অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসলো, কড়া কণ্ঠ
- হ্যালো, আপনি জাহাঙ্গীর অরুণ?
চট্ করে অনেকগুলা জিনিস ভাবলাম।
১) যেহেতু জাহাঙ্গীর অরুণ বলছে, তারমানে ফেসবুক রিলেটেড কেউ। কারন আমার সার্টিফিকেটের নাম মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, আর ডাক নাম অরুণ। ফেসবুকে আমার দুই নামের জোড়া দেওয়া।
- ভাবলাম, ফেসবুকে কি কাউরে উত্যাক্ত করছি? নাহ তো!
- ফেসবুকে কারো বউয়ের সাথে ইনবক্সে কোন লটরপটর টাইপ কথা বলছি? নাহ তো!
তাইলে ফেসবুকের কেউ কেন আমারে কড়া কণ্ঠে কথা বলবে?
- ভাবলাম, রাষ্ট্র নিয়া কিছু বলছি? নাহ তো, যে মাটিতে শোয়ে আছে আমার মা, জননী জন্মভূমি, এই মাতৃভূমি নিয়া নেগেটিভ কিছু কেন লেখবো!
তারপর ওপাশ থেকে আবার প্রশ্ন আসলো
- আচ্ছা আপনি কি বৈশাখী টিভি'র আইটি হেড?
- জ্বী
এখনো বুঝতেছি না, মোটিভটা কী লোকটার! হোমড়াচোমড়া কেউ না তো? রাষ্ট্রীয় বড় কোন কর্মকর্তি না তো! এত কড়া কণ্ঠে কেন কথা বলতেছে!
- আচ্ছা আপনাদের এইখানে লোক নিওগের সিস্টেমটা কী?
হাফ ছেড়ে বাঁচলাম, বড় কোন কেস না। এবার ভাবা শুরু করলাম
- কোন সাংবাদিক নাহ তো? নিয়োগ নিয়া কোন ঝামেলা হইছে? নাহ তো, বছর তিনেক ধরেতো নতুন কেউ আইটিতে ঢুকে নাই! আর সাংবাদিক হইলে আমার সাথে কড়া গলায়তো কথা বলার কারনই নাই!
এমন করে আরো আট দশটা প্রশ্ন করলো। আমি হুম, হা দিয়া উত্তর দিলাম। আমারে কথা বলার কোন সুযোগই দিচ্ছে না! সামান্য সুযোগ পাইয়াই জিজ্ঞাসা করলাম
- ভাই আপনি নিজে কে!
- আমি ওমুকের রেফারেন্সে আপনারে ফোন দিছি। ওমুকতো আপনার বন্ধু, নাকি?
এই প্রশ্নও কড়া কড়া। ভাবটা এমন যে ওমুক যে আমার বন্ধু, এইটা আমার সাপ পুরুষের সবার ভাগ্য একত্র করে আমি পাইছি, তাই। আসল কথা হইলো, ওমুক আমার পরিচিত, বন্ধু না। কিন্তু এইসব কথা ওপেনলি বলা যায় না। বললাম
- আপনি বলেন
...
বহু কাহিনীর পর আমারে স্মার্টলি বললো
- ওমুক পোষ্টে আমি জয়েন করতে আগ্রহী। আপনারে একটা সিভি পাঠালে কিছু হবে?
টাআআ..ন দিয়া শ্বাস নিলাম বুক ভরে। সমস্ত শ্বাসটাকে নিঃশ্বাসে রুপান্তর করে ফোনের মাইক্রোফোনে ছেড়ে বললাম
- নাহ আমারে সিভি দিয়ে কিছু হবে না। চাকরী দেওয়ার মত আমি বড় কেউ না।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ১০:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




