রিপন পড়ে ক্লাশ সেভেনে। কিন্তু অভিজ্ঞতায় ভরপুর। সে
- চটপটি বানাইতে পারে
- দোকানদারী করতে পারে
- টাকা নকল না আসল বুঝতে পারে ...
সাইকেল চালায়ে মাঝেমাঝে আমি দিয়াবাড়ী যাই। দিয়াবাড়ী বটগাছের আরেকটু সামনে রিপনদের দোকান। ছোট ভাইয়ের নাম শিপন। আর বাবার নাম মোহর আলী। আমার সাথে বেশ খাতির। খাতির হওয়ার আগে "আপনি" করে বলতো। এখন "তুমি" করে বলে। আজকে বলতেছে
- মামা এই খানে আমাগো ১৯ টা দোকান আছে।
আমি অবাক হয়ে বললাম
-কস্ কি মমিন!
রিপন একটু লজ্জা পাইয়া কয়
- মামা, আমার নাম রিপন!
আমি সাথে সাথেই বললাম, ওপস্, কস কি রিপন!
রিপনের মামা, খালা সবারই এই এলাকায় দোকান আছে। সব মিলায়ে দোকান ১৯ টা। টঙ দোকান। চা, বিস্কিটের ছোট ছোট টঙ গুলাতে প্রতিদিন গড়ে বিক্রি হয় পাঁচ হাজার টাকা। লাভ থাকে অন্তত ছয় শো টাকা। উপদেশ দিয়া বললাম
- রিপন রে, পড়াশোনাটা ছাড়িস না বাপ্।
রিপন আমাকে সান্ত্বনা দিয়া কয়
- মামা, পড়াশোনা করি। ফাঁকে যেই কাজই পাই শিখি। কয়দিন মামা মাছও ধরছি।
বাসায় ফিরার পথে রিপনের মাথার চুলে হাত দিয়ে আদর করে আসলাম। ভাবলাম, সাধ্য কার এই ছেলেকে কেউ বেকার রাখে! বিএ, এমএ পাশ করে মানুষজন চাকরী না পেয়ে বলে
- এই দেশে মামা, চাচা না থাকলে কিছু হয় না।
আর ছোট্ট রিপন এখনই পড়াশোনার পাশাপাশি প্রায় বিশ হাজার টাকা কামাই করে। এই রিপনদের মত উদ্যোক্তারাই আমাদের সত্যিকারের বাংলাদেশ হতে যাচ্ছে কিছুদিনের মধ্যেই।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




