somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবন এত কঠিন ক্যানে!

০১ লা নভেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

টাকা ধার দেওয়াটা আমার জন্য ১০০% বিপদজনক।
১% বিপদ হইলো, টাকা'র সাথে সম্পর্কটাও হারাইতে হয়।
বাকী ৯৯% বিপদ হইলো, বাসায় কঠিন জেরা'র মুখে পড়তে হয়। জেরার নমুনা অনেকটা এই রকম
- সে কি তোমার আত্মীয় হয়?
আমি কাচুমাচু করে বলি
- নাহ, আত্মীয় হইলে কি তুমি চিনতা না?
- তোমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়?
আমি যুক্তি দিয়া বলি
- আরে ঘনিষ্ঠ বন্ধু টন্ধু বলে কথা না। কথা হইলো মানুষটা বিপদে পড়ছে...।
তিনি ভ্রু কুঁচকায়ে, দাঁত কিড়মিড় করে বলেন
- তুমি হামজা? উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা?

আমার হাত খরচের টাকা ছাড়া বাকী টাকাটা তিনিই সামলান। তাই ধারের পরিমান একটু বড় হইলে তা আমার আয়ত্তে থাকে না। আমার তিনি ব্যবসায়ীর মেয়ে। কঠিন যুক্তি ও বুদ্ধি খাটায়ে সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্ত অবশ্যই বাস্তবমূখী। ধার বিষয়ে তিনি আমাকে কঠিন একটা উপদেশ দিয়ে রেখেছেন।
- শোনো, খুব জুনিয়র কেউ টাকা ধার চাইলে, ধার দিবা না। বরং একেবারে কিছু একটা গিফ্ট হিসাবে দিয়া দিবা। বলবা, ফেরত দেওয়ার দরকার নাই। এতে করে তোমারও টাকা চাওয়ার মত বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হবে না।

এক ভদ্রলোক আমাকে কিছু একটা বলবেন, বলবেন করতেছিলেন কয়দিন ধরে। ঐদিন সুযোগ বুঝে বললেন
- স্যার এখনো বেতন হয় নাই ...

উপদেশমত ধার দিলাম না। যা চেয়েছিলো, তাকে দশ দিয়ে ভাগ করে যা দাঁড়ায় তা দিয়া বললাম
- রেখে দেন।

কিন্তু আমি স্কুল শিক্ষকের ছেলে। আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেই। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবমূখী হওয়ার কোনই সম্ভাবনা থাকে না। তবু, ভিতরে কেমন যেন একটা আগুন জ্বলা শুরু হইলো। কেবল মনে হচ্ছে, আহারে ভদ্রলোকের ঐ পরিমান টাকাই যদি দরকার হয়। তাহলে এই ক্ষুদ্র টাকায়তো কিছুই হবে না!

আরেকটা ঝাড়িময় উপদেশ মনে পড়লো
- এতটা ধার, দক্ষিণা দিও না যে কয়দিন পর তোমারই উল্টা ধার, দক্ষিণা করে চলতে হয়।

জীবন এত কঠিন ক্যানে!
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:০৯
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"টোকাই থেকে হিরো"

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৬



টোকাই থেকে হিরো! বাংলা ছবির  অশ্লীল যুগে মুক্তি পাওয়া এক ঢাকাইয়া চলচ্চিত্র। ছবিতে প্রেক্ষাপটে অনেকটা এইরকম - বস্তিতে বেড়ে উঠা; মানুষের লাথি- উষ্টা খেয়ে বড় হওয়া এক টোকাই (ছবির... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখরিত জীবনের চলার পথে, ব্লগের মুখরিত দিন

লিখেছেন মেহবুবা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৪


ব্লগ স্কুল, মজারু
ছোটন চলে স্কুলেতে বই শ্লেট হাতে ,
বদরুল ভাই কাঁদছে ভীষন যাবে সাথে সাথে,
চান্কু হল লক্ষ্মীছাড়া পান্কু হয়ে ঘোরে ,
চিটি যাবে সবার আগে উঠল... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ফোনে কয়টি গান সেভ করা আছে? #:-S

লিখেছেন অপু তানভীর, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



কদিন আগে একটা ফোন নিতে হয়েছে। আগের ফোনটা তিন বছরের মত সার্ভিস দিয়েছে। তবে টাচস্ক্রিনে সমস্যা দেখার কারণে সেটা ঠিক মত ব্যবহার করা যাচ্ছিল না। নতুন ফোন বলে সেটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

Ripe Age দুই প্রান্তের দুই মানুষঃ সামু শব্দের সেতু প্রজন্মের বন্ধন

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৪


একজন দাঁড়িয়ে জীবনের শুরুতে
চোখে তার অগণিত স্বপ্ন
আগামীর পথে কত প্রশ্ন
কত না-জানা, কত বিস্ময়
কত দূরের নীল আকাশ
ডাকে তাকে প্রতিদিন।

অন্যজন বসে জীবনের শেষে নয়
বরং দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা এক প্রান্তে
প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেন টু কক্সবাজার: টিকিট পেলাম না, পেলাম বিকল্প পথের সন্ধান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। তবে এবার লক্ষ্য ছিল একটু আলাদা—বাসে নয়, বিমানে নয়; ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সমুদ্রের শহরের পথে যাত্রা। কিন্তু সেই সহজ পরিকল্পনার প্রথম বাধাই হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×