বড় ভাই শাষণ করছে ছোট ভাইকে
- মা'র সামনে জোরে কথা বলছিস! খান** ছেলে তোরে আইজ আমি জুতায়ে...।
পহেলা বৈশাখে যা ঘটলো তার উদাহরণ খোঁজছিলাম। এর চাইতে ভদ্র কোন উদাহরণ আর পেলাম না। কারন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাঠকের মন্তব্য পড়লাম। আমি নিউজ পড়ার পাশাপাশি এর ফিডব্যাকটাও পড়ি। বেশীরভাগ মানুষের মন্তব্য হলো
- ঠিকই আছে। কেন পহেলা বৈশাখ করতে বের হইছে? এ্ইসব কি ইসলামে আছে?
আমার উত্তর হলো, ভাইরে ইসলামেতো লাক্স সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার কথাও বলা নাই। আর বাংলাদেশতো ইসলামী-রাষ্ট্র না। আমাদের নিজস্ব সংবিধান আছে।
আর রাস্তায় মেয়েদের গায়ে হাত দেওযার কথা কি কোন ধর্মে বলা আছে? যে বাচ্চাটাকে নিয়ে মা বাবা ঘুরতে বের হয়েছে, তার সামনে তার মাকে যৌন নির্যাতন করার কথাকি কোন ধর্মে বলা আছে?
কেন সব কিছুতে এমন করে ধর্মকে টেনে আনেন আপনারা? সময়ের সাথে সাথে মানুষের জীবনে ধারা বদলায়। হাজার বছর আগে গ্লাডিয়েটর ছিলো। তখন মানুষ ষ্টেডিয়ামের মত জায়গায় খেলা দেখতে যেতো। যেখানে একটা মানুষ, আরেকটা মানুষকে মেরে ফেলবে। এদেরকে বলা হতো গ্লাডিয়েটর। বছরের বিবর্তণে এই খেলা হয়ে গেলো মানুষের মাথার খুলি দিয়ে লাথি মারা খেলা। যা বর্তমানে রূপ নিয়েছে ফুটবল খেলায়।
পহেলা বৈশাখের বিষয়টাও এসেছে আয়কর আদায় করার একটা উৎসব হিসাবে। বর্তমানে জমিদারী প্রথা নাই। দোকানেও তেমন একটা বাকী দেওযার বিষয় নাই। আর যে বাকী দেওযা হয় তা যে নববর্ষেই পরিষ্কার করতে হয়, তাও না। তবে সেই উৎসবটা ধীরে ধীরে বড় হয়েছে। বাঙ্গালী উৎসব-প্রিয় জাতি। আমরা এই আয়কর আদায় করার ঘটনাটাকে জাতীয় পর্যায়ের একটা উৎসবে পরিণত করে ফেলেছি। এইটা আমাদের যোগ্যতা, এইটা আমাদের গুনের কথা।
এই বাংলাদেশ কোন ধর্মের না। এই বাংলাদেশ ষোলকোটি মানুষের। যারযার ধর্ম তার তার। কিন্তু উৎসবগুলো আমাদের সবার। ঈদে, পূজায়, বড়দিনে আমরা সবাই সাবার উৎসবে যাই। আর পহেলা বৈশাখের উৎসবটাতো আরো বেশী করে সবার উৎসব।
মুখের কথা বাড়তেই থাকবে। খারাপ মানুষেরা বহুত কিছুকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করবে। এইটাই স্বাভাবিক। সরকারের কাজ হবে, আইনটা যেন শক্ত থাকে তা নিশ্চিৎ করা। শাস্তির প্রমান থাকলে তখন কারো সাহস হবে না উল্টাপাল্টা কিছু করার, বা বলার।
শেষ করবো একটা ইংরেজী কথা দিয়ে। গডস লাভ ষ্টুপিড পিপল। বিকজ হি মেড সো মেনি অব দেম।
http://ajkerpatrika.com/epaper/
Page: 4

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


