somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার জন্মদিনের বিভ্রান্তি...

১৫ ই জুলাই, ২০১৬ বিকাল ৫:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কবিগুরু'র জন্মদিন নিয়া কিন্তু একটা ভেজাল আছে। ইংরেজীতে বলা হয় ৭ মে ১৮৬১। কিন্তু বাংলায় বলা হয় ২৫ বৈশাখ, ১২৬৮। অথচ ২৫শে বৈশাখ ১২৬৮ ছিলো মে এর ৯ তারিখ, ৭ তারিখ না।

আমার জন্মদিন নিয়াও এমন একটা ভেজাল আছে। জন্মদিনের প্রথম অফিসিয়াল প্রয়োজন পড়লো যখন ক্লাশ ফাইভ থেকে সিক্সে ভর্তি হই। মৌলভি স্যার আন্দাজ করে লিখে দিলেন ৩১ ডিসেম্বর ১৯৮১। মেট্রিক পরীক্ষার কয়দিন আগে মনে হইলো আমার জন্মদিন পারন করবো। কিন্তু অরিজিনাল ডেটতো জানি না! মা'র সাথে কথা বললাম। মা বললেন
- তুই শনিবারে সকাল বেলা অইছিলি। শাওন মাস আছিলো।
মা এর বেশী কিছু বলতে পারে না। আব্বা যে ডায়রীতে আমাদের জন্ম তারিখ লেখে রাখছিলেন, এই ডায়রী খুব অযত্নের সাথে গায়েব। এরপর বড় ফুপুর সাথে কথা বললাম, ফুপা বললেন
- প্রীতি, প্রকৃতি'র ভাই অরুণ যেইদিন বিয়া করছে হেই দিন তুই হইছিলি। তাই ঐ নামে তোর নাম রাখছিলাম। হিন্দুবাড়ীর মানুষের সাথে কথা বলতে গেলাম, দেখি তারা সব ইন্ডিয়া চলে গেছে। একজন বললো, অরুণ বিয়া করছিলো শাওন মাসের মাঝামাঝি। দিন কতক আগে অইবো, পরে না।

মা একদিন অনেকটা কনফিডেন্স নিয়াই বললেন, তুই হইছিলি শাওন মাসের ৮ তারিখ কি ৯ তারিখ। এই হিসাবটা অনেকটা ধর্তব্য মনে হইলো। কারন আমার চাচাতো বোনের জন্ম তারিখ লেখা আছে সেপ্টেম্বরের ৭ তারিখ। আর ও আমার চাইতে দেড় মাসের ছোট, এই কথা ছোটবেলা থেকেই জানি। তবে দেড় মাস আসলে কতদিন তা জানতাম না।

জন্মদিন ঠিক করে নিলাম ২৩সে জুলাই ১৯৮১। কিন্তু কোন অনুষ্ঠাণ ফনুষ্ঠান কিচ্ছু করা হয় না। কলেজে যখন পড়ি, আমার দুইটাই বন্ধু শাহীন আর মুন। জন্মদিনে উইশ বলতে শুধু মুনই করে।

ভার্সিটিতে উঠলাম। একদিন কম্পিউটারের ক্যালেন্ডার পিছনে নিয়া দেখি, বিপদ! ২৩ তারিখতো বৃহস্পতিবার! মা'রে ফোন দিলাম। মা বলতেছে, বাবু আমি শিউর ঐদিন শনিবার ছিলো। কিন্তু শ্রবান মাসের ৮ তারিখ কী বার ছিলো তা মিলায়ে দেখার বাংলা ক্যালেন্ডার খোঁজে পাওয়া গেলো না। তাই বাধ্য হয়ে দুই দিন সামনে নিয়ে গেলাম। দেখি ২৫ তারিখ শনিবার ছিলো ১৯৮১ সালের। এতে দাঁড়ায় আমার চাচাতো বোনের চেয়ে আমি ৪৬ দিনের বড়, যা অনেকটা দেড় মাস সূত্রের সাথে মিলে যায়। ফাইনাল করে ফেললাম, আমার জন্মদিন ২৫সে জুলাই ১৯৮১।

সমস্যা হইলো, ভার্সিটি'র কয়েক বছর মুন সুদূর চিটাগাং থেকে ২৩ তারিখ অনুযায়ী জন্মদিনের কার্ড পাঠাতো চিঠি দিয়ে। আর ২৫ তারিখ যা ফাইনাল করলাম, তা উইশ করার কেউ নাই।

কয়েক বছর পরেই মুন ইউশ করা ছেড়ে দিলো। আমার জন্মদিনে উইশ করার আর কেউ রইলো না। ফেসবুকের কল্যাণে কতগুলা ওয়াল পোষ্ট পাইতাম। গত বছর জন্মদিন হাইড করে রাখলাম। দেখা গেলো আমার জন্মদিনে উইশ করার কেউ নাই, একমাত্র প্রিয়'র মা ছাড়া।

এতে কী প্রমান হইলো? পুরুষ মানুষের জীবনে বৌ হইলো সেই মানুষ, যে কোন কিছু ভুলে না। এমনকি ঝগড়ার টপিকগুলাও না।
এতে আরেকটা জিনিস প্রমান হইলো। একটু লজ্জা লাগতেছে বলতে। তাও বলি, রবীন্দ্রনাথের রবি মানে সূর্য। আমার নাম অরুণ মানেও সূর্য। দুইজনের নামের একই অর্থ। দুইজনের জন্মদিনেও ভেজাল। শুধু উনারে সমস্ত পৃথিবী চিনে। আর আমার ঘরের মানুষটা পর্যন্ত আমারে চিনে না। প্রায়ই আমারে খোটা দিয়া বলে, তোমারে আজ পর্যন্ত চিনলামই না!
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুলাই, ২০১৬ বিকাল ৫:০৬
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্ব নিয়ন্ত্রণের এই সুযোগ কি আরেকবার আসবে? বা তারাই-কি এটা হাত ছাড়া করবে???

লিখেছেন লিংকন বাবু০০৭, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০

ইরানী নেতা খামেনি শহীদ হওয়ার পরে ইরান কি বলেছিল মনে আছে???

ইরান কইছিলো, ইরানের এই অবস্থার জন্য যারা দায়ী সেই বেবাক দেশকে রাস্তায় এনে দাঁড় করানো হবে।
প্যান্ট খুলে ছেড়ে দিবে-(এটা আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া কি ছিল?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৭



কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া হলো উদ্ভব। কারণ সৃষ্টি বা তৈরী কারক না থাকা। তাতে কী উদ্ভব হবে এটা অনিদৃষ্ট। কারণ এটা নিদৃষ্ট করার কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খাবেন সবাই সমকামী হয়ে যাবেন

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×