ছেলের আগুনে বাবা'র মৃত্যু নিয়া দুইটা কথা বলবো বলবো ভাবতেছিলাম, বলি নাই। কারন প্রিয় এখনো ছোট। সন্তান বড় হয়ে কী করবে তাতো আর বলতে পারিনা। দেখা গেলো বড় হয়ে প্রিয় ভালো কিছুই করলো, কিন্তু তার একটা নেগেটিভ মিনিং বের করে মানুষজন খোটা দিয়া বলবো, ওর বাপেত বহুত ফটরফটর করছিলো...।
আমার ঘনিষ্ট কিছু কলিগ, ছোটভাই বিয়ের আগে আমার কাছে বুদ্ধি নিতে আসে। সবাইরে আমি একটা কথাই বলছি-
বউ হইলো কাঁদামাটি'র মত, তারে যেমন করে গড়ে তোলা হবে সে এমন বৌ হবে। এখন কথা হইলো বউরে ভালোবাসা, সম্মান দিয়া রাণী বানাইবেন নাকি অবহেলা, অত্যাচার দিয়া দস্যুরাণী বানাইবেন তা একান্তই আপনার বিষয়।
সন্তানের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য বলে আমার মনে হয়। সন্তানকে সময় দিয়ে, ভালোবেসে, ভালোবাসা শিখিয়ে যদি মনুষ করি। এই সন্তান কেন খারাপ হবে? শিব খেরা তার লেকচারে একটা উদাহরণ প্রায়ই দেন। হাতি দেখবেন তার বাচ্চা কাদায় পড়ে গেলে, বাচ্চাটার পিছনে হালকা লাত্থি দিয়ে দিয়ে তারে উপরে তোলে। সন্তানও যখন কোন ভুলে পা দিবে, তখন কিছুটা শাষন করেই তারে উপরে তুলতে হবে।
জ্ঞানের কথা কারো ভালো লাগার কথা না। তাই শেষ করি একটা কথা বলে, যুবক রবীন্দ্রনাথ লন্ডন গেলেন। গিয়ে তাদের এত উন্নত সমাজ ব্যবস্থা, সফল মানুষজন দেখে লেখলেন "বঙ্গমাতা" কবিতাটি -
-
পূণ্যে পাপে দুঃখে সুখে পতনে উত্থানে
মানুষ হইতে দাও তোমার সন্তানে
হে স্নেহার্ত বঙ্গভূমি, তব গৃহক্রোড়ে
চিরশিশু করে আর রাখিয়ো না ধরে।
দেশদেশান্তর-মাঝে যার যেথা স্থান
খুঁজিয়া লইতে দাও করিয়া সন্ধান।
পদে পদে ছোটো ছোটো নিষেধের ডোরে
বেঁধে বেঁধে রাখিয়ো না ভালোছেলে করে।
প্রাণ দিয়ে, দুঃখ স’য়ে, আপনার হাতে
সংগ্রাম করিতে দাও ভালোমন্দ-সাথে।
শীর্ণ শান্ত সাধু তব পুত্রদের ধরে
দাও সবে গৃহছাড়া লক্ষ্মীছাড়া ক’রে।
,সাত কোটি সন্তানেরে, হে মুগ্ধ জননী,
রেখেছ বাঙালী করে, মানুষ কর নি।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৫:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



