মা তখন অসুস্থ, কিন্তু আমাদেরকে বুঝতে দিতেন না। ঢাকা আসতেন সকাল বেলা, রান্নাবান্না করে খাওয়ায়ে, মেস টাইপ সংসারটা গুছায়ে আবার সন্ধায় ফিরে যেতেন বাড়ী। শরীরটা একটু খারাপ দেখে ভাইছা মাকে বললেন
- মা তোমারে কুমিল্লার গাড়ীতে উঠায়ে দিবো?
মা হাসি দিয়া বললেন
- আরে নাহ্ , মা যাইতে পারবো।
কারন মা জানতেন, ছেলে টিউশানি পড়াতে যাবে। তখন মোবাইল ফোনের সময় ছিলো না। সন্ধারাতে বাসার টিএন্ডটিতে ফোন আসলো। এক ভদ্রলোক ফোন দিয়ে জানালেন মা অসুস্থ্য, মগবাজারে আছেন। আমি নতুন নতুন ঢাকা আসছি, কিছু চিনি না। কাঁনতেছি আর অপেক্ষা করতেছি ভাই কখন আসবে। ভাই আসলেন, খবর শোনেই দৌড় দিলেন। এত পুরানো ঘটনা, ডিটেইল মনে নাই। কিভাবে কিভাবে যেন মা'কে খোঁজে পেলেন। মা বমি করে, বাথরুম করে একাকার। পরম মমতায় এক ভদ্রলোক মা'কে সেবা করে আগলে রেখেছেন। গরীব মানুষ, হাসপাতালে নেওয়ার কথা চিন্তাও করেন নাই। ভাই গিয়ে মাকে হাসপাতালে ভর্তী করালেন। বাসায় এসে কাঁদতে কাঁদতে বললেন
- এখনো দুনিয়ায় মানুষ আছেরে, মানুষ আছে...।
মাস খানেক আগে আব্বা ঢাকা আসলেন। সবকিছু ঠিকঠাকই ছিলো। উত্তরা এসে তিনি ঠিকানা ভুলে গেলেন। ফোন ফেলে এসেছেন ভুলে। সঞ্জয় নামের একটা ছেলে আব্বাকে সাহায্য করতে আসলেন। আব্বা শুধু এতটুকু বলতে পারলেন, আমার ছেলে বৈশাখী টিভিতে চাকরী করে। আধুনিক ছেলে, ইন্টারটেন ঘেটে বৈশাখী টিভি'র নম্বর নিলেন। ফোন করে জানালেন। জ্যামজট ঠেলে আমার যেতে যেতে ঘন্টাখানেক লাগলো। ভদ্রলোককে বললাম, ভাই কোন একটা দোকানে আব্বাকে বসিয়ে রেখে যান। কিন্তু তিনি নারাজ, বললেন, আমার বাবা হলে কি আমি রাস্তায় ফেলে যেতাম! ভদ্রলোকের কাছ থেকে যখন আব্বাকে নিয়ে গেলাম, কষে একটা বার বুকে লাগানো ছাড়া আর কিছুই করতে পারলাম না, কীইবা করবো!
আবারো মনে হইলো, - এখনো দুনিয়ায় মানুষ আছেরে, মানুষ আছে...।
এই নিউজটা পড়ে মনে হইলো, দুনিয়ায় মানুষ না, কিছু মহামানুষও আছে। ভিতরটা হুহু করে উঠে এমন মহামানুষ হওয়ার জন্য, পারি না, সবাই মহামানুষ হয় না, কেউ কেউ হয়...
http://www.prothom-alo.com/we-are/article/977584/ঠনà§à¦¯-রà¦à¦®-à¦à¦à¦à¦¨
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




