somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অভিজ্ঞতা

২৯ শে এপ্রিল, ২০১৬ দুপুর ১:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সফল একজন দাদা। প্রচন্ড গরিব ছিলেন। ছেলে মেয়েদের মানুষ করলেন। তারা গরিবী দূর করলেন। পরে নাতি নাতনীদের কল্যানে বড়লোকও হলেন। একদিন নাতিরে ডাক দিয়া জিজ্ঞাসা করলেন
- নাতি তোর চিন্তায় বেহেস্ত কী জিনিস বল্ তো
নাতি প্রচন্ড ব্যস্ত মানুষ। বাস্তবতার চাপে তার বেহেস্ত নিয়া ভাবার সময় নাই্ মুচকি হাসি দিয়া বললো
- দাদা ঐভাবে তো চিন্তা করে দেখি নাই।
দাদা বললেন
- অথচ আমাদের দিনের বেশীর ভাগটাই যাইতে এই বেহেস্ত নিয়া চিন্তা কইরা।

পুরানো স্মৃতি ঘাটতে গিয়া বুড়া আবেগী হইয়া গেলেন। নাতিরা দাদারে খুব পছন্দ করে। বুড়া বলে অবহেলা করে না। দাদা যাই বলে মনযোগ দিয়ে শুনে। বুড়া গল্প করেও মজা পায়। বললো
- আগে হাল চাষ কইরা যখন দুপুর বেলা বাড়ী ফিরতাম, তখন কেবল ভাবতাম আহারে বেহেস্তে না জানি কত সুখের ঠান্ডা। পেট ভইরা যখন ভাত খাইতে পাইতাম না, তখন ভাবতাম বেহেস্তে না জানি কত খাওয়া দাওয়া। লুঙ্গি ছিড়া যখন টুটা টুটা হইয়া যাইতো, তখন ভাবতাম বেহেস্তে না জানি কত সুন্দর সুন্দর কাপড়চোপড়।

নাতি মিনমিন করে হাসে। দাদার গল্প শুনে আর আস্তে আস্তে দাদা'র পা টিপে দিচ্ছে। নাতির মাথার চুলে বিলি কাটতে কাটতে দাদা বললো
- অথচ এখন দেখ, গরম লাগলে এসি ছাইড়া দেই, আহা কী শান্তি। খাওয়া দাওয়া, কাপড় চোড়র নিয়া কোন চিন্তাই নাই।
কী কথা মনে করে যেন বুড়া খিল খিল করে হাসতে শুরু করলো। অনেক্ষন হাসার পর বললেন, একটু পায়েশ কাইতে মন চাইলেও এক বছর আগে থেকে আগে গাভী পালা শুরু করা লাগতো। এখন মন চাইলে দোকানে গিয়া টাকা দিলেই পায়েশ পাওয়া যায়!

গল্প পায়েশ থেকে পায়ে হাটায় চলে আসলো। বললো
- আগে কয়েক মাইল দূরে যাইতেও কত কষ্ট! কত খাল বিল যে লুঙ্গি খুইলা পার হইছি নাতি! আর এখন ড্রাইভাররে বললেই শা শা কইরা নিয়া যায়!

একটা দীর্ঘ শ্বাস ফালায়ে বললেন
- দেখবি টাকা পয়সাওয়ালা মানুষেরা একটু কম ধর্মকর্ম করে। কারন তারা টাকা দিয়া সুখে ব্যবস্থা করে ফেলে। আর গরীব মানুষ সান্ত্বনা হিসাবে মনে করে মরার পর এই সুখগুলা বেহেস্তে গিয়া করবো।

দন্তহীন মুখে আবার খিলখিল করে হাসতে হাসতে বললেন
- এরপরেও যদি টাকাওয়ালা কাউরে ধর্মকর্ম করতে দেখোস, মনে করবি হয় সে বিড়াট বুদ্ধিমান, দিব্যচোখে পরকাল দেখতে পাইছে। অথবা সে মস্ত বেকুব, টাকা থাকা সত্বেও সে সুখ ভোগ করতে জানে না।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে এপ্রিল, ২০১৬ দুপুর ১:৪৭
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জঙ্গল পরিষ্কার করে সাপ তাড়ানাে...

লিখেছেন অপলক , ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪১

নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে: পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে বসবাসকারী স্থায়ী হিন্দু অধিবাসীরা চাইলে খুব সহজে তাদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত। যদি এই খবরটা সত্য হয়, তবে বাংলাদেশের জন্য সেটা মারাত্মক ভয়ঙ্কর ঘটনা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি’কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল বলার কোনো কারণ নাই!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৩



জাতীয় সন্মাননা কি কোনো গোপন বিষয় । একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা’কে গার্ড অফ অনার দিতে এত অনীহা কেনো বর্তমান সরকারের ‼️

আজ বারবার আমার গোআ’র কুপুত্রের একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাড়ে হাজার বিজ্ঞানী এবং একটি স্ক্যামের গল্প

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২৮


জুলাইয়ের কোটা আন্দোলনের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। সেই সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের অংশ হিসেবে পাকিস্তান বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘নলেজ করিডোর’-এর আওতায় আল্লামা ইকবাল বৃত্তি চালু করে। ২০২৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮


হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

জাপানের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের একটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি চলছে। আমার মনে হয়, হাসির আড়ালে আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটা কী
প্রধানমন্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:২৯


এখন পর্যন্ত প্রকাশিত এক্সিট পোল অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ৬১টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট, প্রায় ৫১–৫২ আসন।
গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: প্রায় ৪৯–৫১ আসন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×