনও নেই।
(চলবে..)



(ছবি সোর্স ঃ ইন্টারনেট)
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুন, ২০১৭ ভোর ৪:১৩
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাসূলের (সা.) একমাত্র অনুসরনীয় আহলে বাইত তাঁর চাচা হযরত আব্বাস ইবনে আব্দুল মোত্তালিব (রা.)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩




সূরাঃ ৩৩ আহযাব, ৩২ নং ও ৩৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩২। হে নবী পত্নিগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও। যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তবে পর পুরুষের সহিত কোমল... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোরগের ডাক , বিজ্ঞানের পাঠ এবং গাধার প্রতি আমাদের অবিচার

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৫৫


গ্রামে বেড়ে ওঠা মানেই একটা অসাধারন শৈশব। আমাদের সেই শৈশবের একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল মক্তবের মৌলভি সাহেবদের গল্প। তারা বলতেন, ভোররাতে মোরগ ডাকে কারণ সে ফেরেশতা দেখতে পায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে? নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত হারিয়ে গেছে ??

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত হারিয়ে গেছে ?? সামু ব্লগের এই ক্রান্তিকালে বিষয়টি নিয়ে একটু আলোচনা/পর্যালোচনা করে কিছু সময় কাঠানো যাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:০০

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বহুবার প্রমাণ হয়েছে যে, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি থাকে তার তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। তাদের শ্রম, ত্যাগ, জেল-জুলুম সহ্য করার মানসিকতা এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

খাজনা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



মন! মানুষের মন! মানুষকে তছনছ করে দেয়!
কখনো সে বাঘ, কখনো সে অজগর, কখনো সে শত্রু, কখনো সে বন্ধু!
কখনো সে ঈশ্বর, কখনো সে শয়তান, কখনো সে নিয়তি!
বিদিকিচ্ছিরি কান্ড!

লম্বা টানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×