টাকা ধার দেওয়াটা আমার জন্য ১০০% বিপদজনক।
১% বিপদ হইলো, টাকা'র সাথে সম্পর্কটাও হারাইতে হয়।
বাকী ৯৯% বিপদ হইলো, বাসায় কঠিন জেরা'র মুখে পড়তে হয়। জেরার নমুনা অনেকটা এই রকম
- সে কি তোমার আত্মীয় হয়?
আমি কাচুমাচু করে বলি
- নাহ, আত্মীয় হইলে কি তুমি চিনতা না?
- তোমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়?
আমি যুক্তি দিয়া বলি
- আরে ঘনিষ্ঠ বন্ধু টন্ধু বলে কথা না। কথা হইলো মানুষটা বিপদে পড়ছে...।
তিনি ভ্রু কুঁচকায়ে, দাঁত কিড়মিড় করে বলেন
- তুমি হামজা? উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা?
আমার হাত খরচের টাকা ছাড়া বাকী টাকাটা তিনিই সামলান। তাই ধারের পরিমান একটু বড় হইলে তা আমার আয়ত্তে থাকে না। আমার তিনি ব্যবসায়ীর মেয়ে। কঠিন যুক্তি ও বুদ্ধি খাটায়ে সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্ত অবশ্যই বাস্তবমূখী। ধার বিষয়ে তিনি আমাকে কঠিন একটা উপদেশ দিয়ে রেখেছেন।
- শোনো, খুব জুনিয়র কেউ টাকা ধার চাইলে, ধার দিবা না। বরং একেবারে কিছু একটা গিফ্ট হিসাবে দিয়া দিবা। বলবা, ফেরত দেওয়ার দরকার নাই। এতে করে তোমারও টাকা চাওয়ার মত বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হবে না।
এক ভদ্রলোক আমাকে কিছু একটা বলবেন, বলবেন করতেছিলেন কয়দিন ধরে। ঐদিন সুযোগ বুঝে বললেন
- স্যার এখনো বেতন হয় নাই ...
উপদেশমত ধার দিলাম না। যা চেয়েছিলো, তাকে দশ দিয়ে ভাগ করে যা দাঁড়ায় তা দিয়া বললাম
- রেখে দেন।
কিন্তু আমি স্কুল শিক্ষকের ছেলে। আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেই। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবমূখী হওয়ার কোনই সম্ভাবনা থাকে না। তবু, ভিতরে কেমন যেন একটা আগুন জ্বলা শুরু হইলো। কেবল মনে হচ্ছে, আহারে ভদ্রলোকের ঐ পরিমান টাকাই যদি দরকার হয়। তাহলে এই ক্ষুদ্র টাকায়তো কিছুই হবে না!
আরেকটা ঝাড়িময় উপদেশ মনে পড়লো
- এতটা ধার, দক্ষিণা দিও না যে কয়দিন পর তোমারই উল্টা ধার, দক্ষিণা করে চলতে হয়।
জীবন এত কঠিন ক্যানে!
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



