তিনটা জিনিস - মুরগী, গাভী আর বাঘ। ব্যাস আর লাগবে না।
প্রথমে আসি মুরগীর ইস্যুতে। রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছেন। সামনে পড়লো একটা মুরগী। কুত করে দৌড় দিয়ে ঝোপের আড়ালে চলে যাবে। এই একই মুরগী কয়েকদিন পর যখন মা হবে, তখন? রাস্তা দিয়ে তার কিউট কিউট বাচ্চাগুলা নিয়ে হাটছে। আপনি সামনে পড়লেন। এখনো কি কুত করে দৌড় দিয়ে ঝোপের আড়ালে যাবে? জীবনেও না। অদম্য সাহস নিয়ে আপনাকে এটাক করতে আসবে। আপনাকেই সমীহ করতে হবে। পাশ কেটে, ভয়ে ভয়ে এগুতে হবে।
এবারে গাভীর পালা। ছোটবেলায় দেখতাম, গাভী কেনার পর ব্যবসায়ীরা গাভীর গলায় দড়ি লাগাতেন না। জাষ্ট বাছুরটাকে কাঁধে করে নিয়ে হাটা দিতেন। মা পিছু পিছু হেটে যেত, হোক সে কয়েক মাইলের দূরত্ব। মা তার সন্তানকে দৃষ্টির আড়ালে যেতে দিবেন না।
রইলো বাঘের কথা। এইটা অবশ্য দেখা কথা না। পড়াশুনা করে, মুখে মুখে শুনে জানা কথা। বাঘীনির বাচ্চা হওয়ার পর সে কিছুতেই বাঘকে কাছে আসতে দেয়না। তার ধারনা, বাঘ তার বাচ্চাদের খেয়ে ফেলবে অথবা ঠিকমত যত্ন নিতে পারবেনা এমন কিছু একটা। তাই বাঘ কাছে আসা মানেই বাঘীনির অগ্নিমূর্তী। শিকার এটাক করতে বাঘের যতটা হিংস্রতা থাকে তারচেয়েও বেশী হিংস্র হলো সন্তানের সম্ভাব্য আঘাত ঠেকানো বাঘীনি।
শেষমেষ বলি নিজের কথা। প্রিয়কে টান দিয়ে কাছে এনে একটু হয়ত বুকে নেওয়ার চেষ্টা করছি। খুব সাবধানে প্রিয়'র মা ঘাড় উচা করে একটু পরপর দেখবে প্রিয়'র শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছে কি না। প্রিয়র নাকে হয়ত একটু নাকটা ঘসা দিলাম। ঘাড় কাত করে দেখি ওর মা শক্ত হয়ে আছে। ভ্রু নাচায়ে যদি জিজ্ঞাসা করি, ঘটনা কী? খুব হালাক করে বলবে, ওর মুখের উপা শ্বাস ফেইলো না। প্রিয়কে ঘুম পাড়ায়ে হয়ত তার মা ঘুমিয়েছে। বাবু হয়ত হিসু করে ঘুম ভেঙ্গে ওঠেছে। ঘুম ভাঙ্গার পর আমি কাঁথা চেঞ্চ করে খুব আস্তে আস্তে বাবু'র সাথে খেলি। তার অক্লান্ত পরিশ্রম করা মা যেন একটু নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে। কয়েক সেকেন্ড পরেই তার মা জেগে যায়। ধরমর করে ওঠে আমার দিকে এমন ভাবে তাকায় যেন কাঁথা বদলাতে গিয়ে প্রিয়কে নিশ্চই আমি ব্যথা দিয়েছি।
শেষ কথা:
সিনেমার ডায়লগ আছে না, তোর কি মা, বোন নাই? বোন না থাকতে পারে। প্রত্যেকেরই মা যে আছে তা তো নিশ্চিৎ। আর প্রত্যেকটা মা ই সমান দরদী। হোক সে মুরগীর মত সাহসী, গাভীর মত অতন্দ্র প্রহরী, বাঘীনির মত হিংস্র অথবা প্রিয়'র মায়ের মত মমতাময়ী। আপনার প্রেমিকা, বউ তারাও এই একই মমতার ফোয়াড়া। রাস্তা দিয়ে হেটে যাওয়া, পাশের ডেস্কে কাজ করা মেয়েটাও একই জাতের।
অতএব হৃদয়ের সর্বোচ্চা শ্রদ্ধা, ভালোবাসা যেন প্রত্যেকটা নারী পায় এই বিষয়ে আমিতো ওয়াদা দিয়েছি। আপনি?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




