শুয়ে পড়েছি, হঠাৎ ধড়মড় করে ওঠে বসলাম। ডাক্তারদের নিয়ে এই ষ্ট্যাটাসটা না দিলেই না।
ডাক্তারী একটা পেশা। বইয়ের ভাষায় বলতে গেলে মহৎ পেশা। শিক্ষকতাও বইয়ের ভাষায় মহৎ পেশা। এবার ডাক্তার বন্ধুদের প্রশ্ন করতে চাই, আপনি টাকা খরচ করে আপনার সন্তানকে শিক্ষকের কাছে অংক পড়তে দিলেন। শিক্ষক টাকা নিলো, পড়ানোর নামে কিছুই পড়ালো না। উল্টা আরো কিছু জিহাদী, জঙ্গী শিক্ষা দিয়ে আপনার সন্তানকে ধংস করে দিলো। বইয়ের ভাষায় যে পেশা মহৎ পেশা, শিক্ষকতা। সেই শিক্ষককে আপনি বাদশা আলমগীর হয়ে মাথায় তুলে নাচতে নাচতে বলবেন "আজ হতে চির-উন্নত হল শিক্ষাগুরুর শির?"
কয়দিন আগেইতো স্বনামধন্য এক ডাক্তার, ধানমন্ডির স্বনামধন্য এক হাসপাতালে মারা গেলেন ডাক্তারদের অবহেলায় ও ভুল চিকিৎসায়। ঐ ডাক্তার যদি আপনার পরিবারের কেউ হতো তাহলে মেনে নিতে পারতেন??
কথা খুব সহজ, আপনি সাধ্যমত চেষ্টা করার পরেও যদি রুগির অবনতি হয় এবং রুগির স্বজনেরা আপনাদের দোষ দেয়, আপনাদের সাথে খারাপ আচরণ করে তাহলে তা দুঃখজনক। অবশ্যই দুঃখজনক।
এর চাইতেও দুঃখজনক হলো, কথায় কথায় যে আপনারা চিকিৎসা বন্ধ করে দেন এইটা। আপনাদের কাছে আমরা জিম্মি। আপনারা আমাদের কষ্ট কমান, মৃত্যু ঠেকায়ে রাখেন। এইইতো আপনাদের ক্ষমতা, নাকি?
আপনাদের চাইতে বড় মনের পেশা হচ্ছে মুচির পেশা। দুই একটা জুতায় গন্ধ থাকলে তারা জুতা সেলাই করা বন্ধ করে দেয়না।
কোন রাস্তাই কাঁটা ছাড়া না। প্রফেশনাল হেসেল সব জায়গাতেই আছে। আপনারা মনে করেছেন যারা ইঞ্জিনিয়ার তারা খুব ভালো আছে? মাসের পর মাস রাত,দিন খেটে হয়ত আপনাদের কোন একটা ব্লাড টেষ্ট বা অন্য কোন কিছুর সফটওয়্যার বানানোর পরেও যখন মালিক বলে, কি ফালতু কাজ করছেন? গেট আউট ফ্রম মাই অফিস। তখন ইঞ্জিনিয়াররা কি বলে ডাক্তারদের যন্ত্রপাতি বানাবো না?
এতই যদি ক্ষমতা থাকে তো দেন না বন্ধ করে। চির দিনের মতই প্র্যাকটিস বন্ধ করে দেন। এই আপনিই, এই আপনার খুব কাছের মানুষটিই তখন হয়ত বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে। আমার ডাক্তার বন্ধুরাই হয়ত দেখবে আমি খুব সস্তা একটা রোগে মারা যাচ্ছি, অথচ দেশে কোন ডাক্তার নাই দুই টাকা দামের একটা ট্যাবলেট খাইয়ে আমাকে বাঁচানোর।
সাধারন মানুষ ৯৯.৯৯% ই আপনাদের সম্মান করেন। আজকাল তো পাঁচশো, হাজার টাকার নীচে কোন ডাক্তারের ভিজিটই নাই। অনেক কষ্টে জমানো টাকায় ভিজিট দিয়ে যখন আপনাদের কাছে যায়। তখন আপনাদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ভাব দেখেও বলার সাহস পায় না, স্যার আমার সমস্যাটা একটু খুইল্যা কই। এত এত দিনের অপেক্ষায় যে মানুষটা জীবন মৃত্যুর দোলায় চেপে আপনার কাছে গেলো তাকে আপনি ২ মিনিটও সময় দিলেন না! তখন কি অন্য ডাক্তাররা বলেন, আমাদের মান সম্মান নষ্ট করাতে পারবেন না, রুগিকে মনযোগ দিয়ে দেখুন।
যাই হোক, ভালো কথা, দেন সব বন্ধ করে দেন। অসুস্থ মানুষ বেঁচে থেকে করবেটা কি? ফাও পরিবারের বোঝা। যারা ন্যাচেরালি নিরুগ মানুষ, তারাই বেঁচে থাকুক। আপনারা ডাক্তার থাকার দরকার নাই, মানুষ হয়ে যান।
(এই লেখা অবশ্যই তাদের জন্য প্রযোজ্য না, যারা মানুষ সেবার ব্রত নিয়ে ডাক্তারী করেন)
পরিশেষেঃ আমার মা কয়েক বছর ধরেই অসুস্থ, ভীষণ অসুস্থ্য। মা'কে নিয়ে ঢাকায় হাসপাতল টু হাসপাতাল দৌড়েছি। ডাক্তার বদলেছি, কাজের কাজ কিছুই হয়নি। দীর্ঘদিন হাসপাতালে থেকে মা ঢাকার ডাক্তারদের উপর বিরক্ত হয়ে দেশের বাড়ী চলে গেলেন। কুমিল্লায় গিয়ে ডাঃ শশাংক শেখর মন্ডল নামের এক মহাপুরুষের সন্ধান পেলেন। যিনি তাঁর চেষ্টা, মমতা দিয়ে কোমা থেকেও আমার মা'কে ফিরিয়ে এনেছেন। দাদা দুই একবার ঢাকায় আমার বাসায় এসেছেন। আমাদের প্রফেট সাঃ তাঁর মাথার পাগড়ী খুলে যেমন তাঁর দুধ মা হালিমাকে বসতে দিয়েছিলেন আমিও তেমনি আমার সাধ্যের সমস্ত সম্মান এই মহামানবকে করি। কে বলেছে আমরা ডাক্তারদের সম্মান করি না? এর ধারে কাছের সম্মান অন্য কোন পেশার লোকেরা পেয়ে থাকেন?
*******************************
Answer to Dr. সিরাজুম মনিরা মোহনা,
আমার লেখায় কোথাও ডাক্তারদেরকে ছোট করিনি বরং অন্য সব প্রফেশন থেকে বেশী সম্মানের কথাই বলেছি। আর আপনারা ডাক্তাররা মাইর খেলে এমন করে চিকিৎসা বন্ধ করে দিয়ে কি বুঝাতে চান? ধরেন বিশ্বকাপ খেলা চলছে, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ম্যাচ। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলো। এলাকার সবাই গিয়ে বেচারা ইঞ্জিনিয়ারকে মাইরধর করলো, সাবষ্টেশান ভাংচুর করলো। ইঞ্জিনিয়াররা বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রাখবে? নাকি ইঞ্জিনিয়াররা আপনাদের কাছে গুনায় পড়েনা?
রোগির আত্মীয়-স্বজন মারা গেলে ইমোশনাল হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। আপনাদের সিলেবাসে এই বিষয়টা হেন্ডেল করার কৌশল অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিৎ। যে বেচারার মা মারা গেলো বলে আপনাকে গালমন্দ করলো, সেই লোকটাই মায়ের দাফন টাফন করার পর হয়ত আপনার চেম্বারে এসে বসে রইলো, আপনি না গেলে সে মিলাদ শুরু করবে না। তখন এই ভালোবাসার কাছে কি তার সেন্টিমেন্টের সময়ের আচরণ ক্ষমাযোগ্য না।
মাইর দেওয়া, গালমন্দ করা এইগুলো ভদ্র সমাজের কথা না। আমরা এখনো সম্পূর্ণ ভদ্র হয়ে যাইনি বলেই এমন আনএক্সপেক্টেড কিছু ঘটনা ঘটছে। শুধু যে ডাক্তারদের সাথেই ঘটছে তা না। বাসের কন্ডাকটারি করাও একটা পেশা, এদের সাথেও আনএক্সপেক্টেড ঘটনা ঘটছে। আর এক্সেপশন কেন নট বি দ্যা এক্সামপল।
আপনাদেরকে রাগানোর জন্য বলছিনা। জাষ্ট চিন্তা করে দেখুন, আপনি যখন ডাক্তার হননি তখন রুগিরা কি আপনার হাত পা ধরে বলেছে, প্লিজ আপনি ডাক্তার হয়ে আমাদের বাঁচান? আপনি নিজের তাগিদেই ডাক্তার হয়েছেন। হয় ইনকাম করার জন্য নাহয় মানুষ সেবা করার জন্য। তো আমার কথা হলো, যেহেতু আপনি দেখছেন প্রফেশনে থাকাটা রিস্কি, তো প্রফেশন চেঞ্চ করে ফেলেন অথবা বিদেশ চলে যান। আর যদি মানুষ সেবার ব্রতই নিয়ে থাকেন তো আপনি নিজের তাগিদেই সেবা দিবেন, বন্ধ করে দিতে পারবেন না।
আর আপনি আমার মায়ের কথা বল্লেন তো, হ্যাঁ ডাক্তারের কাছেই গিয়েছিলাম। তিনি মানুষ সেবার ব্রত নেওয়া ডাক্তার। আর এই কারনেই আমি উদাহরণ দিয়ে বলেছি, নবীজি যেমন মাথার পাগড়ী খুলে উনার দুধ মা হালিমাকে বসতে দিয়েছিলেন নবী হওয়ার পর। আমিও তেমনি আমার সাধ্যের সমস্ত সম্মান আমি ওই ডাক্তারকে করি।
আপনারা মানুষের সম্মানটা দেখবেন না, লাখে দুই একজনের ভুলের কারনে গোটা মানুষদের সার্ভিস দেওয়া বন্ধ করে দিবেন। ভীষন ক্ষমতা আপনাদের। কারন কি জানেন? কারন আপনাদের হাতে আমাদের প্রাণের সমাধান। বলেন, যা খুশি বলেন। এই লেখা লেখার পর যদি অসুস্থ হয়ে যাই তখন এই আমিই আপনাদের সামনে এসে হয়ত বলবো ডাক্তার সাহেব বাঁচান। তো আপনারা যা খুশি করবেন না তো কারা করবে?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



