বাঙালি হিসেবে আত্মজিঞ্জাসা
১৪ জুলাই দু’দিনের জন্য হুট করেই গিয়েছিলাম খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়িতে। সাথে আরো তিনজন। তপু, মিরাজ আর এনায়েত। পাহাড়ে এর আগেও অনেকবার গিয়েছি। রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি আগেই দেখা হয়েছে। তবে লক্ষীছড়িতে এবারই প্রথম। বড় কথা হলো এবারের অভিজ্ঞতা (উপলব্ধিও বলা যায়) অন্যবারের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন।
লক্ষীছড়ির রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম পাহাড়ি মানুষগুলো ফিরে ফিরে আমাদের দিকে তাকাচ্ছে। এর অর্থ খুঁজতে গিয়ে মনে হলো শুধু আমরা নতুন বলে নয়, এ তাকানোর মাঝে আারো কিছু বিষয়ও জড়িয়ে রয়েছে। কিছুটা অবিশ্বাস, কিছুটা ঘৃণাও যে এর সাথে জড়িয়ে নেই তা জোর দিয়ে বলতে পারলাম না। এ বিশ্বাসটা আরো জোরদার হলো যখন বাঙালিদের কাছ থেকে একই প্রশ্ন বার বার শুনতে হলো, ‘আপনার কোন কোম্পানি থেকে এসেছেন?’ তার মানে কি এখানে স্বার্থ ছাড়া কেউ আসেনা? বাঙালিরা তাদের স্বার্থ হাসিল করতে গিয়েই যে পাহাড়িদের মনে অবিশ্বাস ও ঘৃণার সৃষ্টি করেছে, সে হিসাব মেলানোর চেষ্টা করলাম। আমাদের কাছে একজন ব্রিটিশ কিংবা একজন পাকিস্তানি যে অর্থ তৈরি করতো পাহাড়িদের কাছে নিজেকে সেই চরিত্রে আবিস্কার করলাম। নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছিল। আর এ বোধ থেকেই কিছু প্রশ্ন মনের মধ্যে বারবার উঁকি দিচ্ছিল।
সংবিধানে আদিবাসী মানুষগুলোকে কেন জাতি হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়ে উপজাতি বলা হলো? অব্যাহত দাবি জানিয়ে আসলেও কেন স্বাধীনতার ৩৮ বছর পরেও তাদের এ দাবি মেনে নেয়া হচ্ছে না? প্রায় এক যুগ হয়ে গেলেও কেন শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন হচ্ছেনা? জায়গায় জায়গায় আর্মি ক্যাম্প বসিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করা হলো কেন? কেন পাহাড়ি এলাকাগুলো এখনো এতটা অবহেলিত? উপজেলা সদরের বাইরে এখনো কেন তথাকথিত সভ্যতার কোনো আলো পৌঁছায়নি? একই রাষ্ট্রের অধিবাসী হয়েও কেন তারা মৌলিক অধিকার বঞ্চিত হবে? নিজেদের মাতৃভাষায় কেন তারা পড়াশুনার সুযোগ পাচ্ছেনা? এখনো কেন অব্যাহতভাবে চলছে পাহাড়ি উচ্ছেদ অভিযান? কেন পাহাড়িদের দমিয়ে রাখার জন্য বাঙালিদের ‘প্রহসনমূলক পুনর্বাসন’? পার্বত্য চট্টগ্রামকে ‘বাঙালি মুসলিম’ অধ্যুষিত অঞ্চলে পরিণত করার মাস্টারপ্ল্যান কেন নেয়া হলো? এসব কিছুতে বিুব্ধ হয়ে তারা যদি বিদ্রোহী হয়ে ওঠে সেক্ষেত্রে তাদেরকে আসলে কতটা দায়ি করা যাবে? তাহলে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ কারা- তারা না আমরা? আমার ছোট মাথায় কোনো সমাধান না পেয়ে প্রশ্নগুলো ঘোরাফেরা করছিল।
আমরা যার কাছে গিয়েছিলাম তার মাধ্যমে জানতে পারলাম উপজেলা সদর হাসপাতালে চারজন এমবিবিএস ডাক্তার ও একজন কনসালটেন্ট থাকলেও বর্তমানে সেখানে মাত্র দু’জন ডাক্তার আছেন। তাও তারা নিজেদের মধ্যে কাজ ভাগ করে নিয়েছেন। এক সপ্তাহ একজন তো পরের সপ্তাহ আরেকজন। অন্যরা চট্টগ্রামে থাকেন । মাসে মাসে শুধু বেতন তুলে নিয়ে যান। আরো জানতে পারলাম লক্ষীছড়ির একমাত্র কলেজটিতে শিক্ষক আছেন মাত্র একজন! ফলে একাডেমিক ও প্রশাসনিক সব কাজই তাকে একা সামলাতে হয়। পড়াশুনার অবস্থা আন্দাজ করতে কষ্ট হলোনা।
চট্টগ্রামে ফিরে আসার আগে এক পাহাড়ি বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ ঘটে। পরিচয় হয় সাগর চাকমার সাথে। তার আতিথিয়তায় আমরা যারপরনাই বিমোহিত। কোন পরিচয় না থাকা সত্ত্বেও তারা এতটা অতিথিপরায়ন!
শেষ মুহূর্তের এই ঘটনাটা আমাকে আরো অপরাধী করে দেয়। প্রশ্নগুলো আবারো আসতে থাকে একের পর এক- পাহাড়ি-বাঙালি সমস্যার সমাধান হবে কবে? কেন স্বার্থ ছাড়া কোন বাঙালি পাহাড়ে যাবেনা? কবে পাহাড়িরা বাংলাদেশকে তাদের নিজের দেশ বলে মনে করবে? আর কতদিন তারা আমাদের পর ভাববে? আমরা আর কতকাল শোষকের চরিত্র ধারণ করব???
‘Ripe Age’ এবং নিঃসঙ্গতাবোধ
(চিন্তাসূত্রঃ হঠাৎ পাওয়া একটি চমৎকার ভিডিও ক্লিপ এবং অতঃপরের ভাবনা। ভিডিও লিঙ্কঃ Click This Link
জানিনা, এটা কোন ‘AI content’ কিনা, তবে ৯৯ বছরের পার্থক্যে থাকা এই বৃদ্ধা এবং শিশুটির... ...বাকিটুকু পড়ুন
রাষ্ট্রের ভুলের মূল্য কি তবে শিশুদের জীবন ?

যেকোনো দেশে শিক্ষিত নাগরিককে রাষ্ট্রের সম্পদ মনে করা হয়। তাদের জ্ঞান, বুদ্ধি আর অভিজ্ঞতা দিয়ে রাষ্ট্র উপকৃত হবে, এটাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা। কিন্তু বাংলাদেশে অনেক সময় চিত্রটা যেন উল্টো।... ...বাকিটুকু পড়ুন
ব্লগের সুদিন ফিরিয়ে আনতে ব্লগ টিমের প্রতি বিনীত আবেদন

শ্রদ্ধেয় ব্লগ টিমের প্রতি বিনীত নিবেদন,
ব্লগের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কিছু কথা দীর্ঘদিন ধরেই মনে জমে আছে। কথাগুলো কোনো অভিযোগ হিসেবে নয়, বরং একজন সাধারণ ব্লগার ও... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাংলাদেশে কোন 'জঙ্গী' নেই
'জং' শব্দটার অর্থ 'যুদ্ধ'। এভাবে, জঙ্গী কথাটার অর্থ দাঁড়ায় - যোদ্ধা বা যুদ্ধ করেন। যে কোন যুদ্ধই প্রাণহানি ডেকে আনে। আগের কালে, রাজারা যুদ্ধ করে দেশ জয় করতেন। তাঁদের অণ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
এই প্রথম খাল বাবার পলিটিক্যাল ম্যাচুরিটির নিদর্শন পেলাম
২০১০ সালে ফেব্রুয়ারীর ২২ তারিখ। মেয়েলি ব্যাপার বলি, প্রতিহিংসার ব্যপার বলি অথবা পলিটিক্যাল ইমম্যাচুরিটির কথা বলি, বাংলাদেশ জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নতুন করে আকীকা দিয়ে নাম রাখা হয়েছিল হযরত শাহজালাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।