ঈদ রিলেটেড একটা কথা বলবো। কিন্তু তার আগে একটা ছোট্ট ভনিতা করে নেই -
"ছোটলোক" শব্দটার ধার দিনে দিনে কমতে কমতে এখন এইটা একটা সুইট গালি হয়ে গেছে। বন্ধুদেরকে আদর করে আজকাল বলতে শুনা যায়
'তুই এত ছোটলোক কেন বলতো! ৫০০ ধার চাইলাম আর ৫০০ ই দিলি! একটু বিবেচনা কইরা দেখবি না যে বিপদে আছি? দে কোনার ঐ নোটটাও দে...'
তার মানে টা কি? মানে হলো, এভরিথিং ইজ চেঞ্জিং, চেঞ্জিং ফর গুড। আসলেইতো ছোটলোক, বড়লোক নাইতো। যা আছে তা হলো কম ইনকাম করা লোক আর বেশী ইনকাম করা লোক। মানুষ হিসাবে আমরা সবাই সমান।
ভনিতা শেষ, এবার মুদ্দা কথায় আসি। সামনে ঈদ, রবি সুন্দর একটা আ্যাড দিচ্ছে। রিচার্জ করলেই তারা এর একটা অংশ সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের (দেখুন গরীব বলে নাই, ভাবনাগুলো কত সুন্দর হয়ে যাচ্ছে দিনকেদিন) ঈদের জামা কিনতে খরচ করবে। ধনাদের অনেকেই হয়ত লোক দেখানোর জন্য হলেও কিছু না কিছু খরচ করবে। লোকদেখানোর ফাঁকে কয়েকজন হলেও সুবিধাটা পাবে।
আমার প্রস্তাবটা হলো। আমার আপনার ধারে কাছেই হয়তো কোন না কোন বন্ধু, আত্মীয় আছে যারা খুব ভালো সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে না। তারাও সুবিধাবঞ্চিত। কিন্তু বলবে না এই কথা। শুধু একটু চোখটা খুলে দেখুন, ঠিকই পেয়ে যাবেন। হয়ত তুমুক খালাতো ভাইয়ের সময়টা ভালো যাচ্ছে না। ধরলাম সংসারে সবার জন্য জামা কাপড় কিনতে পারবেন না। ধরলাম একজনের জন্যও জামা কাপড় কিনতে পারবেন না। একটা জিনিস কিন্তু পারবেন। দুই প্যাকেট সেমাই, এক লিটার দুধ, বাচ্চা থাকলে চকলেটের একটা ব্ক্স এইসব কিনে একটা সুন্দর ব্যাগে করে হাসতে হাসতে গিয়ে দিয়ে আসুন।
ঘর হইতে দুই পা ফেলিয়া আমরা একটি ধানের শীষের উপর একটি শিশির বিন্দু দেখি না। কাছের সুবিধাবঞ্চিতদের দেখলে দূরের মানুষ এসে দেখে দিতে হবে না। আসুন না কাছের মানুষগুলোর পাশে দাড়াই। পরীক্ষিত এবং প্রমানীত একটা সত্য বলি, এতে করে আপনি নিজেকে আরো বেশী শ্রদ্ধা করতে পারবেন। আর একটু বেশী সুখী মনে করবেন নিজেকে। কি হবেন সুখী এই ঈদে?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




