
চা খাইলাম।
বিল দিতে যাওয়ার আগেই তিনি দোকান ছেড়ে কাছে আসলেন। কানে কানে কিছু বলবেন এমন ভঙ্গিতে আমার হাত জড়িয়ে ধরলেন। বল্লেন
- আজকে আমার জীবনের একটা আনন্দের দিন। আজ আমি বির নিবো না!
বননীর সাউথ ইষ্ট ইউনিভার্সিটির সামনে আমরা প্রায়ই চা খাই। ফুটপাথের এই চায়ের ষ্টলের সামনে ছোট্ট করে তার নাম দেওয়া আছে "মাহমুদ ষ্টোর"। মামা'র নাম মাহমুদ।
আমি তার অত্যন্ত আনন্দিত মুখ দেখে বল্লাম
- মামা আজ কি আপনার এনিভার্সারী!
ভদ্রলোক মনে হয় ভালোই শিক্ষিত। কথার ফাঁকে খুব সুন্দর করে ইংরেজী শব্দগুলো ঢুকিয়ে দেন। যেমন একদিন চায়ের সাথে কফি মিশিয়ে আরেকটা কী যেন মিশালেন। হাসতে হাসতে বল্রেন
- নেন মামা, আজকের চা একেবারে পারফেক্ট মেচিং।
আর চা ও বানান বাদশাহী ষ্টইলে। চা কে তিনি বিস্কিটের গুড়া, ডিম ইত্যাদি দিয়ে পায়েশ করে ফেলেননা। চায়ের ফ্লেভার ঠিকই থাকে। আর চা টা হয় অসাধারণ।
যাই হোক, চার জন মানুষের বিল নিতান্তই কম আসে নাই। তাই তার বিল না দেওয়ার রিকোয়েষ্ট রাখা যাবে না। আমি এবং আমার কলিগ ফারমিদি, সোহেল আমরা তিন জনেই ট্রাই করলাম বিল দেওয়ার। মামা তখন মোক্ষম কথাটা বল্লেন
- আজ আপনারা আমার সাথে ছবি তুলছেন, আই ফিল অনার্ড। প্লিজ এই আনন্দটুকু আমাকে ভোগ করতে দেন। আজ যেন বিল দিবেন না প্লিজ।
আনন্দটুকু মামাকে ফিল করতে দিলাম গর্বের সাথে। কিন্তু একটা শর্তে, অন্যদিন আমাদের এমন আনন্দের দিন বেশী বিল দিলে তা যেন তিনি নিতে রাজি হন।
বয়স বাড়ার একটা আনন্দও আছে! বয়স যখন কম ছিলো তখন ভালোবাসা বলতে শুধু একটা জিনিসই বুঝতাম। এখন ভালোবাসা বলতে অনেক কিছু বুঝি। মামাকে জড়িয়ে ধরে বল্লাম
- মামা আমরা উই ফিল অনার্ড।
জড়িয়ে মনে হয় একটু বেশীক্ষণই ধরেছিলাম। কারন ভালোবাসাটা একেবারে হৃদয়ের কেন্দ্রে গিয়ে গেঁথে গেছে।
জীবন এত সুখের ক্যানে!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


