somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আব্বাকে নিয়ে ঘুরে এলাম কক্সবাজার...

০৬ ই এপ্রিল, ২০১৬ দুপুর ১:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আব্বাকে নিয়ে কক্সবাজার ঘুরে আসলাম।
PIKU সিনেমাটা দেখছেন? যাদের বাবা, মা বৃদ্ধ তাদের সিনেমাটা দেখা উচিৎ। ঘুরাঘুরির এই কয় দিন নিজে আমি PIKU হয়ে গেছিলাম। উদাহরণ দেই-

বাসা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম। উত্তরাতেই যেহেতু বাসা, রিক্সা দিয়েই এয়ারপোর্টে গেলাম। ডমেষ্টিক টার্মিনাল পর্যন্ত একটু জায়গা হেটে যেতে হয়। রিক্সা থেকে নেমে দশ হাত যেতে না যেতেই হাত চেপে ধরে ষ্ট্রেইট মাটিতে বসে পড়লেন!
- আব্বা কী হইছে!
কিচ্ছু বললেন না, ঈশারা দিয়ে বললেন হাত ব্যথা। আমার অবস্থা শুদ্ধ শব্দের মত, যাকে বলে কিংকর্তব্যবিমূঢ়। ব্যাগে ঔষধ আছে। কিন্তু সঙ্গেতো পানি নাই। পানি কই পাই? আব্বাকে রাস্তায় রাইখাই গেলাম পানির সন্ধানে। বিমানের ক্যান্টিন থেকে পানি আনলাম। ঔষধ খেয়ে ব্যথা একটু কমলো। বাকী কয়েকশো ফিট যেতে আব্বা রাস্তায় আরো দুইবার বসে গেলেন। বললাম
- আব্বা যাইতে পারবেন কক্সবাজার? নাকি বাসায় ফেরত যাবো?
- না গেলে কি বিমানের টাকা ফেরত পাইবা?
আমি হাসি দিয়া বললাম, আপনার শরীরের কন্ডিশন আগে। টাকা পয়সার প্রশ্নতো এইখানে উঠতেছে না। আব্বা বুঝে গেলেন যে টাকা ফেরত পাওয়া যাবে না। শেষমেষ ডরমেটরি পর্যন্ত গেলেন। আমি মনেমনে বললাম, ইয়া মা'বুদ কোন্ পরীক্ষায় আমারে ফালাইলা! কক্সবাজার গিয়া আরো অসুস্থ হয়ে গেলে একা আমি কী করবো?

কক্সবাজার এয়ারপোর্টে নামলাম। নেমেই দেখি মুত্রের গন্ধে চারিদিক মৌমৌ করতেছে। ছোট্ট টারিমনালের বাথরুমের অবস্থা বিশাল খারাপ। ভাসমান মূত্রে ফ্লোর থৈ থৈ করতেছে। আর ঠিক বাথরুমের সামনেই একটা ষ্ট্যান্ডফ্যান রাখা। এই ফ্যানের দায়িত্ব হইলো মুত্রের গন্ধ যেন সমস্ত এয়ারপোর্টে ছড়িয়ে যায়, এই ব্যবস্থা করা। ফ্যান তার দায়িত্ব ঠিক মতই পালন করে যাচ্ছে। আব্বা বাথরুমে যাবেন। কিন্তু তিনি দাঁড়ায়ে প্রশ্রাব করবেন না। বহু কষ্টে তিনি বসে বসেই বাথরুম করলেন, পাঞ্জাবী ফ্লোরের (আপাতত পানিই বলি) পানিতে ভিজে গেলো। উপায় না দেখে আমি তাড়াহুড়া করে পাঞ্জাবী আলগি দিয়ে ধরে পাশে দাঁড়ায়ে রইলাম।

হোটেলে উঠলাম। হোটেলে উঠেই
- এত বড় হোটেলে উঠছো কেন? আমরা কি হোটেলে থাকতে আসছি নাকি সাগর দেখতে আসছি?
সান্ত্বনা দিয়ে বললাম, আব্বা বিশাল ডিসকাউন্ট পাইছি। আর আপনি ভুলে যান টুটাল ট্যুরে টাকা পয়সার কোন ইস্যু আছে। তখনই আপনি খোলা মনে এনজয় করতে পারবেন।

হোটেল থেকে বের হয়ে বিচে যাচ্ছি। রিক্সা নিলাম। শুরু করলো ঘেনঘেন
- এইখান থেকে এইখানে রিক্সা নেওয়ার কী দরকার?
সাগর দেখলাম। ফেরার পথে ভাবলাম, ওকে রিক্সা নিবো না। দশ কদম হেটেই আবার রাস্তায় বসে পড়লেন। হাটলে নাকি হাত ব্যথা করে। নিলাম রিক্সা। আবার শুরু করলেন ঘেনঘেন, এইখান থেকে এইখানে রিক্সা নেওযার কী দরকার?

হোটেলে ফিরেই দেখি মুখ খিচ্চা বইসা আছেন। জিজ্ঞাসা করলাম
- আব্বা কী সমস্যা?
- পেটে ট্রাবল দিচ্ছে।
বললাম বাথরুম হচ্ছেনা, নাকি পাতলা পায়খান, কোনটা? বললেন
- বাথরুম হবে হবে করতেছে কিন্তু হচ্ছেনা।
সমাধান দিলাম, আব্বা কমোডে গিয়ে বসে থাকেন, যখন হবে তখন হয়ে গেলো...।

খাবার দাবারের সময় আরো বড় সমস্যা। যখনই জিজ্ঞাসা করি, আব্বা কী খঅইবেন? তখনই একই উত্তর... পেটে খিদা নাই। প্রিয়'র মা আমারে বারবার করে বলে দিয়েছে
- আব্বার কিন্তু না না করার একটা বিষয় আছে। খাইতে না চাইলেও বুদ্ধি করে রাজি করাইবা।
বুদ্ধি করে কোরাল মাছ খাওয়াইতে রাজি করাইলাম, আব্বার গেলো পেট খারাপ হয়ে। আমি আক্ষরিক অর্থে অথৈ সাগরে পড়লাম।

লবনী বিচ থেকে দূরে দেখাইলাম, আব্বা ঐখানে আরো দুইটা বিচ আছে। একই সাগর, জাষ্ট বিচগুলার নাম আলাদা। আব্বা ঐগুলাও দেখবেন। উপায় না দেখে হাটা শুরু করলাম। একটু পর আবার তার হাত ব্যথা, বুক ব্যথা। রেষ্ট নিলাম। আবার হাটবেন। কিন্তু ফেরত আসবো কিভাবে? শেষ মাথায় গিয়ে বিচ থেকে একটু দূরে দেখি একটা রিক্সা আছে। এই রিক্সা করে হোটেলে ফিরলাম। আব্বার তখন চোখ, মুখ ব্যথায় কালো হয়ে আছে।

সারা জীবন আব্বার সাথে একটা নীরব দূরত্ব ছিলো। কোনদিনই তেমন কথা হতো না। সব কথা ছিলো মা'র সাথে। আব্বাকে জোর করে কিছু বলতেও পারি না। আব্বার শরীরের অবস্থা দেখে বেমালুম চেপে গেলাম হিমছড়ি, ইনানী বিচ এইসবের কথা। আমার তখন একটাই চিন্তা, আব্বাকে নিয়ে ঢাকা ফিরবো কিভাবে।

যাক অবশেষে ঢাকা ফিরলেন। ঘন্টাখানেকের মধ্যেই শুরু করলেন, তিনি বাড়ী যাবেন। বুঝায়ে শোনায়ে রাতটা রাখলাম। আজ সকালে পরে ট্রেনে উঠায়ে দিলাম। মাত্রই ফোন করে জানালেন, বাড়ী গিয়ে পৌঁছেছেন। একটা ট্যুর সফল হইলো। কিন্তু সামনের বার ইন্ডিয়া যাবেন এই কথা জানায়ে বললেন, যাই বাড়ী থেকে পাসপোর্টটা করায়ে আসি।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই এপ্রিল, ২০১৬ দুপুর ১:৫৪
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

খেলা ফাইনাল হয়ে যেতে পারে আগামীকাল ...

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৮


আগামীকাল অপপ্রচারকারীদের খেলা ফাইনাল হয়ে যেতে পারে। গ্যাস আর বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সরকারকে কাবু করার দিন ফুরিয়ে এসেছে। 'কাছিমের মতো গর্ত থেকে বের হয়ে' যারা এতদিন সরকারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন ভোরের গান

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭


নতুন ভোরের গান



কষ্টের দিন পেরিয়ে এবার
আসবে আলোর গান,
নতুন দিনের নতুন সুরে
জাগবে সবুজ প্রাণ।

নষ্ট স্মৃতির আড়ষ্টতা
ঝরিয়ে দেবো অনেক দূরে,
নিজের মনেই ভালোবাসার
নূপুর বাজবে সুরে সুরে।



ভ্রষ্ট পথের আঁধার কেটে
ভোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে চার বছর একদিন হয়ে গেল । কি আশ্চর্য!

লিখেছেন সামরিন হক, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭

অবজ্ঞা

তোমার বিশেষ ঘৃণা দ্বারা আক্রান্ত আমি
চারপাশ ঘিরে ফেলেছে ঘৃণারা আমাকে
আস্তে আস্তে গ্রাস করে নিচ্ছে আমাকে তোমার ঘৃণা
আমার কথা শোন
আমি কখনই মনুষ্যত্বের সীমা পার করিনি
কিন্তু তোমার ঘৃণায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুপ্ত-গায়েব-গুম এবং পিওর ও শিওর লাভ

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:১৬


৭ মাসে বাংলাদেশে ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ !!!
এমন রোমহর্ষক, চমকে যাওয়া এবং অন্তরে কাপুনি ধরানোর মতো তথ্য বা কথা বার্তার কোনও মানে হয় ??!!
গরীব পরিবারের শিশুদের কথা বাদ দেই-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারী অফিসারদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:০০

দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সরকারী অফিসারদের হাত ধরেই হয়। সেজন্যে, এই পদগুলো যোগ্য মানুষদের হাতে যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে, গত কয়েক দশকে দেশের টপ ট্যালেন্টদের বেশির ভাগই কোনক্রমেই সরেকারী অফিসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×