বউরে বল্লাম
- বউ ব্রডকাষ্ট অ্যান্ড ক্যাবসেট ম্যাগাজিনের এবারের সংখ্যায় কার কার লেখা গেছে জানো?
তিনি প্রিয়কে খাওয়াচ্ছিলেন। কোন উত্তর দিলেন না। শুধু ভ্রু গুলো একটু কুঞ্চিত হলো। বিরক্ত হয়েছেন বুঝলাম। কিন্তু আবেগ আটকে রাখতে পারলাম না। বল্লাম
- ইন্ডিয়ার ইনফরমেশান মিনিষ্টার অরুণ জেইটলি। তারপরে এনডিটিভির একজিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান, দূরদর্শণের ডিডিজি, জি নেটওয়ার্কের প্রেসিডেন্ট টেকনোলজি...
গিন্নির ঘার আস্তে আস্তে প্রিয়র মুখ থেকে সরে আমার দিকে আসতে শুরু করলো। আর আমার গলার সাউন্ড আস্তে আস্তে কমতে থাকলো। লাষ্টের প্রেসিডেন্ট টেকনোলজিটা এমনভাবে বল্লাম যে আমি নিজেই শুনলামনা।
প্রিয় খাওয়া বাদ দিয়ে অপেক্ষা করছে। পরিবেশ থমথমে, ওর মা এমন সিচুয়েশানে খুব ভালোবাসা নিয়ে শীতল গলায় কিছু একটা বলে। প্রিয় অপেক্ষা করছে এর জন্য। প্রিয়র বাপ (অর্থাৎ আমি) অপেক্ষা করছি এর জন্য। কিন্তু না, তিনি কিছু বল্লেন না। তিনি আবার প্রিয়কে খাওয়ানো শুরু করলেন। আমি বেকায়দায় পড়লে, প্রিয় হাসে। খুব মজা নিয়ে শরীর কাঁপায়ে ঈ ঈ করে হাসে। আমার নয় মাসের প্রিয় ঠিক বুঝলো না, কেন অন্যদিনের মত ওর মা কিছু বল্লো না। সে হাসিটা মিস করে অবাক হয়ে খাওয়া গিলতে শুরু করলো। বাচ্চারাও মনে হয় বিপদের গন্ধ পায়।
পাশে ভাগ্নিটা ছিলো। সে জিজ্ঞাসা করলো
-মামী আপনি খুশি হন নাই?
তিনি খুব সংক্ষিপ্ত ভাবে বল্লেন
- হইসি।
কিন্তু তার ভ্রুঁ কুঞ্চিত থেকে কুঞ্চিততর হলো। কুঞ্চিততম হওয়ার আগে খুব জরুরি একটা কাজের কথা মনে পড়েছে ভাব দেখায়ে নিজের রুমে চলে গেলাম।
শুনলাম তিনি দাঁতে দাঁত চেপে কড়কড় করে বলছেন
- লেখক বিয়া করছি আমি, লেখক...
-০-
প্রিয় তো হাসি মিস করলো, আমার কপালে যা আছে তা মিস হবে না নিশ্চৎ। এখন ম্যাগাজিনে অরুণ জেইটলির সাথে লেখা যাওয়ার পরিনাম আমাকে কোন পর্যন্ত নিয়ে যায় কে জানে। চকলেট ফকলেটেও কোন কাজ হবে বলে মনে হয়না।
ইংরেজীতে একটা কথা আছে প্রিভেনশান ইজ বেটার দেন কিউর। প্রিভেনশানটা এখন কি দিয়া করবো তাই ভাবতেছি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


